প-য়ে পুজো

[spp title=”প-য়ে পুজো – ২ “]

–       “তোমাকে আগে কখনও মণ্ডপে দেখিনি। এই প্রথম দেখলাম।”

–       “বাহ! প্রথমবার দেখেও বেশ চিনেছো তো দেখি ভিড়ের মধ্যে।”

–       “অসুবিধে হবেই বা কেন – ফেসবুকে কি কম ছবি দিয়েছো? তবে তোমাকে পাড়াতেও আগে কখনও দেখিনি।”

–       “আর তুমি বুঝি পাড়ায় খুব থাকো? বাইরে থাকলে কি টের পাবে কত ফ্ল্যাট গজিয়েছে?  কত নতুন লোক এসে গেছে?” পূর্বা মিষ্টি করে হাসল।

–       “সত্যিই তাই। কালকে দুপুরে ভোগ খেতে এসে দেখছিলাম। আমি এই মফঃস্বলেরই ছেলে। এই পুজো দেখে বড় হয়েছি। অথচ দেখে মনে হচ্ছিল কত লোক, কাউকেই চিনতে পারছিলাম না। তোমরা কোন কমপ্লেক্সে?”

পূর্বা হাত দিয়ে পিছনের দিকে একটা নতুন তৈরি হওয়া ফ্ল্যাটবাড়ি দেখাল। তারপর বলল, “আচ্ছা, আগে না হয় অঞ্জলিটা দিয়ে আসি, তারপর কথা হবে, কেমন?”

মৈনাক নার্ভাস হয়ে হাসল। মাইকে বাজছে, “এবার সবাই আপনারা হাতজোড় করে প্রণাম করুন। কেউ পুষ্পাঞ্জলি বা প্রণামী ছুঁড়বেন না। আপনাদের কাছে ঝুড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।” তবু সবাই ছুঁড়ে দিচ্ছে ফুল, বেলপাতা – যেন তাতে পুণ্য বেশি হবে। পূর্বাকে পিছন থেকে দেখা যাচ্ছে – অঞ্জলি দিতে রত কয়েকটি চোখ খেলা করছে তার দিকে। চোখকে শাসন করা মুশকিল। মৈনাকও তাকিয়ে রইল সেই দিকে – মা দুর্গার ত্রিশূলের ফলার মত ধারাল পিঠ। মনটা হু হু করছে। পূর্বা ঘুরে তাকাতে চোখাচোখি হয়ে গেল। ধরা পড়ে বেকুব বনেও তাকিয়ে রইল মৈনাক আর হেসে জিজ্ঞেস করল, “তোমরা কবে এসেছো এই পাড়ায়?”

-“এই তো কয়েক মাস হল। আর তোমরা?”

-“ওহ বলছিলাম না – আমরা তো এখানকারই। আমার দাদু এখানকার পৈত্রিক বাড়িটা তৈরি করেন। কত বছর আগে তা ঠিক জানা নেই। এই পাড়ার পুজোও আমার দাদুই শুরু করেন এখানকার কয়েকজনকে নিয়ে।”

-“বাপ রে, তাহলে তো বলতে তোমরা অনেকদিনের পুরনো লোক।”

-“সত্যিই তাই। তাই পাড়ার নতুন লোকজনের সাথে আলাপ একেবারেই নেই।”

-“তাই কি?” পূর্বা হেসে ফেলল। “আমিও তো এপাড়ায় নতুন। কই তাই বলে আলাপ করতে তো অসুবিধে হয় নি?”

মাথা চুলকে মৈনাক কিছু একটা অজুহাত দিতে গিয়েও থেমে গেল। চোখ তুলে মিটমিট করে তাকাল। যেন অপরাধ করে ধরা পড়ে গেছে। কিন্তু এ অপরাধ তো ধরা পড়ার জন্যই।

“আচ্ছা, আমি তাহলে আসি? আমাদের আজকে সকালে একটু প্ল্যান আছে।”

মৈনাক মাথা নাড়ল, “আমি সন্ধ্যেতেও এখানেই থাকব। তোমার জন্য অপেক্ষা করব।”

পূর্বা মুখ টিপে হেসে বলল, “জানি।”

আস্তে আস্তে করে দুই বন্ধুর সাথে মিলিয়ে যাচ্ছিল পূর্বা। মৈনাকের খিদে, তেষ্টা একটু একটু করে মরে আসছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *