ঋতুদা, ঋতুদি এবং আমরা

গতকাল ৩০শে মে ছিল ঋতুপর্ণ ঘোষের মৃত্যুবার্ষিকী তিন বছর হল তবু ভেতর ভেতর ভীষণ লজ্জা পাই এই ভেবে যে শ্রদ্ধা নিবেদন করার আগে, আমরা আদৌ তার যোগ্য কিনা এই প্রশ্নটা বোধহয় আমাদের নিজেদেরকেই আগে করা উচিত

৪৯ বছর আয়ু হিসেবে খুব কম, কিন্তু এখনও ফিরে তাকালে বড় বেশী করে মনে পড়ে পার্টিতে বা আড্ডায় ঋতুপর্ণকে লক্ষ্য করে তৈরী হওয়া হাস্যকর ক্যারিকেচার বা জোকসগুলোকে এখন সেইসব তামাশাগুলো বা ঋতুদি বলে করা সম্বোধন যেন গালে চড়ের মত আছড়ে পড়েআমরা কি চাইলেও পারতাম একটা চরিত্র নিয়ে অভিনয় করার স্বার্থে নিজেদের শরীর নিয়ে হরমোনাল এক্সপেরিমেন্ট করতে? তখন বুঝতাম না, এখন বুঝি আসলে সেই সব ঠাট্টা ইয়ার্কি যত না ঋতুপর্ণকে লক্ষ্য করে তৈরীতার চেয়ে অনেক বেশী সমকামীতাকে স্বীকার না করতে চাওয়ার দুর্বলতাকে ঢাকার জন্য

আসলে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব প্রমাণের যে লড়াইটা উনি লড়ছিলেন নিজেকে দিয়ে, সমাজকে দিয়ে, আমার মনে হয় সেটাই ওনার সর্বকালের সেরা সৃষ্টি জাতীয় পুরষ্কারগুলো হয়তো মিউজিয়ামে সাজান থাকবে, কিন্তু এই আপোষহীন লড়াইয়ের ইতিহাস আরো ভালো ভাবে সংরক্ষণ করা উচিত তোমার সাহসের কাছে কুর্নিশসত্যিই আমাদের অপরাধের শেষ নেই আমাদের মনের অন্ধকার কাটিয়ে তুলতে তুমি সিনেমাকে ব্যবহার করেছ অস্ত্র হিসেবেআমরা কতটা সফল হলাম সেটা ইতিহাস বলবে

উৎসব সিনেমার একটা ডায়লগ আজকে খুব মনে পড়ছেকন্সট্রাকশন, ডিকন্সট্রাকশন যা আমরা দেখতে পাইনি তা ঋতুদা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেছো জীবনের সবচেয়ে বড় পর্দায় কলকাতা তরফ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা শিল্পী ঋতুপর্ণ, লেখক ঋতুপর্ণ এবং তারও আগে মানুষ ঋতুপর্ণকে

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *