শুভ নববর্ষ

আজ থেকে প্রায় বছর পাঁচেক আগে আমরা ‘ও কলকাতা’ শুরু করেছিলাম পয়লা বৈশাখের দিন। খুবই সাধারণ, আড়ম্বরহীন একটা পোস্ট – এসে গেল ‘ও কলকাতা’র সাইট এবং সেই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যতটুকু নিজেদের বলা যায়। কয়েক বছর কেটে গেছে – অনেক নতুন, পুরনো লেখক ওয়েব সাহিত্যকে ঋদ্ধ করেছেন তাঁদের রচনাশৈলীতে। আমরাও অনেকরকম পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছে – হয়ত সব সময়ে নিয়মিত থাকতে পারিনি, কিন্তু আপোষ করিনি আমাদের নিরন্তর প্রচেষ্টায়। সময়ের সাথে দেখেছি অন্য কিছু ওয়েব পত্রিকাও অবয়ব বদলেছে।বদলেছি আমরাও। আজ অনেক বেশি মানুষ বাংলায় টাইপ করেন, পড়েন – অস্বীকার করতে অসুবিধে নেই যে ডিজিটাইজেশনের পথে আমরা সবাই হাঁটছি একটু একটু করে। সেই যাত্রাপথে আমাদের নতুন উপস্থাপনা – আমাদের “ওকলকাতা’ মোবাইল অ্যাপ। আপাতত শুধু অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মের জন্য শুরু হলেও আমাদের ইচ্ছা অন্যান্য মোবাইল প্লাটফর্ম বা অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যেও কি করে এই অ্যাপটিকে পৌঁছে দিতে পারি। Continue reading “শুভ নববর্ষ”

গল্প প্রতিযোগিতা ২

জবরদস্ত গরম, ফাইন্যান্সিয়াল ইয়ার এন্ডিং, আর সরস্বতী ও ভ্যালেন্টাইন পুজোর আফটার এফেক্ট…..

হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, মধুর গলাধাক্কা, বা চাকরি তে ধাপ্পা, পরীক্ষায় ফেল বা ভুল করে জেল, কত কিছুই তো ঘটে আমাদের জীবনে……

তাহলে আর দেরী কেন? খুঁচিয়ে বের করুন আপনার জীবনে ঘটে যাওয়া সেই পুরনো বা নতুন ঘটনাটি, আর লেগে পড়ুন পাশবালিস পাকড়ে, কাগজ কলম নিয়ে। লিখে পাঠান আমাদের, অনধিক ৫০০ শব্দের মধ্যে। শর্ত একটাই, লেখা হতে হবে কৌতুকী। দম ফাটা হাসি, বা মুখ টিপে হাসি – আমরা দুটোতেই রাজি।

পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায় – okolkata@googlegroups.com এ।

সেরা লেখার জন্য এবারেও থাকবে আকর্ষনীয় পুরস্কার।

 

 

 

গল্প প্রতিযোগিতা ফলাফল

Galpo Protijogita Result - Small

অপেক্ষা শেষ, ও কলকাতা আয়োজিত প্রথম গল্প প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হল –

১। মৌমিতা বিশ্বাস – পরিচয় 

২। নীলাঞ্জন ব্যানার্জি – পৌরুষ

৩। অনিরুদ্ধ সেন – ঘণ্টা দুয়ের পালা

৪। সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় – ফেরা

প্রথম ৪ প্রতিযোগীর জন্য রইল ওকলকাতার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।  আপনাদের প্রাপ্য পুরষ্কার গুলি খুব শিগগিরই আপনাদের কাছে পৌঁছে যাবে।

গল্প প্রতিযোগিতা

সেই কবে আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে রামগিরি পর্বত থেকে যক্ষ তার বিরহের বেদনা আর্তি পাঠিয়েছিল প্রিয়ার কাছে, মেঘরাজের হাত ধরে; সেই তখন থেকেই বর্ষার সঙ্গে প্রেমের এক অটুট সম্পর্ক। তবে শুধু প্রেম-ই বা বলা যায় কি করে? প্রেমের সঙ্গে আবহমানকাল থেকে এক অদৃশ্য বন্ধন রয়েছে পাপের – প্রেম পাপ নয়, কখনই, কিন্তু প্রেমের গভীরতা অনেক সময় মানুষের পাপ-পুণ্যের বোধ কে ভোঁতা করে দেয়। বহু অপরাধের বীজ, অলক্ষ্যে রোপিত হয়ে যায় প্রেমের গর্ভে। এই বর্ষায় তাই “ও কলকাতা” আয়োজন করেছিল এক গল্প প্রতিযোগিতা ।

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রতিটা গল্প খুব মন দিয়ে পড়ে আমরা সেরা দশ বাছাই করতে পেরেছি। রইল সেই লিস্টি এখানে। এই দশের মধ্যে থেকে চারটি গল্প সেরা তিনটি পুরস্কার পাবে। কবে? সেজন্যে আবার কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে ‘ও কলকাতা’বাসীকে। যাঁরা প্রথম দশে রইলেন, জানবেন আপনারা খুব ভাল লিখেছেন। যাঁরা বাদ গেলেন – আসছে বছর আবার হবে! সেরা চারটি গল্প ‘ও কলকাতায়’ ছাপা হবে খুব শিগগিরই।

ছবি এঁকেছেন - পার্থ মুখার্জী
ছবি এঁকেছেন – পার্থ মুখার্জী

অনিরুদ্ধ সেন – ঘন্টা দুয়ের পালা 

অর্ক ব্যানার্জি – শ্রাবণের দুর্যোগের রাত এবং একটি চুমু

সহেলী রায় – এক্সকার্শন

রাখী নাথ কর্মকার – বিষাদঘন বর্ষা আর পোয়েটিক জাস্টিসের পানসে আলাপচারিতা

সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় – ফেরা

শংকর সেন – পাপ নেই

মৌমিতা বিশ্বাস – পরিচয়

নীলাঞ্জন ব্যানার্জি – পৌরুষ

শর্মিষ্ঠা বল নিয়োগী – আজ শ্রাবণে বাতাস কাঁপে

অংশুপ্রতিম দে – নট রিচেবল 

প্রথম পুরস্কার ১০০০ টাকা মূল্যের ফ্লিপকার্ট ভাউচার (১ টি) দ্বিতীয় পুরস্কার ৫০০ টাকা মূল্যের ফ্লিপকার্ট ভাউচার (১ টি) তৃতীয় পুরস্কার ২০০ টাকা মূল্যের ফ্লিপকার্ট ভাউচার (২ টি)।

হ্যাশ-ট্যাগ

আমরা ‘ও কলকাতা’ বা তার আগে অন্যান্য সাইটগুলি নিয়ে যতটুকু ইন্টারনেটে বাংলা ভাষা চর্চা করতে চেষ্টা করেছি, সেখানে একটা বড় রকম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার দুর্নিবার আকর্ষণ। আমি অনেক লেখক বন্ধুদের জানি যারা ফেসবুকে লিখতে খুব অভ্যস্ত – বেশ লেখেন – প্রায়ই লেখেন, কিন্তু পত্রিকার জন্য লেখা চাইলে কিন্তু কিন্তু করে কাটিয়ে দেন। কারণটা অনুমান করা মুশকিল নয় – ফেসবুকে লিখলে যে টাটকা লাইক পড়ে, গরমাগরম উত্তর-প্রত্যুত্তর ভিড় করে, তার হাতছানি এড়িয়ে চলা খুবই অসম্ভব – আর সেই ক্যারিশমার বাংলা সাইট আমি খুব বেশি দেখিনি – ভিড় যতটুকু, ততটুকু খুবই লোকালাইজড, কিছু পরিচিত গণ্ডীর মধ্যে। যাইহোক, সেই পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটার জন্য এই পোস্ট নয়। আমার একটু অন্য উদ্দেশ্য আছে।

আমরা লেখা চেয়ে পাচ্ছি না – আর আপনি ফেসবুকে লিখে আনন্দ পাচ্ছেন, এর ফ্লিপসাইডটা দেখা যাক। সাইটে লেখা পাবলিশ হলে সেটাতে তাৎক্ষনিক মজা সেভাবে না পেলেও লেখাটি থাকবে ফেসবুকের বাইরে, পড়া, শেয়ার করা, খুঁজে পাওয়া খুব সহজ। এখন আমরা যদি এই দুটি ধারনাকে একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করে, এক সাথে ব্যবহার করি, তাহলে কেমন হয়? অর্থাৎ আপনি লিখলেন ফেসবুকে, আর আমরা সেই লেখাটি নিয়ে নিলাম ‘ও কলকাতা’য়। তাহলে একসাথে দুটো কাজই কিন্তু হল। তাই না? ফেসবুকে হ্যাশট্যাগিং এসে যাওয়ার পরে – কাজটা খুব সহজ হয়ে গেছে। আপনি যদি লেখাটি আমাদের সাথে শেয়ার করতে চান – তাহলে ফেসবুকে পোস্ট করার পর ‪#‎okolkata‬ এই ট্যাগটা দিয়ে দিন। আর আমরাও সেই দেখে আপনার লেখাটি চিনে নিতে পারব।

খুবই পরীক্ষামূলক-ভাবে এই চিন্তাভাবনা করেছি – এখন আপনারা যদি আপনাদের মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করেন আর এগিয়ে আসতে চান, তাহলে বাংলা ভাষার লাভ বই ক্ষতি হবে না।

অনেক শুভেচ্ছা সবাইকে।

কলকাতার বর্ণমালা

অ-এ অজগর না আলুসেদ্ধ’র গল্প? B for Ball না ব-এ বিরিয়ানি? আপনি বাঙালি হলে কোন বর্ণমালা পড়বেন সেটা নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না। ও কলকাতা-তে আসছে নতুন বর্ণপরিচয় – কলকাতার A to Z.

আমরা লিখছি, যখন যা মনে পড়ছে, শহরটায় ঘুরতে ঘুরতে, ঘেমেনেয়ে অফিস-কলেজ যাতায়াতে, আরসালানের তীব্র শীতাতপনিয়ন্ত্রণে বসে। চাইলে আপনারাও লেখা পাঠাতে পারেন, কলকাতা বিষয়ক যে কোনো রম্য রচনা। তুলে ধরুন তিলোত্তমার অপরূপ কিছু দিক, সুদূরে বসে চোখের কোণ মোছা পাঠকদের জন্যেও।

এই বিষয়ে এখনও অবধি প্রকাশিত পোস্টগুলো পড়া যাবে এই লিঙ্কে

চোখ রাখুন ও কলকাতার নতুন বিভাগ ‘কলকাতা’তে। লেখা পাঠান এই ঠিকানায় – okolokata@googlegroups.com

সম্পাদকের কথা

‘ও কলকাতায় সম্পাদকের কোন কলাম নেই – থুড়ি, ছিল না। সেই যখন প্রথম ওয়েবসাইট-টি শুরু হয়েছিল, তখন গোড়ার কথা হিসেবে যে কথাগুলো না বললেই নয় – শুধু সেটুকুই ছিল। তারপর অনেক জল বয়ে গেছে। যারা আমাদের প্রথম থেকে দেখে আসছেন, তারা জানেন যে সাইটটি আমূল ডিজাইন বদল করেছে – এবং এখনও রদবদল হচ্ছে। প্রথমে সেই প্রসঙ্গেই জানিয়ে রাখি যে এই পরিবর্তন আমাদের পাঠকদের মতামতের ভিত্তিতেই করা হয়েছে। যেহেতু ‘ও কলকাতা’র কোন সংখ্যা নেই – তাই সম্পাদকীয় সেভাবে প্রয়োজন পড়েনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমাদের কথা পাঠকদের জানানর জন্য এই বিভাগটির অত্যন্ত প্রয়োজন আছে – যেখানে অন্তুতঃ আমরা নিজেদের তরফ থেকে সাইট সংক্রান্ত কিছু কথা আপনাদের জানাতে পারি।

আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই – যার বড় অংশ হল নতুন লেখার অভাব। সত্যি কথা বলতে কি এই অভিযোগ স্বীকার করে নেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। ভালো লেখার অভাব আছেই – আর লেখা পছন্দ না হয়ে তা প্রকাশ করা হয় নি। এই কারণে পাতা ভরিয়ে দেওয়ার মত লেখা কোনদিনই ভিড় করেনি আমাদের পত্রিকায় – বরং চলেছে শম্বুক গতিতে। এ দুর্দিন আমাদের নয় – ইন্টারনেটে বাংলা ভাষা নিয়ে উৎসাহী মানুষের অভাব। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন সাইটে বাংলা নিয়ে লেখেন, চর্চা করেন অনেকেই – কিন্তু ওয়েব মাধ্যমে সেই কাজটুকু এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে প্রবল অনীহা সকলেরই। আপনাদের কাছ থেকে ভালো লেখে পেলে আমরাও ওয়েব ম্যাগাজিন হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হব – এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। যাইহোক, এ পুরনো কাসুন্দি – এই নিয়ে ঘেঁটে কোন লাভ নেই। নতুন কথা হচ্ছে এই যে আমাদের একটি নতুন বিভাগ শুরু হতে চলেছে – তা হল, শুধুমাত্র কলকাতা নিয়ে। আশা করছি এই উদ্যোগটিও জনপ্রিয় হবে।

গত বছর একটি সেমিনারে আয়োজন করা হয়েছিল ‘সৃষ্টিসুখ’, ‘ইচ্ছামতী’ এবং ‘ও কলকাতা’ র তরফ থেকে। অনেকে হয়তো সেই সেমিনারে যোগ দিয়েছেন। শুনেছেন আমাদের কথা। এরপর ‘ও কলকাতা’-র তরফ থেকে আরও একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে – তা হল একটি বাংলা ব্লগ ডাইরেক্টরি করার, যেখানে সমস্ত বাংলা ব্লগকে এক জায়গায় পাওয়া যাবে। এ ব্যাপারে অনেকেই আমাদের সাহায্য করেছেন তাদের লিঙ্ক পাঠিয়ে, ‘ও কলকাতা’র সঙ্গে লিঙ্ক এক্সচেঞ্জ করে – কিন্তু বলা বাহুল্য তা পরিমিত নয়। আরও অনেকেই বাংলা ব্লগ করেন – সকলকে এই ডাইরেক্টরিতে না পেলে এই উদ্যোগটিও অসমাপ্ত থেকে যাবে। তাই আপনাদের অনুরোধ করছি আরও একবার।

বাংলায় তৈরি হলেও অনেক ওয়েবসাইট মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নানা কারণে। আবার একটা ভালো দিকও দেখা যাচ্ছে আজকাল অনেকেই ইউনিকোড বাংলা শিখে বাংলায় লিখছেন, কমেন্ট করছেন। বাংলায় খবরের কাগজগুলিও ইউনিকোডের দিকে এসেছে ধীরে ধীরে। শুধু বাংলা ভাষা কেন, সব ভাষার ভবিষ্যৎ কিন্তু ওয়েবেই। ‘ও কলকাতা’র পক্ষ থেকে এরকম কিছু নতুন উদ্যোগ হয়তো ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে। আপনারা সকলে সঙ্গে থাকুন।

শুভেচ্ছা। পুজোর দিনগুলো কাটুক অনেক আনন্দে।