পয়লা বৈশাখ

কথায় বলে অন্ধের কি বা দিন, কি বা রাত। আমরা যারা লক্ষীসাধনায় মগ্ন হয়ে হত্যে দিয়ে বাইরে পরে আছি, আমাদের একই অবস্থা প্রায়। কবে পয়লা বোশেখ, কবে পঁচিশে, এক্সেল শীট, প্রজেক্ট ডেডলাইন আর কেপিআইয়ের চক্করে সব ঘেঁটে ঘ হয়ে যায়। একটা নিয়মে নিজেকে বাঁধতে বাঁধতে কবে যে নিয়ম-দাস হয়ে গেছি, টের ও পাইনি। মাস পয়লার মোটা মাইনে আর দিনান্তে স্কচের অমোঘ টানে নিজেকে কবেই যেন আস্তে আস্তে হারাতে শুরু করেছিলাম। আমার মধ্যের আমিটা সব ছেড়ে-ছুঁড়ে বারবার পালাতে চেয়েছে, আর তাকে আটকে রেখেছে বাইরের আমি। তাই পয়লা বৈশাখের নতুন জামা, আর পঁচিশের দিন শেষের কবিতা হাতে নিয়ে সারাদিন কাটিয়ে দেওয়ার বিলাসিতা চিন্তার বাইরে আর বেরোতে পারেনি। read more

সিনেমার কুইজ – ৫

আজ যে সিনেমাটি নিয়ে আমাদের প্রশ্ন,তার পরিচালক ছিলেন আর্কেওলজিকাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার কর্মচারী।

বদলা নয়, বদল চাই

poribesh diboshসারাদিন অফিস ঠেলে বাড়ি ফিরছি। সায়েন্স সিটির সামনে বিস্তর জ্যাম। বাতাসে একরাশ ধুলো, মাথার ওপর ফ্লাইওভার – বিরক্তি এড়াতে এফ এম। অবশ্য আজকাল রেডিও বিরক্তি কমায় না বাড়ায় সেটা ঠিক বোঝা যায় না – তাও জ্যাম, ঘাম আর সারাদিনের ক্লেদ ভুলতে চারানার গান আর বারো-আনার এডভার্টাইজমেন্ট নিয়ে ঐ এক এফএমই সম্বল। এমন সময় এই রেডিওই মিনে করাল জুন পাঁচ তারিখ বিশ্ব পরিবেশ দিবস। read more

পরিবর্তিত প্রাকৃতিক পরিবেশ – একটি বিপদ সংকেত

টিয়ার নগর জীবনআজ ৫ই জুন – বিশ্ব পরিবেশ দিবস। সারা বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে মহা সমারোহে। প্রথম যখন এই তারিখটার সাথে পরিচয় ঘটে তখন জোর কদমে পরীক্ষা প্রস্তুতি।তাই দিনটির গভিরতা না মেপেই মুখস্ত করেছি। পরে যত দিন পার হয়েছে বুঝেছি ৫ই জুন শুধু মাত্র একটি দিন নয় এটি একটি ভাবনা, প্রয়াস আগামী প্রজন্মকে এক বাসযোগ্য ভূমি দিয়ে যাবার। লড়াই নিজেকে বাঁচানোর। লড়াই প্রকৃতিকে প্রাত্যহিক ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা করার। আসলে লড়াইটা আমাদের নিজের সাথে নিজেদেরই। বিলাস বহুল জীবন আর স্বচ্ছন্দের বস্তুটি কাছে পেতে মরিয়া আমরা। সেই লোভী মনটাকে সংযত করতে ঠিক যেমন স্বাধীনতার চেতনাকে জাগাতে হয়েছিল বিভিন্ন অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা। ঠিক তেমনি আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে পরিবেশ দূষণের প্রভাবে কলুষিত পৃথিবীকে বাঁচাতে এই বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের প্রয়োজনীয়তা। রাষ্ট্রপুঞ্জ, ১৯৭২ সাল থেকে মানব পরিবেশ সম্পর্কিত সন্মেলনের মাধ্যমে শুরু করে এই লড়াই। যাতে বর্ণ, ধর্ম, জাত পাত ভুলে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে আসে বিশ্বের মানুষ। ১৯৭৪ সালের ৫ই জুন থেকে প্রতিটি দেশের একটি শহর আয়োজকের ভূমিকায় একটি নির্দিষ্ট থিমের উপর ভিত্তি করে পালন করে আসছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। উদ্দেশ্য মানুষকে একত্রিত করে পরিবেশ ভাবনা ও সচেতনতাকে জাগিয়ে তোলা। পরিবেশ পরিবর্তনের প্রভাবে বদলে যাওয়া পরিবেশের সমস্যাগুলির সমাধান বের করা। ১৯৭৪ সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের স্পোকেনে ‘একই পৃথিবী’ থিমের ওপর প্রথম এই দিনটি পালিত হওয়া শুরু হয়। ২০১১ সালে ভারতের রাজধানী শহর নয়াদিল্লীতে আয়োজিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস, থিম – ‘বন ও বন সম্পদের সংরক্ষণ’। এ বছর (২০১৬) দক্ষিন আফ্রিকার অ্যাঙ্গোলা শহরে ‘বন্যপ্রাণী নিয়ে চলা বিশ্বব্যাপী অবৈধ ব্যাবসা অবিলম্বে বন্ধ করা’ থিমের ওপর এই দিনটির পালন হচ্ছে। পাশাপাশি সারা বিশ্বের মানুষ এই আন্তর্জাতিক দিবসটি পালন করতে এগিয়ে এসেছে। কিন্তু শুধু একদিন এই দিন পালন করলে হবেনা সারা বছর ধরে চালিয়ে যেতে হবে এই প্রচার, স্কুল কলেজ থেকে অফিস বা পাড়ার ঠেক সর্বত্র। পরিবেশ দূষণের প্রভাবে বদলে যাওয়া পরিবেশ ও সেই পরিবেশে নিজেদের স্বভাবের পরিবর্তনে বাধ্য হওয়া জীবগুলি সম্পর্কে প্রয়োজন গভীর গবেষণার। ব্যাক্তিগত ভাবে পরিবেশ পরিবর্তনের কিছু টুকরো তথ্য পরিবেষণের চেষ্টা করলাম। আসুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে সার্থক করে তুলি এই সব জীবদের রক্ষার মধ্যে দিয়ে। read more

রডোডেনড্রন – তোমায় দিলাম আজ

মার্চ ২০১৪, শহর কলকাতায় তখন ‘বসন্ত এসে গেছে’ (যেটুকু টের পাওয়া যায় আর কী)! ঠিক করলাম পাহাড়ে খুঁজতে যাব বসন্তকে..দেখব কেমন হয় তার রূপ-রং।

অতএব ব্যাগপ্যাক গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়া বসন্তের খোঁজে। গন্তব্য হিলি-ভার্সে-ওখেরে..সিকিমের পশ্চিম ঢালে সাজানো ছোটো ছোটো গ্রাম। read more

উত্তর সিকিম ভ্রমণ

অফিসের ব্যস্ত শিডিউল থেকে সময় ম্যানেজ করে বেরোলাম আমরা চার জনে একটু নর্থ সিকিম ঘুরতে। আমাদের বেস পয়েন্ট ছিল গ্যাংটক। সেখান থেকে প্রথমে গেলাম লাচেন হয়ে গুরুডোংমার লেক। যাওয়ার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। শেষের কয়েক কিলোমিটার পাকা রাস্তা, তার আগে শুধুই পাথর, রাস্তা বলে কিছু নেই। শেষ কিছুটা রাস্তা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। তবে ওখানে পৌঁছে আসল জিনিসটা দেখা গেল। গুরুডোংমার লেকের সৌন্দর্য্য দেখে অনেকেরই প্রায় ভির্মি খাওয়ার জোগাড়। যদিও সেটা বোধহয় ওই উচ্চতায় (১৭৮০০ ফিট) অক্সিজেন আর হাওয়ার প্রেশার কম থাকায় হয়েছে।

উপন্যাস আলোচনা: ‘কলাবতী কথা’

প্রতি বছর পুজো আমাদের কাছে একগুচ্ছ সাহিত্য নিয়ে হাজির হয় শারদীয়া পত্রিকা গুলোতে। আমাদের মত সাহিত্য পিপাসুরা অধীর আগ্রহে তাই অপেক্ষা করে থাকে পুজোর আগমনের। কিছু লেখা নিজ গুণে মনে থেকে যায়, আর কিছু লেখা বিস্মৃত হয় গুণহীনতায়। এবছরও তার ব্যতিক্রম না। ইতিমধ্যে বেশ কিছু পূজাবার্ষিকী প্রকাশিত, বেশ কিছু গল্প উপন্যাস পড়লাম। তার মধ্যে শারদীয়া সানন্দাতে প্রকাশিত ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘কলাবতী কথা’ র মধ্যে ভিন্নধর্মী এক লেখার আস্বাদ পেলাম। read more

রঙ-বেরঙের পাখি (২)

রং-বেরঙের পাখি মানেই ছোটবেলা, শীতকাল, চিড়িয়াখানা, কমলালেবু, আর ক্রিসমাসের ছুটি। কাঁধে ক্যামেরা নিয়ে বেড়িয়ে পড়া আমাদের ছোটবেলায় ছিল না, এখন হয়েছে। আমরা পাখি দেখতাম গাছের ডালে, পাতার ফাঁকে, বাড়ির চালে, কারণ তারা তখনো সংখ্যায় অনেক ছিল। এখনকার মত ক্যামেরার লেন্সে তাদের খুঁজতে বেরোতে হত না। শীতকাল মানেই পরিযায়ী পাখি আসবে, শুধু চিড়িয়াখানাতে নয়, মাঝে মাঝে আমাদের মফস্বলের খালবিলেও। এখন তারা হয়ত অভিমান করে আর আসে না, তবু আমরা তাদের খুঁজতে বেরোই। সেরকমই কিছু পাখির ছবি উপহার দিয়েছেন কৌশিক সেন read more

রঙ-বেরঙের পাখি (১)

মনে আছে, ছোটবেলায় কে যেন আমাকে সালিম আলি’র একটি সচিত্র পাখির বইয়ের বাংলা অনুবাদ উপহার দিয়েছিল। বাচ্চারা যেমন ছবির বই পেলে খুশি হয়, আমিও মাঝে মাঝেই ওটা উল্টেপাল্টে পাখির ছবি দেখতাম। ল্যাজের ডগা লালে রাঙানো শাহ বুলবুলি নিজেদের বাগানে দেখতে পেয়ে মনে মনে সালিম আলিকে ধন্যবাদও দিয়েছিলাম। আজও বাগানে, বারান্দায়, রাস্তায়, ঘরের পাশে ইলেকট্রিকের তারে, যে কোনোখানে পাখি দেখতে পেলে মন ভাল হয়ে যায়। এই কয়েকটি রঙ বেরঙের পাখির ছবি তাই আপনাদের জন্য খুঁজে এনেছেন নবনীতা সেন read more

গর্ব্‌ সে বোলো হম ‘হিন্দু’ হ্যাঁয় (২য় পর্ব)

(পূর্ব প্রকাশিত অংশটি পড়ুন এখানে)

যাক এই ধানাই পানাই বকার একটা উদ্দেশ্য আছে। উদ্দেশ্য বিনা কার্য হয়না। কিছুদিন আগে থেকে কলকাতাবাসীরা কেউ খেয়াল করেছেন কিনা জানিনা, দেয়ার ইজ আ নিউ গড অন দা হরাইজন। তার নাম –‘ শ্যামবাবা’। শুনলে সাধারণ ‘হিন্দু’ রা অবাক হবেন, বাবা বলতে পেটমোটা কিংবা অতিকায় ফ্যালিক সিম্বল, পুরুষতন্ত্রের প্রতীক শিবঠাকুর। শ্যাম তো চিরকেলে প্রেমিক, সে আবার ‘বাবা’ হল কবে? যদিও পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে কেষ্টবাবুর ছেলেপুলে হয়েছিল, কিন্তু মন্দিরে পূজো পায় বালক গোপাল কিংবা তিনব্যাঁকা (ত্রিভঙ্গ মুরারী) প্রেমিক শ্যাম । তাহলে ‘বাবা’ এল কোত্থেকে? read more