প্লুটোর ইন্টারভিউ

রিপোর্টারঃ নিজেকে কি বলবেন?

প্লুটোঃ কি আবার বলব? আপনাদের সুপারিইগো সম্বলিত জীবন। পোচ্চুর ক্ষ্যামতা। গোটা মহাবিশ্বের তুলনায় .000000000000000000১ ভাগের কয়েক হাজার ভাগ সাইজ হও্য়া সত্ত্বের দারুন দারুন গ্ল্যামারাসলি ঠিক করে দিচ্ছেন কে গ্রহ আর কে খনা মা। আপনাদের আমি কি বলব, আপনারাই বলুন।

রিঃ আহা আপনি খামোকাই রাগ…

প্লুটোঃ খামোকা? ধরুন আপনাকে আজ বলা হলো তুই মানুষ তারপর বলা হলো না তুই প্ল্যাটিপাস তারপর আবার বলা হলো না অনেক ভেবে দেখলাম তুই মানুষ। যা ভজহরি মান্নায় খেয়ে আয়। আপনার কেমন লাগবে?

রিঃ না মানে দেখুন…

প্লূটোঃ দেখছি তো বহুদিন ধরেই বাবা। ছোট তকমা সেঁটে দিতে পারলে তোমরা আর কিচ্ছু চাওনা। পাঁঠা বলি দেখলে নার্ভ ফেল হয়ে যায় ইদিকে অকারনে পিঁপড়ে মারো। কেন? কারন সে ছোট। পাঁঠা ডাকে, সে ডাকেনা। তোমার কুকর্ম তোমার চোখের সামনে তুলে ধরবার ক্ষমতা কেউ তাকে দেয়নি।

রিঃ আপনি তো কিছু শুন…

প্লুটোঃ এতদিন শুনিয়েও শখ মেটেনি? শোনান শোনান

রিঃ ছোট বিষয়ে…
প্লুটোঃ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন কারোর নিকৃষ্টতা বোঝানোর জন্যে আপনি কোনোদিন তাকে ছোটোলোক সম্বধন করেন নি? ছোটদের কতটা পাত্তা দেন আপনারা ছুনুমুনুগুলূপুচো করা ছাড়া? যা বাজে তাই ছোট, যা খারাপ তাই ছোট। আপনি যে আপনি হয়েই জন্মাবেন সেটা যখন ডিসাইড হলো তখন আপনার সাইজ কত ছিলো বলুন তো?

রিঃ আপনি তো লিটারেল মিনিং এ চলে যাচ্ছেন

প্লুটোঃ যাহ বাবা আপনারা করবেন আর আমি গেলেই দোষ? খারাপ বোঝাতে ছোট শব্দের ব্যাবহার কেন হবে? কেন? যা কিছু ভালো তাই কেন বড় দিয়ে ডিনোট করা হবে? আছে এর কোনো উত্ত্র আপনার কাছে?

রিঃ তাই হয়ে আসছে কিনা…

প্লুটোঃ সেতো এককালে ন-বছরের মেয়েরও বিয়ে দিয়ে দেওয়া হত, সেটা হয়ে এলে ক্যামন লাগত? হয়ে আসা মানেই ভালো? চেঞ্জের দরকার নেই?

রিঃ নিশ্চয়ই আছে কিন্তু আপনি তো বিষয় থেকে সরে যাচ্ছেন।

প্লুটোঃ একটুও সরছিনা। আসলে আপনাদের বড় হওয়ার লোভ এতটাই বেশি যে ঠিক বেঠিকের জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। তাই ভাবেন যা বড় তাই ভালো। তার কথা শোনেন বেশি তার জন্যে ভাবেন বেশি। গোটা বছরের শুধুমাত্র ছোটদের জন্যে কটা সিনেমা তৈরী হয়? ইদিকে বলবেন আজকালকার বাচ্চা খুব পাকা। আরি ওদের চারপাশে তো সবসময় দেখচে সব্বাই বড় হতে চাইছে। আর ওরা চাইলেই দোষ।

রিঃ আপনি কি চান?

প্লুটোঃ আমার চাওয়া না চাওয়াতে কি এসে যায় ভাই? আমি তো ছোট। আমি সিনেমার কমিক রিলিফ, কলেজের বারোয়ারী মশকরা। আমি হাইহিলের পায়ে পড়ে মেট্রোর হাতল ধরবার চেষ্টা আর তাই দেখে নল্বা বড়সড় দের জুত করে হাতল বাগানোর উদ্দেশ্য। আমি কি বললাম তাতে আর।

রিঃ এইতো এবার তো সুযোগ পাচ্ছেন, এবার বলুন নিজের কথা?

প্লুটোঃ হ্যাঁ উদ্ধার করে দিচ্ছে একদম সুযোগ দিয়ে। আসলে আপনারা তাকাতে শিখেছেন অন্য ভাবে। আকাশ ধরতে গিয়ে বিকেলে তাতে রঙের খেলা আপনাদের কাছে মাঠে মারা যায়। বড় অবশ্যই ভালো তবে ছোট মানেই যে খারাপ না, অসহায় না এ আপনাদের ধারণার বাইরে। বড় কিছু দেখে আপনারা তার মত হয়ে গিয়ে দেখতেই পাননা কতগুলো ছোট আসলে বাঁধা আচে একসাথে।

রিঃ আপনার কথা মত তাহলে পিঁপড়ে মারা আর মানুষ মারা সেম ক্রাইম তাই তো?

প্লূটোঃ আলবাত তাই। অকারণে যে কোনো কিছুকেই হত্যা করা তা সে পিঁপড়ে হোক কি মানূষ।

রিঃ তার মানে কারণ থাকলে মারাই যায়?

প্লুটোঃ দেখেছেন, এই হলো আপনাদের সবচাইতে বড় শক্তি। যেটা বলা হলোনা সেটাকেই টেনে হিঁচড়ে বের করে এনে যুক্তি খাড়া করবার অযৌক্তিক ইতরশ্রেষ্ঠ উপায়। না বেকার আপনার সময় নষ্ট করে লাভ নেই। হ্যাঁ পৃথিবীতে ছবি যাওয়ায় আমি ক্যাতাত্ত বোধ করছি। আশা রাখছি আগামী কয়েকশ বছরের মধ্যে আপনারা এটাকেও পিকনিক স্পট বানিয়ে ফেলবেন, অনেক শুভেচ্ছা, রসোগোল্লা খেতে খুউব ভালোবাসি, ইত্যাদি, প্রিতী ও শুভেচ্ছা। ভালো থাকবেন নমস্কার।

রিঃ এইভাবে এড়িয়ে গেলেন

প্লুটোঃ আমি যে ছোটলোক ভাই। আমার চারটে বেসিক নিড ফুলফিল হয়নি তার সুপারিগো সফিস্টিকেটেড নয়, আসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *