ছায়া ছবির সঙ্গী (৯)

বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়’এর যে গল্প থেকে ‘বিবাহ অভিযান’ সিরিয়ালটি তৈরী হয়, তার নাম ‘গনশার বিয়ে’। এই গল্প থেকে বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘বর যাত্রী’ হয়ে গেছে অনেকদিন। সেই চলচ্ছবি থেকেই উঠে এসেছিলেন পরবর্তী সময়ের নামী অভিনেতা কালী ব্যানার্জী। শোনা যায়, ওঁনার কথা আটকে যাওয়ার যে ঝোঁক, সেটা ওই গনশার চরিত্র করার সময় থেকেই তার সঙ্গে থেকে যায়। কারণ গনশা ছিল তোতলা।

ছায়াছবির সঙ্গী – অ আ এবং ই ঈ (৮)

আগের পর্ব

কারিগরি কচকচানি অনেক হ’ল। আর ওসব আলাদা করে লিখব না। যখন যেমনভাবে সামনে আসবে, আলোচনা করা যাবে তখন। বরং কাজের কথা বলতে বলতে কাজের বাইরের কথা কথা কিছু বলি। কাজের বাইরের বলে উল্লেখ করলাম বটে কিন্তু এই অকাজ-গুলো আমাদের কাজের সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে আলাদা করাই মুশকিল। সত্যি কথা বলতে, এসব মুহূর্তই আমাদের কষ্ট ভুলিয়ে আনন্দময় করে রেখেছে আমাদের কর্মজীবন এবং তা কোনো কোনো সময় যথেষ্ঠ রঙীন। read more

ছায়াছবির সঙ্গী – অ আ এবং ই ঈ (৭ )

আগের পর্ব

কোলকাতার চলচ্চিত্র জগতে, এর পরের পরিবর্তন যা এলো, তা হল আজকের ডিজিটাল ব্যবস্থা। সবটাই এক সাথে ডিজিটাল হয়ে যায়নি। ফিল্ম অর্থাৎ সেলুলয়েড চলে যেতে আরও কয়েক বছর সময় নিয়েছে। প্রথম ডিজিটাইজ্‌ড হয় এডিটিং এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ডাবিংও। read more

ছায়াছবির সঙ্গী – অ আ এবং ই ঈ (৬)

আগের পর্ব

বাংলা চলচ্ছবির সঙ্গে আমার চলন এমন একটা সময়, যখন তার কারিগরী পরিবর্তন বড় দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন নতুন কর্ম পদ্ধতি, নতুন নতুন কারিগরী বিদ্যা এসে পড়ছে এই চলচ্ছবি নির্মাণের আঙিনায়। read more

ছায়াছবির সঙ্গী – অ আ এবং ই ঈ (৫)

আগের পর্ব

গল্প অনুযায়ী, সর্বোপরি চিত্রনাট্য অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবেই প্রথম দৃশ্যের পর দ্বিতীয় দৃশ্য, তারপর তৃতীয় দৃশ্য এভাবে পরপর সাজাতে হয়। এই সাজানোর পদ্ধতিকে বলা হয় সম্পাদনা, অর্থাৎ এডিটিং। চিত্রনাট্য যেমন ভেঙে যায় বিভিন্ন দৃশ্যে, ক্যামেরায় ধারন করা সেই দৃশ্যগুলি তেমনি ভেঙে যায় বিভিন্ন শট’এ। ছবিটি পূর্ণ রূপ পেলে দৃশ্যের আর কোনও অস্তিত্ব থাকেনা, সেটি হয়ে যায় অনেক অনেক শট’এর সমষ্টি। read more

ছায়াছবির সঙ্গী – অ আ এবং ই ঈ (৪)

আগের পর্ব

চলচ্চিত্রায়নের মূল ভাগ তিনটি। প্রথমটি শুটিংয়ের আগের প্রস্তুতি, যাকে বলা হয় প্রি-প্রোডাক্সন, যার কথা আগে বলেছি। এর পর শুটিং। আর শেষে থাকে এডিটিং, ডাবিং, মিউজিক, এফেক্টস, মিক্সিং ইত্যাদি ইত্যাদি। শেষের এই পর্বটিকে বলা হয় পোস্ট প্রোডাক্সন। read more

ছায়াছবির সঙ্গী – অ আ এবং ই ঈ (৩)

আগের পর্ব

3.1

শুরু হ’ল ‘অপূর্ণ’র শ্যুটিং। আমার কাছে তো সবই বিস্ময়, সবই নতুন। অজানাকে জানার এক তীব্র বাসনা। এই বাসনাটা ছিল বলেই হয়ত আমি একটা ছবিতেই যাবতীয় কারিগরি কাজগুলো সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল হয়ে গিয়েছিলাম। সেজন্যে অবশ্যই দেব দত্তদা’র অবদান অনেক। উনি দিনের পর দিন আমায় প্রতিটি পদক্ষেপ অতি যত্নের সঙ্গে বুঝিয়ে দিতেন, শিখিয়ে দিতেন। আজ জানিনা, উনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন, আদৌ বেঁচে আছেন কি না। যেখানেই থাকুন ভালো থাকবেন দেব দত্তদা। আমার প্রণাম নেবেন। read more

ছায়াছবির সঙ্গী – অ আ এবং ই ঈ (২)

আগের পর্ব

জল্পনা চলছিল টেলিভিশন ধারাবাহিকের, সেসব শিকেয় তুলে, শুরু হ’ল নতুন চলচ্ছবির কাজ। যদিও তখন সব কাজই আমার কাছে নতুন এবং সমান আকর্ষনীয়, তবু সেলুলয়েডে পরিপূর্ণ একটি চলচ্ছবি তৈরী হবে এবং আমি তার অংশীদার, এটা ভেবেই উত্তেজিত হয়ে পড়লাম। read more

ছায়াছবির সঙ্গী – অ আ এবং ই ঈ

ছোটবেলায়chhaya-chhobir-songi-logo আমরা একটা খেলা খেলতাম। হাতের দুটি আঙুলের আটটি কড়-এর মধ্যে একশো গুনতে হবে, কিন্তু কোনও কড়-এর পুনরাবৃত্তি করা চলবে না। যে এর ভেতরের কায়দাটা জানেনা, তাকে বেশ মস্তানি দেখিয়ে বলা হত – “এই পারবি, পারবি”? তবে ব্যাপারটা জানা হয়ে গেলে দেখা যেত তেমন কিছু না। একটা লোক ঠকানো কায়দা মাত্র। আমরা আটটি কড়কে এই ভাবে ভাগ করতাম, “লাল-নীল-বাক-সো-এই-দেখো-এক-শো”। ব্যাস আট করে হয়ে গেলো একশ গোনা। তবে মোটেও এসব কায়দায় নয়, গুনে গুনে একশোটি বছর পার করে দিল ভারতীয় চলচ্চিত্র। তার বয়স এখন সত্যিই একশো। ১৯১৩ সালে দাদা সাহেব ফালকে পরিচালিত রাজা হরিশ্চন্দ্র চলচ্ছবি থেকে শুরু হয়েছিল সে যাত্রা। নানান ঝড়-ঝঞ্ঝা পেরিয়ে, চরাই উতরাই পেরিয়ে, পরীক্ষা নিরীক্ষা পেরিয়ে আজ ভারতীয় চলচ্চিত্র বিশ্ববন্দিতই শুধু নয়, সর্বজন গ্রাহ্য এবং সর্বত্র সম্মানিত। read more