D ফর দাদা

দাদার জন্মদিনে ‘ও কলকাতা’র শ্রদ্ধার্ঘ – কলকাতার বর্ণমালা সিরিজে আগের পর্বটি পড়ুন এখানে

                                                                         map-india

–        আশা করি সমস্ত ইনফর্মেশন রেডি রেখেছেন?

–        লেহালুয়া। নয়তো এখানে এলাম কেন! read more

মদ, ফুটপাথ ও মানুষ

– জেল হয়েছে। পাঁচ বছর। জব্বর জাস্টিস। কী বলেন ফেলুবাবু?
– লাল মোহনে ভালো, মগনে নয়।তেমনই জাস্টিস ব্যাপারটা জেলে ভালো, সেলেব-প্যারোলে নয়। দ্যাখা যাক।

 ২

-খুড়ো, ফুটপাথে শুয়ে থাকাটা অন্যায়; তাই না?
– আলবৎ! হাতে দামী গাড়ির স্টিয়ারিং আর পেটে দামী স্কচ থাকলে বুঝতিস ন্যাপলা; ফুটপাথে হিউমান স্পীড ব্রেকার কি বিরক্তিকর। read more

পয়লা

– কাঁদছ?
– কাঁদব না?
– না মানে। কেঁদে লাভ নেই তো।
– তুমি এমন ভোম্বল মার্কা কথা বলা বন্ধ করবে? আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আর তোমার সঙ্গে হয়নি, হয়েছে অন্য পাত্রের সঙ্গে। কাঁদব না? তোমারও তো চোখ ছলছল করছে। স্পষ্ট দেখতে পারছি।
– সেন্টিমেন্টাল তো হতেই হবে। আর ইয়ে, তোমায় সান্ত্বনা দিয়ে পিঠও চাপড়ে দিতে হবে। উপায় কি বল। আমি একটা বেখাপ্পা ছেলে। চালচুলো নেই। তুমি এক প্রকার বেঁচেই গেলে। আমার সঙ্গে বিয়ে হলে কি পেতে?
– কি দারুণ সংসার হত বলো তো। তোমার ফতুয়ার বোতাম ছিঁড়ে গেলে সেলাই করে দিতাম।
– এখন তোমার সায়েব বরের কোটের বোতাম ছিঁড়ে গেলে সেলাই করে দিও না হয়।
– ধুস। তুমি আর আমি মিলে ছাদে মাদুর পেতে বসে কত গল্প করতাম সন্ধেবেলা। এক সাথে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতাম। আর সাথে থাকতো এক বাটি ফুলুরি।
– তোমার হবু বরের সঙ্গে তুমি রুফ টপ পশ্চিমা রেস্তোরাঁয় বসে দাঁত ভাঙা নামের মন ভরানো সব খাওয়ার খাবে। ডিস্কো নেচে রাত ভর হুল্লোড় করবে।
– তোমার সাথে বিয়ে হলে আমরা দু’জনে পাড়ার ক্লাবের ফুটবল ম্যাচ দেখতে যেতাম। বাড়ি ফেরার পথে ফুচকা খেয়ে পেট ভরিয়ে ঢুকতাম।
– আর এখন তোমার হাই ফাই বর তোমায় টি টুয়েন্টি ম্যাচ দেখাতে নিয়ে যাবে। ফেরার পথে তোমাদের থাকবে কে-এফ-সি বাঁ পিৎজা হাট। কত মজা বল দেখি।
– তুমি একটা যাতা। আমার হবু বর পারবে আমার সাথে দেশপ্রিয় পার্কের সস্তা হোটেল কেবিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা মারতে?
– আরে সে তোমায় নিয়ে লং ড্রাইভে যাবে। তার জেল্লাই আলাদা।
– তুমি আমায় কথা দিয়েছিলে যে আমাদের বিয়ে হলে গরমের দুপুরে তুমি আমায় আম পোড়ার শরবৎ করে দেবে। আর লালবাজার থেকে স্পেশাল চায়ের পাতা এনে আমায় লেবু চা করে খাওয়াবে। আমার এই বর আমায় কাঁচকলা দেবে।
– আরে না গো! কাঁচকলা কেন দেবে। তোমার হাজব্যান্ড তোমায় গরমের দুপুরে ক্লাবে চিল্‌ড বিয়ার খাওয়াবে। সন্ধ্যের অবসরে স্কচ। সেলিব্রেশনে শ্যাম্পেন।
– তুমি না থাকলে আমায় শঙ্খ ঘোষ কে পড়ে শোনাবে?
– সে তোমার জন্যে গীটার বাজিয়ে হদ্দ হবে গো।
– তোমার সাথে ভোরে উঠে হাঁটতে বেরতাম। হাঁটতে হাঁটতে কত গল্প। ফেরার পথে সবজি বাজার করে থলে ভরে বাড়ি ফিরতাম।
– এ সব আদ্যিকালের ব্যাপার। তোমার নতুন বরের সঙ্গে তুমি নাইট আউট চিনবে। নিপাট রাত জাগা। আড্ডা হুল্লোড়ে রাত জাগা।
– দু’জনে মিলে একসাথে দুই বাবা আর দুই মাকে মাঝে মাঝে প্রণাম করতাম। দারুণ মানাত আমাদের। একদম ট্যাঁপা আর টেঁপি।
– নতুন বরের সাথে মিলে বাপ-মা’দের জড়িয়ে ধরে গালে চুমু খাবে। মিস্টার অ্যান্ড মিসেস। সে স্নেহের পরিসর কম কিসে? তুমি কিন্তু তোমার বর কে নিয়ে বড্ড বেশী নেগেটিভ হয়ে যাচ্ছ।
– তুমিই বা কি, একটা অন্য ছেলে তোমার প্রেমিকার হাত ধরে টেনে নিয়ে ড্যাং ড্যাং করে চলে যেতে বসছে, আর তোমার যেন কিছুতেই কিছু এসে যাচ্ছে না।
– আমার ফিউচার নেই গো। তোমায় বেঁধে রেখে কি লাভ? আমার সাথে লেপটে থাকলে শেষে তুমিই মরবে। আর তাছাড়া আমি জানি, তোমার মনের কোন এক কোণে চেপেচুপে আমার স্মৃতিটুকু থেকে যাবেই। তুমি জাত নস্টালজিক। আচ্ছা, তোমার হবু বরের নামটুকু তো বললে না।
– ওর নাম ফার্স্ট জ্যানুয়ারী। কেমন কাঠ-খোট্টা বল।
– কাঠ-খোট্টা কেন হতে যাবে? বেশ নাম তো। ফার্স্ট জ্যানুয়ারী। আমার মত থপথপে নাম নয়। তুমিই বলো, এই যে আমার নাম, শ্রী পয়লা বৈশাখ। এটা কোন নাম হল?
– তুমি আমায় বিয়ে করবে না তো করবে না। কিন্তু জেনে রেখো, আমার কাছে ওই ফার্স্ট জ্যানুয়ারী গোছের নামের থেকে পয়লা বৈশাখ নামটা অনেক বেশী মধুর। এবং চিরকাল তেমনটাই থাকবে। বুঝলেন পয়লা বাবু?
– হে হে হে।
– অমন বোকা হাসিতে ভুলছি না। তোমার একটা জিনিষ আমার কাছে জমা করে রেখে যেতে হবেই। নয়তো ছাড়ছি না তোমায়।
– কি জিনিষ গো?
– হাল খাতা। তোমার হালখাতাটা আমায় দিয়ে যেও প্লীজ।
– হালখাতার যে আজকাল কোন দাম নেই গো।
– স্মৃতির দাম নেই বুঝি? প্লীজ পয়লা, জানুয়ারির হাতে আমায় ঠেলে দিচ্ছ, আমি কিছু বলছি না। কিন্তু তোমার হালখাতার স্মৃতিটুকু অন্তত আমাকে দিও। দেবে না ?
– বেশ। দেব তোমায়। হালখাতার স্মৃতিটুকু। ভালো থেকো। কেমন? read more

ধর্ম

ধর্ম অনেকক্ষণ ধরে উসখুস করছিল। অনেকক্ষণ ধরে। একটা চাপ ধরা অস্বস্তি। একটা দমবন্ধ করা বুক চিন্‌চিন্‌ তার পিছু ছাড়ছিল না।ঘামতে শুরু করায় পরনের টিশার্টটা খুলে রেখেছিল। নিশ্বাস ঘন হয়ে আসছিল ধর্মর। মনে হচ্ছিল যেন একটু তাজা হাওয়া গায়ে লাগলে ভালো লাগতো। কিন্তু মন চাইলেও জানলা খোলার উপায় ছিল না। হাজার হাজার ফ্যানের চোখ, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ-বাল্ব তার ঘরের দিকে অনবরত তাক করা আছে। সেলিব্রেটি হয়ে থাকার মাশুল যে কী সাঙ্ঘাতিক। চরসের রসও আজ শরীরকে তাজা করতে পারছিল না। ধর্মর চোখ ছলছলে হয়ে আসছিল বার বার। আবছায়া ঘরেও কালো চশমায় চোখ ঢেকে বসেছিল সে; পাছে আচমকা আয়নায় নিজের চোখ দেখে ফেলতে হয়। read more

পুজোর খুচরোপাতি

“Go ভিড়ে যাও, আরও Go ভিড়ে যাও…” – পুজো শপিং’য়ের মরশুমে গড়িয়াহাট মোড়ে দাঁড়িয়ে অনুপম রায়।

হনুমান। সে একটি বার হনুমান বলে ডেকে, মিচকি হেসে, আঁচল ভাসিয়ে, মণ্ডপ আলো করে চলে যাবে। এ আশায় জিন্দেগী বয়ে গেল। read more

হোক কলরব

১।

-নির্মল আছিস?
-ভজাদা! ব্যাপার কি। চাঁদা?
-পাঁচশো
-সে কি,গতবার পঞ্চাশ ছিল,একশো নাও
-পাড়া ছাড়তে চাস?
-না। তুমি বরং বাতেলা ছাড়

#HokKolorob

২।

– গুপ্ত,প্রমোশন সহজে আসে না। কম্প্রোমাইজ থাকেই।এ ফাইল তোমায় পাস করতে হবেই।বস হয়ে বলছি। read more

ইন্টারভিউ থেকে বলছি

১। -নিজের ব্যপারে কিছু বলুন
-আলুর দম ভালোবাসি
-এটাই আপনার সবার আগে মনে এল?
-ভুল?
-নয়?
-সরি
-ইউ শুড বি। আগে লুচি বলুন।তবে তো।

২।

-আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
-পাঁচ বছরে এমন জায়গায় থাকতে চাই যাতে সিজন এলে হপ্তায় পাঁচ দিন পাতে ইলিশ থাকে read more

আলু-সেদ্ধ’র গল্প

মৃদুলবাবুর একটা জবরদস্ত চাকরি নেই; কাজ বলতে বড়বাজারের এক মাড়োয়ারি গদিতে খাতা সামলানো।

কিন্তু তাঁর রাতের খাবারের স্টিলের থালাটির কোনায় এক খাবলা চন্দ্রমুখী আলু-সেদ্ধ রয়েছে।

মৃদুলবাবুর আর সংসার করা হয়ে উঠলো না। বয়স প্রায় পঞ্চাশ, নতুন করে কিছু হবে- সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায়। বাপ-মা বহু আগেই গত হয়েছেন, সময়মত উঠে-পড়ে তাঁর বিয়ে দেওয়ার জন্যে তেমন কেউ ছিলেননা। read more

মিতার মৃত্যু

শনিবার, সন্ধ্যে ৮ বেজে ৩০ মিনিট

পরমা ফেনায় ভেসে যাচ্ছিল। বাথ টাবটাকে একটা সুরাপাত্র মনে হচ্ছিল। অবাক লাগে ভাবতে। কোথায় তার ছোটবেলার স্যাঁতস্যাঁতে কসবার বাড়ির অন্ধকার বাথরুমের এলুমিনিয়ামের মগ আর শ্যাওলা মাখা চৌবাচ্চা। আর কোথায় অর্ণবের এই তিন হাজার স্কোয়ার ফিটের ফ্ল্যাটের পেল্লায় বাথরুম এবং সেই বাথরুমের কোনে সুসজ্জিত বাথ টাবের পাশে রাখা ওয়াইন গ্লাসে তার চুমুকের লিপস্টিক। read more

পাবলিক, কবি ও কবিতা

পাবলিক :

কি ? কবিতার বই কিনবো ? সে কি ? কিনলেই হলো নাকি? পড়বো কি করে ? গাইড বই কই ?ভূষণবাবুর টীকা-আলোচনা কই ? সুনীল-শ্রীজাত ব্লাফ মেরে গছিয়ে দেবেন তারপর কি সে সব মাল সাজিয়ে রাখবো? এই সেদিন ড্রয়িঙ রুমের শো-কেস’টাও দিলাম বেচে, আসলে বিপিন ভালো একটা অফার দিলে,এমনিতেই ঘুণ পড়বে মনে হচ্ছিলো ;দিলাম চালান করে আর কি। কাজেই ওই কাব্যির কেতাব যে সাজিয়ে রাখবো তারও উপায় নেই। read more