মেসি

ছোটবেলায় আলিফ লায়লা বলে একটা সিরিয়াল হত ডি ডি তে, বেসিক্যালি আরব্য রজনী। একটা এপিসোড আজও মনে আছে। সিন্দবাদ একটা চোরাবালির মত কিছু তে কোমর অবধি তলিয়ে আছে, আস্তে আস্তে তলিয়ে যাচ্ছে আরও। হাতে একটা ধনুক, আর একটাই তীর। সামনে একটা পাখি জাতীয় কিছু ঘুরছে, সেটার চোখে মারতে পারলে বেঁচে যাবে, আর ফসকালেই শেষ। সোজা তলিয়ে যাবে। আগের 2 টো তীর ফসকে গেছে, এটাই শেষ সুযোগ। সিন্দবাদের কপালে ঘামের ফোঁটা। নিজের নার্ভকে আয়ত্তে এনে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করতে হবে। একটাই সুযোগ।

কাল রাত্রে সাড়ে এগারোটা নাগাদ টিভির সামনে বসে যখন মেসিকে দেখলাম, আমার এই গল্পটাই মনে পড়ে গেল। একটা গোটা দেশের 32 বছরের ট্রফি খরা কাটানোর দায় কাঁধে নিয়ে খাদের কিনারায় নেমেছে ওয়ারিওর প্রিন্স। আগের 2 টো ম্যাচে চেনা ছন্দে খুঁজে পাওয়া যায়নি একেবারেই, তার ওপর পেনাল্টি মিস। দলের অবস্থান টেবিলের তলার দিকে, পরের রাউন্ডে যেতে হলে আজকের ম্যাচ টা জিততেই হবে। একটাই সুযোগ্য, জিতলে কিছুদিন স্বস্তি, হারলে সোজা খাদের অতল।

ফুটবল খেলাটা বড় নিষ্ঠুর। এক মুহূর্তেই রাজাকে ফকির আর ফকির কে রাজা বানিয়ে দেয়। একটা খারাপ দিন…একটা মিস পাস…একটা ভুল ফিস্ট, আর সব শেষ। হিরো তখন সোজা ভিলেন। 94 এর ফাইনালে বাজ্জিওর সেই পেনাল্টি কিক টা ভাবুন, একটা গোটা দেশের 4 বছরের অপেক্ষা ওই একটা কিকেই শেষ …ব্যর্থতার সব দায় তখন নায়কের ঘাড়ে। “ও তো আসলে বার্সেলোনার প্লেয়ার… গা বাঁচিয়ে খেলে, দেশের প্রতি কোন কমিটমেন্ট ই নেই….ইনিয়েস্তা ছাড়া তো অচল….সি আর সেভেন এর মত স্পিড নেই …মারাদোনার ধারেকাছে না ….” ইত্যাদি ইত্যাদি।

মধ্যবিত্ত বাঙালির একটা সমস্যা হল, সব ব্যাপারেই সবজান্তা হাবভাব। প্যান্টে কাদা লেগে বাড়িতে বকুনি খাওয়ার ভয়ে কাদামাঠ এড়িয়ে যাওয়া পাশের বাড়ির বাবান থেকে শুরু করে উদয়ন সংঘের রিজার্ভ বেঞ্চ গরম করা পাশের পাড়ার সাধন জেঠু, ফুটবল জ্ঞানে মোটামুটি সবাই মোরিনহকে বলে বলে 10 গোল দিতে পারে। অথচ একটা খুব সাধারণ ব্যাপার কেউ বুঝতে চান না, 1986 আর 2018 এর মধ্যে অনেকটা সময়ের ফারাক আছে। খেলাটা এর মধ্যে অনেকটা পাল্টে গেছে, একক দক্ষতায় ম্যাচ জেতানোর দিন শেষ। সম্ভবত জিদানই এই ঘরানার শেষ ফুটবলার।

আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশে তারকা প্লেয়ারের অভাব নেই। ম্যান সিটি, জুভেন্টাস, পি এস জি র প্রথম একাদশে নিয়মিত খেলা ফুটবলারের ছড়াছড়ি। তাও 15 বছর ইন্টারন্যাশনাল ট্রফির খরা কাটানোর সব দায় ওই একটা লোকের উপরেই কেন বর্তায় আমার জানা নেই। তাহলে বাকি 10 জনের কি ভূমিকা মাঠে?

এই সমস্ত সাত পাঁচ ভাবছিলাম, হঠাৎ ই মাঝমাঠ থেকে বানেগার একটা ঠিকানা লেখা পাস উড়ে গেল নাইজেরিয়া বক্স এর দিকে। নীল সাদা জার্সি পড়া একটা বেঁটে লোক, ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে একটা ডিফেন্ডার। বাম উরু দিয়ে রিসিভ করে বাঁ পায়ের আলতো টাচ এ বল টা নামিয়ে আনা, তারপর ডান পায়ের একটা অনবদ্য ফিনিশ …..

বিশ্বকাপ তোমার হাতে আসবে কিনা জানি না সূতপুত্রের যন্ত্রণা নিয়ে তোমাকে খেলা ছাড়তে হবে কিনা জানি না, রোনাল্ডো তোমার চেয়ে বেশি ব্যালন ডি ওর নিয়ে রিটায়ার করবে কিনা জানি না। একজন ফুটবল রোমান্টিক হিসেবে এই টুকু জানি, তুমি অনবদ্য। ফিনিক্স পাখির মত ছাই এর স্তূপ থেকে ফিরে আসতে জানো তুমি।

পয়লা বৈশাখ

কথায় বলে অন্ধের কি বা দিন, কি বা রাত। আমরা যারা লক্ষীসাধনায় মগ্ন হয়ে হত্যে দিয়ে বাইরে পরে আছি, আমাদের একই অবস্থা প্রায়। কবে পয়লা বোশেখ, কবে পঁচিশে, এক্সেল শীট, প্রজেক্ট ডেডলাইন আর কেপিআইয়ের চক্করে সব ঘেঁটে ঘ হয়ে যায়। একটা নিয়মে নিজেকে বাঁধতে বাঁধতে কবে যে নিয়ম-দাস হয়ে গেছি, টের ও পাইনি। মাস পয়লার মোটা মাইনে আর দিনান্তে স্কচের অমোঘ টানে নিজেকে কবেই যেন আস্তে আস্তে হারাতে শুরু করেছিলাম। আমার মধ্যের আমিটা সব ছেড়ে-ছুঁড়ে বারবার পালাতে চেয়েছে, আর তাকে আটকে রেখেছে বাইরের আমি। তাই পয়লা বৈশাখের নতুন জামা, আর পঁচিশের দিন শেষের কবিতা হাতে নিয়ে সারাদিন কাটিয়ে দেওয়ার বিলাসিতা চিন্তার বাইরে আর বেরোতে পারেনি।

কাল রাতেও অফিস থেকে ফিরেছি এগারোটার পর। কোনোরকমে কিছু একটা রেঁধে খেয়ে আবার ল্যাপটপ নিয়ে দাসত্বের রোজনামচা লিখতে বসেছিলাম। কখন ঘুমিয়ে পড়েছি, নিজেও জানিনা। ঘুম ভাঙল যখন একফালি নরম রোদ জানলা বেয়ে মুখ ছুঁয়ে গেলো। অভ্যেস মতোই হাত বাড়িয়ে বিছানার পাশের টেবিল থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা নিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে ফোনটা হাতে নিলাম। দেখলাম হোয়াটস্যাপে বাবার একটা মেসেজ। “শুভ নববর্ষ।” ভদ্রলোকের এই ব্যাপারে কোন ভুল হয়না। প্রতি বছর প্রথম মেসেজটা বাবাই পাঠায়। অন্যান্য বছর আমি রিপ্লাই করে ছেড়ে দি, কিন্তু এ বছর মেসেজটা পেয়ে এক মুহূর্তের জন্যে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। রিপ্লাই করে সিগারেটটা শেষ করে বিছানা ছেড়ে নামলাম, কিন্তু অন্যদিনের মতো বাথরুমের দিকে না গিয়ে বসার ঘরে গিয়ে টিভিটা অন করলাম। কোন প্রাইভেট চ্যানেল না, সোজা ডিডি বাংলা। দেখলাম প্রভাতী অনুষ্ঠান তখনো চলছে। কফি বানিয়ে সোফায় নিজেকে এলিয়ে দিলাম। কতক্ষণ অনুষ্ঠান দেখেছি, মনে নেই। হুঁশ ফিরল ফোনের আওয়াজে। যা ভেবেছিলাম তাই; অফিসের ফোন। রিংটোনটা অফ করে দিয়ে ফোনটা ছুঁড়ে দিলাম পাশের চেয়ারে। অনুষ্ঠান শেষ হতেই বাথরুমে গিয়ে আয়নায় নিজেকে একবার দেখলাম। তিন মাসের না কামানো দাড়িটা একটু বেশি পাকা লাগছে। চোখের নিচে হাল্কা কালিও যেন পড়েছে মনে হচ্ছে। না:, এভাবে নিজেকে দেখে মোটেও ভালো লাগলো না। কেবিনেট খুলে রেজারটা বার করে দাড়িটা কামিয়েই ফেললাম।

