বিরূপাক্ষ কথা (প্রথম পর্ব)

বিরূপাক্ষ কথা  #১

দু বছর ধরে বন্ধ থাকার পর আজ সকালে যখন বিরূপাক্ষ বাবুর নাকটা ফট করে খুলে গেল, প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে তিনি বুঝতে পারলেন যে দেশের হাওয়ার গন্ধ পাল্টে গেছে।

 

বিরূপাক্ষ কথা #২

কিছুতেই সেই ছবিটাতে নিজেকে ফিট করতে পারছিলেন না বিরূপাক্ষ বাবু। একটা পারফেক্ট ফ্যামিলি ফটো, যেখানে তিনি অত্যন্ত বেমানান। অনেক কিছু ভাবতে ভাবতে কফিতে শেষ চুমুকটা দিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে বলে উঠলেন…”না রে, এবারও পারলাম না”। শেষ ট্রেন আর এক ঘন্টা পরে।

 

বিরূপাক্ষ কথা #৩

যেদিন বিরূপাক্ষ বাবুর বাবার সাধের কালো ফিয়াট গাড়িটি বিক্রি হয়ে যায়, তখন ওনার বয়েস ১৪ কি ১৫ হবে। রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়ার পর গ্যারাজে গিয়ে গাড়িটার সারা গায়ে হাত বুলিয়ে কেঁদেছিলেন। আরেকবার কেঁদেছিলেন, ছাদে, যেদিন বড়পিসির লাগানো আমগাছ গুলো কেটে ফেলার কথা হয়েছিল। ভরা দুপুরে ছাদে দাঁড়িয়ে আমগাছগুলোর ডালে, পাতায়, হাত বুলিয়েছিলেন। বিরূপাক্ষ বাবুর আর কান্না পায়না। আয়নাতে নিজেকে দেখে, একটা সিগারেট ধরিয়ে হেঁসে বলে ওঠেন, “It goes on”.

 

বিরূপাক্ষ কথা #৪

রোজকার মতো অফিসে বেরিয়েও, হঠাৎ কি মনে হওয়াতে উল্টো পথে হাওড়া স্টেশন গিয়ে বেনারসের ট্রেনে চেপে বসলেন বিরূপাক্ষ বাবু।উস্তাদ বিসমিল্লা খাঁ সাহেবের বাড়ির সামনে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন বেশ কিছুক্ষণ। ছোটবেলা মামাবাবুর সাথে এসে সানাই শুনেছিলেন ওনার বসার ঘরের ফরাসে বসে। এখানে আর কেউ সানাই বাজায় না। হাঁটতে হাঁটতে চলে এলেন মনিকর্ণিকা ঘাট। কান্নার শব্দ এখানে সানাইয়ের সুরে বাজে। পকেট হাতড়ে একটা সিগারেট পেলেন। ধরিয়ে, একটা লম্বা টান দিয়ে নিজের মনেই বলে উঠলেন “মন ভালো নেই”।

 

বিরূপাক্ষ কথা  #৫

একদিন সময় মত ভালোবাসার কথা বলে উঠতে না পারার আফশোস ওনার আজও যায়নি। সেদিন পিস হ্যাভেন এর সামনে কাঁচের গাড়িতে খুব চেনা মুখটা দেখে বুকের ভেতর একটা ব্যাথা অনুভব করলেন বিরূপাক্ষ বাবু। বাড়ি ফিরে বইয়ের তাক থেকে গালিবনামাটা নামিয়ে, প্রথম পাতায় মুক্তোর মতো হাতের লেখাতে নিজের নামটার ওপর আলতো আঙুল ছোঁয়ালেন। পাতা উল্টে প্রিয় নজমটি পড়লেন আরো একবার। “হাজারো খোয়াইশে এইসি কে হর খোয়াইশ পে দম নিকলে”।

 

(চলবে)

One Reply to “বিরূপাক্ষ কথা (প্রথম পর্ব)”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *