ছেলেবেলার গল্প

জ্বলন্ত হ্যারিকেনের চারপাশে তারা তিনজন বসে খাচ্ছিল। অভয়া পরিবেশন করছেন। সামান্যই আয়োজন। মোটাসেদ্ধ চালের ভাত,আলুসেদ্ধ,সর্ষেশাক,ডাল,আর আদা জিরে বাটা দিয়ে ছোট ছোটট্যাংরা মাছের ঝাল। শীতের শুরুতে মাছের গায়েচর্বি জমে ভারি সুস্বাদহয়েছে। উঠোনে ফটফটে চাঁদের আলো পড়েছে এসে। সেই আলোয় তাদের বাড়ির চারপাশেরবড়ো বড়ো গাছপালাগুলো মাথা দোলাচ্ছিলো। নারকেল গাছের পাতায় চিকমিক করে পিছলেযাচ্ছিলো চাঁদের আলো।
নিচু গলায় গল্প করতে করতে খাওয়া চলছিলো। সেইকবে কোন কোজাগরি পূর্ণিমার রাত্রে এমনই জ্যোৎস্নায় মা,বাবা,মামারা সবাই দলবেঁধে গান গাইতে গাইতে হেঁটেছিলেন সারারাত,তার গল্প শোনাচ্ছিলেন মামা। তখননাকি দেউল গ্রাম আরো নির্জন ,আরো জঙ্গলে ভরা ছিলো।

শ্যাম মোরে ঘর আয়ে সজনী-
কায়দাটা খেয়াল কর– খেলাবি খেলাবি– একটাট্রিক হল, একেকবার লাইনটার এক একটা শব্দেসময়টাকে ছড়িয়ে দে, পরেরটা গুটিয়েটাইম রাখবি যাতে মোট কাউন্ট ঠিক থাকে- বুঝলি?
নে ধর- আবার–
শনিবারের সকালবেলা ছেলের গান শেখবার আসরে এসে বসেছি। সপ্তাহের সেরা দুটি ঘন্টা।
কিশোরীটি অতএব ফের তার চিনির মত মিষ্টি আর দানাদার গলায় তার কাছে এখনওঅজানা প্রেমের ভুবনেরভাবসম্মিলনের মধুর সুরটি তুলে নেয়। ক্রমে যান্ত্রিকতবলার লয় বাড়িয়ে চলেছেন শিক্ষিকা। কিশোরীর চোখদুটি এখন তন্ময়।জৌনপুরীরখ্যালের সুরমালিকার সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে চেতনাটি তার। এক একবারে একএকটিবিন্দুতে অপ্রত্যাশিত সব মোচড়গুলিফুল ফুটিয়ে চলেছে শনিবারের এইরৌদ্রোজ্জ্বল সকালে।সপ্তবর্ণ শব্দফুল।আমার চোখের সামনে জন্ম নিচ্ছে আরো এক জাদুকরী।

One Reply to “ছেলেবেলার গল্প”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *