ছিন্নবীণা ৪


আগের পর্ব


বাজনাদার-পয়সাওলা-ব্যাচেলর আর সরস্বতী-লক্ষ্মী-কাত্তিক কথা

এক কালে বীণা বাজাতেন।

এখন iphone অ্যাপ download করেন।

এক কালে শ্বেত-বরণ বলেই লোকে চিনতো।

এখন তাকে Fair and Lovely-র দেবী বলেই হয়তো চিনছি।

এক কালে হাতেখড়ি, আর বইপত্র রেখে এবারের পরীক্ষাটা পাশ করা নিয়ে ভাবতাম, এখন পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া হলুদ শাড়ি পরা মেয়েটা সেই পাশ ফেলটা তুচ্ছ করে দিয়েছে।

 

Technically and technologically একটা চূড়ান্ত advanced জগতে পৌঁছে গেছি। গ্রামাফোন রেকর্ড ছেড়ে পাড়ায় পাড়ায় শখের রেকর্ডিং কোম্পানি; ইBook, ইMail, ই কা হ্যাঁই আর ই কা নাহি হ্যাঁই, ই কা কর সাকতা হ্যাঁই and ই কা নাহি কর সাকতা হ্যাঁই, এই ভেবে যখন কূল পাইনা, তখন অফিস কলিগ-টা বলে বসে, “কিরে কাত্তিক! বিয়েটা কবে?”

chhinnobeena-41-e1444649281575-1024x652

মন বলে “হুত্তেরি! লক্ষ্মী ঝলঝল করছে পকেটে, এর ওপর নাকি বিয়ে! বেঁচে থাকার লড়াই বুঝলে, যারা বেঁচে থেকে লড়ে, তারা ‘ব্যাচেলর’!”

আমি বাবা সলমান খান-এর ভক্ত, ক্যাটরিনা-সম মেয়ে থেকে শুরু করে হনুমান-এর লেজ পরা ছেলেদের সাথে সেলফি তুলবো, ঈদ মহরম দুর্গা পুজোতে নাচব, এই লাইফটাই ভালো।

প্রবলেম তখন হয়ে যখন বাড়ির লোক এটা বোঝে না। সবাই সলমান খান হলেও সবার তো আর সলমান খান-এর বাড়ি নয়।

তাই বসলাম ফিকির আঁটতে। ও বাবা, লক্ষ্মী তো এখন শুধু লেখায় পাওয়া যায়, এখানেও তো ‘ই’ মা; না না নাক সিঁটকে বলছি না, অবাক হয়ে বলছি। ই-cash, ই- mart, net banking, coin খুচরো নোট পত্র, আর লাগে না যত্রতত্র।

এখন coin ও coin-এর আভিজাত্য একটাই জায়গায়ে, অটো কাকুর খুচরো।

রাস্তা-কুঁড়ে রাও বলে “দাদা note দিবেন!”

তা লক্ষীকে দেব-দেবতা কম কষ্টে পায়নি, হিড়হিড় করে সমুদ্র মন্থন করে এক হাত জিভ বেরিয়ে পড়েছে যখন, তখন দেখা গেছে glamour girl কে। আগে সরস্বতীর সাথে এতো বনিবনা ছিল না তোমার, এখন donation আর development fee দিয়ে সরস্বতী মা-এর demand-টা, আর তোমাদের teamworkটা বেড়ে করেছ কিন্তু!

Free education নিয়ে চেঁচাচ্ছি না তা নয়, তবে এর ভেতরেও অনেক কালো টাকা সাদা হচ্ছে, এও সত্যি। Education, certification টাকা অনেক টাকা, কী খরচ দাদা, খেতে পাই না, আমার পকেট ফাঁকা।

নাহ! লেখা লম্বা হয়ে যাচ্ছে, খাবার ব্যাপারটা KFC-তে সেরে নেব, সেখানে সেদ্ধ corn দেয়ে; লক্ষী মা হাতে corn ধরে থাকে না? ওহো না না, ওটা ত ধানের শীষ! ধান? সেটা আবার কি? ওহো হ্যাঁ মনে পড়েছে, staple food, ও তো না খেলেও হয়ে, RICE বললে এখন সরকারি চাকরি বেশি মনে পড়ে, কদিন পর ডিজিটাল ধান খাবো, মোদী বাবু Farmville তে বিতরণ করবেন, ডিজিটাল ভারতে। এর বাইরে তো কিছু দেখছি না কাত্তিক-দা।

আমি ভিতু লোক, আমার সাহস নেই বাড়িতে বাবার উপর কথা বলার; বাবার চড়কে খুব ভয় পাই।

সমাজ আমার শিক্ষিত বটে, আজকাল যা সব শেখাচ্ছে, তাতে হলিউড ফিল্ম-এর যে কোন খুনি চরিত্র একের পর এক তৈরি হয়ে যাবে। ভালরা তাকিয়ে দেখবে, আর হীনমণ্য কোন নিচ লোকের Bank balance বেড়েই চলবে।

শিক্ষার নামে স্বার্থপরতা নজর কাড়বে, আর বোকা আমি “ইশ কী বাজে!” বলব।

আমি তো keywordটা বুঝে গেছি boss!

মা লক্ষ্মী কেবল প্যাঁচা ভালবাসেন।

আর গাঁজা টেনে DJ Remix-এই সরস্বতী আসেন।

সলমান খান কাত্তিকবাবু বন্দুক টেনে ধরে,

black buck তুমি দাঁড়িয়ে আছো .. Gun-এর ওপারে।

তোমাদের হেডমিস্ট্রেস দশভুজা দুর্গা কে এই Update গুলো দিয়ে দিয়ো হে,

এবছর, তোমরা এখানেই আসছ হে দেবী।

Warm Regards

পার্থ

One Reply to “ছিন্নবীণা ৪”

  1. Besh sarcastic lekha Partha..mane with God and goddess we hardly associate these.. Well written.. Aro lekho ar onek aako… 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *