আজও একটি ব্র্যান্ড

তিনি নদীই হোন বা দেবী  তিনি আমাদের কাছে পূজনীয়া সর্বশুভ্রা সরস্বতী । নদী বা দেবী কিম্বা  দুটোই ভেবে নিয়ে আমরা সরস্বতীর পায়ে বছরের পর বছর চোখ বুঁজে ফুল ছুঁড়ে আসছি  ।  কিন্তু যদি ভেবে নিই তিনি আমাদের মধ্যে কোনো একজন মেয়ে তাহলে সমাজের স্তরে স্তরে এমন মেয়ের গল্প কিন্তু আমাদের খুব চেনাজানা । read more

অন্য অহল্যা

[spp title=”অন্য অহল্যা- ১”]

অভিধানে অহল্যা শব্দটির অর্থ হল: লাঙল চালনার অযোগ্য এমন ভূমি আর সংস্কৃতে ন-হলা বা যা হল-কর্ষণযোগ্য নয়। এই অহল্যা নাম্নী নারীটি অযোনিসম্ভবা অর্থাৎ কোনও নারীর থেকে তার সৃষ্টি হয়নি। সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার নিজ হাতে গড়া অমন তিলোত্তমা অন্য কোনও পুরুষের হয়ে উঠুক সেটিও বোধ হয় ব্রহ্মা মনেপ্রাণে মানতে পারেননি তাই বুঝি অহল্যা ছিলেন চিরকুমারী এবং সেখানেই তার নামটি সার্থক। আবার অভিশপ্ত পাথরে রূপান্তরিত অহল্যা সত্য সত্য‌ই হল-কর্ষণযোগ্য নয় এবং নিষ্ফলা । সেদিক থেকেও নামের আক্ষরিক অর্থটির সাথে সাযুজ্য রয়েছে। read more

ভোটরঙ্গ

বুড়ির ভোট, ভোট বুড়ির।
-সব শেষ গো বাবু! সব শেষ! এতক্ষণে দুদন্ড শান্তি। ওদের চেঁচামেচি আর নিতে পারছিনা গো বাবু। আই-টি-ইউ থেকে আই-সি-ইউ এসেছি এবারে..বুড়ীটা হাউমাউ করে ডুকরে উঠল।
বললাম, কেন গো কি হল তোমার আবার?
বুড়ী বলতে শুরু করল..
-কত ডাক্তারবাবুর কত মত! কি ঝগড়া তাদের নিজেদের মধ্যি ! চীৎকার, চেঁচামেচি সব শেষ। এবার কালকের রাত পুইলেই পরীক্ষ্যে! তারপর সব রিপোর্টগুলো আসতে শুরু করবে। একে একে জানতি পারবা আসল রোগ কোথায়। তখন বুঝেশুঝে আবার আমাকে আবার না আই-সি-ইউ থেকে আই-সি-সি-ইউ তে ট্রান্সফার করে দেয় । ততক্ষণ চলুক আমাগো গীতাপাঠ, চন্ডীপাঠ!
বললাম, খুব অসুস্থ মনে হচ্ছে তুমি!
বুড়ি বলল..
-আমি যত না অসুস্থ ওরা আরো আমাকে রোগে কাবু করে দিতেছে। জয় বজরংবলী! বাঁচিয়ে দাও এবারের মত। আর অনিয়ম করব না। জয় মা দক্ষিণা কালী! বাঁচিয়ে দাও এবারের মত। জয় নাস্তিকস্য মুনিঃ মাতা ! এবারটার মত আর আমাকে আই-সি-সি-ইউতে ট্রান্সফার কোরোনা। একে আমার দেনা গলা অবধি। তারপর আর আই-সি-সি-ইউর যা খরচ! পারবোনি বাপু পারবোনি অত ! একেই গুচ্চের টেস্ট করাতে করাতে ফতুর । শরীলের কোনো অংশ বাদ নেই গো বাবু।
বললাম, দাঁড়াও , দাঁড়াও সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে আমার! কেন ভর্তি হলে হাসপাতালে?
বুড়ি বলল..
-ভর্তি? আমি তো হ‌ই নি বাবু। ওরাই তো জোর করে আমারে ভর্তি করিয়েই দিলে! পাঁচবছর অন্তর অন্তর আমাকে নিয়ে বেকার টানাহ্যাঁচড়া। চামড়াটা ফুটিয়ে ফুটিয়ে শেষ। বলি তোমরা কি আমার নতুন চামড়া করে দিতি পারবা? তোমাদের না হয় হৃদয় বলে কিস্যু নেই। আমার হৃদয়টাতো গেল বাপু, তোমাদের ভালোবাসার চোটে! তোমরা এদ্দিনে বুঝতি পারলে? আমার মাথার অসুখটা কোনোকালে ছিলনা? অযথা মাথায় ফুটো করে, নল ঢুকিয়ে ব্যথা দিলে! এবার বলদিকিনি সত্যি করে, আমার রোগ সারাতে পারবে কিনা? আমার কিডনি দুটো পারফেক্ট ছিল। তোমরা বললে, পাথর হয়েচে। অপারেশন করে একটা কিডনি বাদ দিয়েই দিলে! জীবনে একটা বিড়ি-সিগারেট খাইনি। তোমরা টেস্ট করে বললে ফুসফুসে কালো প্যাচ আমার। আমার নাকি ফুসফুসে ক্যান্সার শুরু হয়েছে সবেমাত্র। দুটো কেমো দিয়ে দিলে!কেমো নিয়ে সে কি কষ্ট আমার! আমি যে আর ধকল নিতে পারছিনা বাবু!
বাপ্‌রে! এ কি অবস্থা তোমার! বলে উঠলাম
বুড়ি বললে..
-এবার বল তো আমাকে নিয়ে আর কত খেলবে? আমি জেনে গেছি গো বাবু, আমার এ রোগ সারার নয়। তোমরা কেউ পারবেনা আমাকে আগের মত সুস্থ করে দিতে। তাহলে? তাহলে কেন আমার ওপর এত অত্যাচার? মুক্তি দাও না আমায়! আমাকে সাজিয়ে গুছিয়ে এসি কেবিনে রেখে দিয়ে লোককে দেখাচ্ছো আমাকে তোমরা কত্ত ভালোবেসে চিকিতসে করাচ্ছো। এর শেষ কবে হবে বাবু? কবে হবে এই ছিনিমিনি খেলার শেষ? আমি যে বড্ড অসুস্থ বাবু! আর নিতে পারছিনে তোমাদের এই লোক দেখানো আদিখ্যেতা!
বুড়ি কাঁদতে কাঁদতে আঁচলের খুঁট দিয়ে চোখের কোণা মুছতে লাগল। আমি হতভম্ভের মত চেয়েই র‌ইলাম ওর দিকে। আমি আজ কিংকর্তব্যবিমূঢ়। বুড়িকে বাঁচানোর ক্ষমতা নেই আমার মত একরত্তির। বুড়ির আছে লোকবল। আমার আছে বুড়ি। কিন্তু আমারো তো দায় বুড়িকে বাঁচানোর। তবুও…. বুকের মধ্যে চাপ অনুভূত হল প্রচন্ড।
মনে হল বলি” চলো তো বুড়িমা। হাসপাতালের বন্ডে স‌ই করে তোমাকে আজ ছাড়িয়ে নিয়ে যাই!” read more