D ফর দাদা

দাদার জন্মদিনে ‘ও কলকাতা’র শ্রদ্ধার্ঘ – কলকাতার বর্ণমালা সিরিজে আগের পর্বটি পড়ুন এখানে


                                                                         map-india

–        আশা করি সমস্ত ইনফর্মেশন রেডি রেখেছেন?

–        লেহালুয়া। নয়তো এখানে এলাম কেন!

–        বেশ। তবে এবার রিভিউ শুরু করা যাক।

–        এই তাড়াতাড়ি করবেন প্লীজ। বুঝতেই পারছেন স্যার, অফিস টাইমে ফিরতে হলে অনেক হ্যাপা। জলদি কাটব ভাবছি।

–        একটু নরম করে কথা বলুন ভাই। এ রিভিউতে আপনি আপনার শহরকে রিপ্রেজেন্ট করছেন, আপনার রাজ্যের প্রতিনিধি আপনি।

–        ঘুঘু দেখাচ্ছেন স্যার? আমিও ফাঁদ দেখাতে পারি।

–        ফাঁদ?

–        ওই। হরতাল। চাক্কাবন্ধ ।বাসে আগুন।

–        যাকগে। সোজা রিভিউ শুরু করা যাক।

–        হ্যাঁ সেই ভালো। এমনিতেই আপনার মত এমন ভারী অথচ ন্যাকা গলা শুনলে আমার জ্বলে যায়।

–        জ্বলে যায়?

–        জ্বলে যায়।

–        যাকগে। তাভাই, প্রথমে আমায় বলুন ইন্ডাস্ট্রির কী খবর?

–        ইন্ডাস্ট্রি? অফ করে দিয়েছি।

–        অফ করে দিয়েছেন।

–        সিপিয়েমের কেচ্ছা আর তৃণমূলের তেলেভাজায় ল্যাটর প্যাটর করছে। মা ভবানী ইনসাইড ভাঁড় স্যার। গরিবের ছেলে, মিথ্যে বলব কেন বলুন।

–        ওহ। বেশ। তা কালচারের দিকে কেমন চলছে?

–        ওই। অফ করে রাখা আছে।

–        কালচার অফ?

–        মোড়ে মোড়ে ঠাকুর ঠাকুর করে আর কতদিন স্যার? পারলে মানুষ বিভূতিভূষণকে লুঙ্গী পরিয়ে নাচিয়ে ছাড়বে। বাঁশ দেওয়া এখন কন্সটিটিউশনালি অ্যাপ্রুভ্ড। “মেঘেদের লাশ পড়ে আছে, আমি উড়িয়ে দিচ্ছি থার্মোকল” গোছের কবিতা আউড়ে দাড়ি চুলকানো, এই কালচার?

–        হুম। অফ। ওকে। সাহিত্য? সেটাকেও কী অফ করে রেখেছেন?

–        অগস্টে পুজোসংখ্যা নামছে স্যার। মার্কেট যখন মেঘের দিকে তাকিয়ে, তখনই আকাশ থেকে বেগুনি বৃষ্টি; দ্যাট ইজ কনজিউমার ডিলাইট। পাঠক বলে আর কেউ আজকাল স্যার। সবাই কনজিউমার। ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই।

–        হুম। মুস্কিল তাহলে। নোলা? আপনার খাদ্যরসিক জাতিতো?

–        হে! অনাদির কোয়ালিটি ধসে যাচ্ছে, ভিড় বাড়ছে পিৎ্জাহাটে ভাঙা হাঁড়িতে। অফ স্যার। অফ।

–        সে কী ভাইটি। কলকাতায় কি সব কিছুই অফ রেখেছেন?

–        কলকাতা বলছেন কেন স্যার। অফসাইড বলুন। সব গেলেও আমাদের ঈশ্বর বহাল তবিয়তে আছেন। তার অমরাবতীর ট্র্যাফিক জ্যামে নিরোর বেহালার সুর। কেমন বুঝছেন?

–        বুঝলাম। যাক। কথা বাড়িয়ে কাজ নেই। আপনি এবার আসুন তাহলে, অফিস টাইমের ফাঁপরে না হয় নাই পড়লেন।

One Reply to “D ফর দাদা”

  1. ওই আশা করি বানান টা ভুল। এ বাদে সবই ঠিক বলেছেন মশাই। বড়ই করুণ অবস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *