আমাদের কথা

‘ও কলকাতা’? সে আবার কিরকম নাম। কি একটা রেস্টুরেন্ট না কি আছে না ঐ নামে? ছ্যাঃ – এক্কেবারেই ভালো নাম হয় নি” – এরকম অনেকেই বলেছেন বা হয়তো বলবেনও। এমনকি এই আপনি – যিনি কিনা এই লেখাটা সবে পড়তে শুরু করেছেন, তিনিও হয়তো ভেতর ভেতর নাক সিটকচ্ছেন – “এ আবার কেমন নাম?” আমরা সকলের অনুযোগ মাথা পেতে নিচ্ছি কারণ এ কথা বলার মত ধৃষ্টতা আমাদের নেই যে কলকাতা মানেই পশ্চিম বাংলা, একেবারেই না। আর যা কোনদিনও ছিল না, তা আজ কেমন করে হবে? সুতরাং প্রথমেই বলি –সে পরিচয় নামের মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য এই সাইট একেবারেই নয়। ভাবছেন – এ আবার কেমন ধারা উলটো পুরাণ? যদি তেমন পছন্দই নয়, তবে নাম দিতে যাওয়া কেন বাপু? তা পুরাণ-ই বটে – আজকের কথা তো নয়! তাই ধান ভাঙতে, একটু শিবের গীত তো গাইতেই হবে! বরং এই বেলা শুরু করি। কথাগুলো খুলে বলাই তো ভালো – নইলে হয়তো নতুন শুনলে অনেকেই ঠোঁট উলটে বলবেন – “ওঃ নতুন সাইট? কত এলো আর কত গেল। এখন দেখ এটাই বা কদ্দিন চলে?”

এইবার ‘ও কলকাতা’র উৎসে ফিরে আসি। খুব সহজে বলতে গেলে বলা যেতে পারে আমরা একটি নতুন মাধ্যম। ইন্টারনেটে বাংলা ভাষা চর্চায় পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা অনেক অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশের তুলনায়। এমনকি এই যে বাংলায় এই প্রতিবেদন টাইপ করছি সেও বাংলাদেশের শিখিয়ে দেওয়া টেকনোলজির হাত ধরেই। তাই সে ঋণের কথা মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করে নেওয়াই ভালো। বাংলাদেশে ভাষা চর্চার জন্য অনেক ওয়েবসাইট আছে। কাজেই সেই দৌড়ে শামিল হওয়া আমাদের লক্ষ্য কোনদিনই নেই। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই – পশ্চিমবাংলার বাঙালি বা সেই অর্থে ভারতীয় বাঙালিদের আরও বেশি করে ইন্টারনেটে বাংলা ভাষা চর্চার জগতে নিয়ে আসা। এইটুকু বোঝান যে এটাও বিনোদনের একটা মাধ্যম – আর আমরা চাইলে, তার চেয়ে সুস্থ, রুচিশীল, নির্ভেজাল আড্ডা আর হতে পারে না।

‘ও কলকাতা’য় আমরা প্রকাশ করব ইন্টারনেটে বসে পড়ার মত ঝরঝরে গদ্য – গল্প, প্রবন্ধ, রম্যরচনা, ধারাবাহিক, সমালোচনা, পরিবেশ ও বিজ্ঞান নিয়ে জানা অজানা তথ্য, কার্টুন, ফটো-ফিচার এইসব। আমরা এত লেখা কোথায় পাব? আমরা আমাদের লেখকদের খুঁজে নেব আপনাদের মধ্যে থেকেই। আপনি যদি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চান, তাহলে ঠিকানা খুব সহজ – okolkata@googlegroups.com কারণ এখানে লিখবেন আপনার আমার মত শখের লেখকরাই। শুধু প্রকাশিত হওয়ার আগে তা যাচাই করে নেবেন আমাদের সম্পাদকমন্ডলী। আগামী দিনে হয়তো আরও অন্যান্য বিষয় আসতে পারে ‘ও কলকাতা’-য় কিন্তু তাই বলে কবিতা, মুক্ত-গদ্য এইসব নৈব নৈব চ। সোজা-কথায় যেসব লেখা পড়ে খুব সাধারণ পাঠকের কাছে দুরূহ ঠেকতে পারে, সেরকম লেখার ঠাঁই নেই ‘ও কলকাতা’তে। তার বদলে থাকবে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা। এমন লেখা যা পড়া যায় যে কোন সময়েই। আমাদের কোন ধর্মীয় বা রাজনৈতিক আধার নেই।

আমাদের নতুন সাইটটি হবে অনেকটা অনলাইন পত্রিকার ধাঁচে – কিন্তু যে কোন পত্রিকার সঙ্গে আমাদের পার্থক্য একটাই এবং তা হল আমাদের কোন সংখ্যা থাকবে না, শুধু বিভিন্ন বিভাগে নিয়মিত লেখা প্রকাশ করা হবে। আমাদের অভিমতের সঙ্গে হয়তো এখনই আপনি পুরোপুরি একমত হতে পারছেন না। ভাবছেন যে এ আবার কেমন কথা – অনেকটা পত্রিকার মত, আবার পত্রিকার মত নিয়মিত সংখ্যা নেই। বিশ্বাস করুন আমরা অনেক ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। আয়তন আমাদের লক্ষ্য নয়, আমরা চিন্তিত লেখার মান নিয়ে। অনেক সময়েই দেখেছি যদি এরকম পরিস্থিতি দাঁড়ায় যে সংখ্যা বের করার তাগিদে লেখার গুনগত মান বিষয়টাকে আর সেভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয় না। তাই আমাদের পরিকল্পনা অন্য ধাঁচের, যেখানে আমরা সময় নিয়ে ভালো লেখা তুলে দিতে পারব। আমরা নিজেদের প্রয়োজন এবং সামর্থ্যের কথা মাথায় রেখেই একটা রিয়েলিস্টিক টার্গেট সেট করেছি বলা যেতে পারে।

একই সঙ্গে মাথায় রয়েছে ভবিষ্যতের জন্য অনেক বড় বড় পরিকল্পনাও – যার একটা বড় অংশ হচ্ছে অপটিকাল ক্যারেক্টার রেকগনিশন (OCR) ব্যবহার করে কপিরাইট মুক্ত লেখার সম্ভার গড়ে তোলা। সুস্থ বিতর্কের আসর তৈরি করার জন্য করা যেতে পারে অনলাইন ফোরাম – যেখানে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ না করে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনা করা যেতে পারে। ইচ্ছে রয়েছে শুধু লেখা বা ছবি নয় – মাল্টিমিডিয়ার অন্যান্য অনুষঙ্গগুলিও একে একে আমরা ‘ও কলকাতা’র পরিসরে নিয়ে আসার অর্থাৎ গান, যন্ত্রসঙ্গীত, আবৃত্তি, শ্রুতিনাটক আসতে পারে অডিও হিসেবে বা হয়তো মঞ্চাভিনয় ও শর্ট-ফিল্ম ভিডিওর হাত ধরে। ভেবে দেখুন তো একবার – এত বড় প্লাটফর্ম কি প্রিন্ট মিডিয়ায় পাওয়া সম্ভব? অথচ ওয়েব দুনিয়ায় সাউন্ড-ক্লাউড, ইস্নিপস বা ইউটিউবের হাত ধরে কিন্তু ব্যাপারটা জলভাত।

আর হ্যাঁ, যে নামের কথা বলছিলাম প্রথমেই – ‘ও কলকাতা’ নিছক একটা নামই কেবল। নামটা পছন্দ করার টেকনিকাল কারণ হল আমাদের পছন্দের ডোমেন নেম ইতিমধ্যেই রেজিস্টার্ড অন্য কারো কাছে আর SEO র দিক থেকে দেখলে নামটা মন্দ নয়। কলকাতা নামটা যেন বড় বেশি করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের দিকে। তা দিক না? যদিও ইন্টারনেটে দেশের সীমারেখা মুছে গেছে কবে, তাও নামের দিক থেকে একটা প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত তো থাকবেই পশ্চিমবঙ্গের দিকে – সেই সঙ্গে একটা বড় মাপের মঞ্চ হয়ে উঠুক লেখক ও শিল্পীদের জন্য। তাই বলে কলকাতাই বাঙালির সব, এমন কোন দাবী আমাদের নেই। সত্যি বলতে কি আমরা যারা এই সাইট তৈরি করছি তারা সকলেই কিন্তু আদপে কলকাতার লোক নই। হ্যাঁ – কেউ যেমন কলকাতার, তেমনি কেউ দক্ষিণবঙ্গের, কেউ উত্তরের, কেউ ভিনরাজ্যের – কেউ বা ভিন দেশের। আমাদের অবচেতনে কলকাতা এমন একটা নাম যার সাথে আমরা সবাই কোন না কোন ভাবে জুড়তে পারি।

মনে মনে সেই দিনটাকে চোখের সামনে দেখতে পাই – যেদিন ‘ও কলকাতা’র উদ্বোধন হচ্ছে। যে মুহূর্তে একজন নতুন পাঠক ব্রাউসার খুলে টাইপ করলেন – www.okolkata.com অমনি দেশকালের বেড়া ভেঙে আকাশে উড়ল এক-ফালি সাদা মেঘ। জলপাইগুড়িতে সেই মেঘ দেখে হাসলেন উদয়, মুম্বাইতে বৃষ্টির ফোঁটার অপেক্ষা করতে থাকলেন সুপর্ণা, কোন এক আনমনা মুহূর্তে ঋতমের মনে হল বিকেলটা তো বেশ সুন্দর, রেডমন্ডে দিগন্ত’র মনে হল এই মেঘ কি ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে উড়ে এলো আমেরিকায়? কলকাতায় অফিসে কাজের ফাঁকে জানলা দিয়ে সাদা মেঘটুকু এক মুহূর্ত অবসরের মত খুঁজতে লাগল সুমন। আর আমি অভ্র – কিবোর্ড পিটতে পিটতে অবশেষে এই লেখার একপ্রান্তে এসে পৌঁছলাম। যে অক্লান্ত পরিশ্রমের পর আমরা আজ এখানে এসেছি, তাতে যদি আপনাদের সামান্যতমও আনন্দ দিতে পারি, তবে বুঝব আমাদের পরিশ্রম ষোল-আনা সার্থক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *