C ফর চুলকানি

বাঙালির কিছু কিছু সহজাত প্রবৃত্তি আছে- এই যেমন, কাঠি করা, বাঁশ দেওয়া, কাঁকড়াপনা এবং চুলকুনি। না, এ চুলকুনি শ্রাবন্তীর মিষ্টি সুরের স্যালিকল জনিত চুলকুনি নয়, সানি লিওনের কোমল ত্বকের চুলকুনিও নয়- এ হল আদি এবং অকৃত্রিম  কুচো ক্রিমি টাইপ চুলকুনি। মানে, এমনি দিব্যি থাকে কিন্তু কখন যে কী কারণে চিড়বিড়িয়ে উঠে চুলকাতে বাধ্য করবে তা কেউ জানেনা। মানে ধরুন আপনার প্রতিবেশী ক’ বাবুর নতুন কেনা শেভ্রলে দেখে হঠাৎ  আপনার পশ্চাৎ দেশে সুড়সুড়ি জাগতেই পারে এবং আপনি মাথা নেড়ে নেড়ে সকালে বাজারে গিয়ে বলতেই পারেন, ” সব ঘুষের পয়সা মশাই, তার ওপর ক’ বাবুর ধিঙ্গি মেয়েটা (গলা নামিয়ে) কোথায় কি করে বেড়ায় কে জানে…”, এবং এই বাক্যটি আপনার মুখ থেকে নির্গত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই অদৃশ্য চুলকুনিতে যেন ঊর্বশীর নরম হাতের ছোঁয়া লাগে! আহা! কী আরাম! read more

মা আসছেন

প্রতিবারই ঝামেলা লাগে। এবছরও লাগলো। কি না, সরস্বতীর একপাটি স্টিলেটোজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা! যাবেই বা কি করে, মামার বাড়ী থেকে ফিরে এসে সব এক্কেরে হেদিয়ে পড়ে প্রতি বছর। কোথায় কি ছুঁড়ে ফেলে তার কোন ঠিক-ঠিকানা নেইকো। একে তো চার-চারটে দিন ধরে অখাদ্য-কুখাদ্য গিলে পেটের ভেতর কুরুক্ষেত্র, তার ওপর ভুলভাল মন্তর শুনে শুনে কানে খোল জমে হালত আরই খারাপ। পইপই করে দুগ্‌গা বলতে থাকেন যে ওরে ম্যাক ডি তে যাসনা, আর ওই ডালডা মারা বিরিয়ানি তো নৈব নৈব চ …তা সেকথা কেউ শুনলে তো। পেত্যেকবার ফিরে এসেই অশ্বিনীকুমারদের ডবল ফীজ দিয়ে বাড়ীতে ডাকতে হয়! আর মহাদেব এমনিতেই ন্যালাখ্যাপা গোছের, ছেলেমেয়েদের শরীর খারাপ দেখে একেবারে গুষ্টির তুষ্টি করতে থাকে বৌয়ের। আবব্বে, তোর ছেলেমেয়েগুলো একেকটা কি স্যাম্পেল সেটা আগে দ্যাখ। read more

চাঁদের পাহাড়

ফিল্ম    রিভিউ : চাঁদের পাহাড় ( The Mountain Of Moon )
মূল কাহিনী : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
পরিচালনা : কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়
রিলিজ : ২০শে ডিসেম্বর ২০১৩
দৈর্ঘ্য : ১৪৮ মিনিট

আজ যখন “চাঁদের পাহাড়” দেখতে যাচ্ছিলাম, তখন সত্যি বলতে কি মনের মধ্যে আশার চেয়ে আশঙ্কাই বেশী ছিল। এর আগে যতখানি আশা এবং উদ্দীপনা নিয়ে “মিশর রহস্য” দেখতে গিয়েছিলাম ঠিক ততখানি-ই বিমর্ষ এবং ভগ্নমনোরথ হয়ে ফিরতে হয়েছিল। তাই এবার যাকে বলে একেবারে আগে থেকেই বেশ তৈরি হয়ে ছিলাম। বিভূতিভূষণের এই বিখ্যাত ক্লাসিক জীবনে একবার-ও পড়েননি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া বেশ শক্ত এবং পড়ে নিজেকে একবার-ও  গল্পের নায়ক শঙ্করের জায়গায় কল্পনা করেননি এমন মানুষ-ও বোধহয় বিরল। এরকম একটি কাহিনী নিয়ে যখন কোন পরিচালক ছবি বানাতে বসেন তখন স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ওপর মানুষের প্রত্যাশার চাপ একটু বেশীই থাকে, কমলেশ্বরবাবুর ওপরেও ছিল। তাঁর পরিচালিত “মেঘে ঢাকা তারা” কিন্তু জানান দিয়েছিল যে তিনি অন্য জাতের পরিচালক। তাই হয়তো শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস্‌ অনায়াসেই তাঁর ওপর ভরসা করতে পেরেছে এবং প্রযোজনার ক্ষেত্রে কোনরকম কার্পণ্য না থাকার ফলে এটিই এখনো অবধি টলিউডের সবচেয়ে বেশী বাজেটের ছবি ( ১৫ কোটি ) । read more