স্নান করে বেরিয়ে আলমারি খুলে নতুন একটা পাঞ্জাবি বার করলাম। গত পুজোয় কিনেছিলাম, পরে ওঠা হয়নি। সবই নিউটনের থার্ড ল আর কি! আজকের জন্যেই হয়তো তোলা ছিল। বসার ঘরে এসে ফোনটা দেখলাম। সাতাশটা কল, সবই অফিসের। জুনিয়র একটি ছেলেকে মেসেজ করে বলে দিলাম আজ এসব না। বলে ফোনটা বন্ধ করে অন্য নাম্বারটা চালু করলাম। এবার বাজার যাবো, খাসির মাংস কিনতে। দুপুরে জমিয়ে রান্না, তারপর একটা ভালো সিনেমা দেখে লম্বা একটা ঘুম দেব। আজ পয়লা বৈশাখ, আজ আমি সব নিয়ম ভেঙে নিজের মতো করে থাকবো। কি বললেন, অফিস? না, আমাকে ছাড়া একদিন ওরা ঠিক থাকতে পারবে। প্রথম আলোর চরণধ্বনি একটু অন্যভাবেই না হয় আজ বাজলো।

লাল পাহাড়ির দেশে

“একটা গন্ধ পাচ্ছিস ? সোঁদা গন্ধ? ” – হাঁটা থামিয়ে, প্রাণায়ামের ভঙ্গিতে একটা নিঃশ্বাস নিয়ে প্রশ্নটা ছুড়েদেয় সুমন। মুখেচোখে একটা অদ্ভুত তৃপ্তির ভাব, ঠিক যেন মোক্ষলাভের আগের স্টেজ এ পৌঁছে গেছে। “জঙ্গলেরগন্ধ। এ জিনিস কিন্তু তোর ক্যামেরার লেন্সে ধরা যাবে না।”

কোলকাতার বাইরে বেরোলেই সুমনের মধ্যে রোমান্স জেগে ওঠে। কালকূট, নীললোহিত সবাই একসঙ্গে ভর করে ওকে। শেষের কথাটা যার উদ্দেশ্যে বলা, সে খানিকটা এগিয়ে গেছে ।

– “বকবক না করে পা চালা। ফেরার সময় প্রাণ ভরে শুঁকিস।” – গাইড সুলভ ভঙ্গিতে জবাব দেয় তীর্থ।

– “তাড়া কিসের? সবে তো সোয়া চারটে।”- আমি ঘড়ি দেখে বললাম। “এমন সুন্দর রাস্তায় তাড়াহুড়ো করে হাঁটার কোন মানে হয় না।”

– “কারণ আমি আর ওয়েট করতে পারছি না ভাই। তোদের এই নেচারোলজির ক্লাস করার জন্য তো আরও দুদিন আছে।” একটা ফিচেল হাসি হেসে তীর্থ হাঁটার গতি বাড়াল। অগত্যা আমরাও।

রাস্তাটা সত্যিই সুন্দর। এঁকে-বেঁকে এগিয়ে গেছে। জন মানুষ নেই, গাড়ি – ঘোড়া ট্রাফিক জ্যাম নেই, বিষাক্ত বাতাস নেই, আর অসহ্যকর হর্নের আওয়াজ ও নেই। দুপাশে জঙ্গল, খানিকটা দূরে দূরে পুরুলিয়ার ট্রেডমার্ক টিলা পাহাড় চোখে পরছে। আজ সকালেই আমরা এসে পৌঁছেছি বরন্তী – তে। পুরুলিয়া জেলার এই গ্রাম,কলকাতাবাসীদের উইক-এন্ড গন্তব্য হিসেবে চমৎকার। বিশাল বড় একটা লেক, জঙ্গল, ছোট ছোট টিলা পাহাড় আর সর্বোপরি অপার শান্তি।

– “অরণ্যের দিনরাত্রি-র সিনটা মনে পড়ছে ?”

সুমনের প্রশ্ন শুনে হেসে ফেললাম। সত্যি মনে পড়ারই কথা। কারণ আমাদের এই বৈকালিক অভিযান এর গন্তব্য হল বরন্তী থেকে সামান্য দূরে রামজীবনপুর গ্রাম, উদ্দেশ্য – মহুয়ার সন্ধান করা। আর তীর্থর লিডার-সুলভ ভাবভঙ্গিও অনেকটা অসীমের মতই। পুরুলিয়ায় এসে মহুয়া না খাওয়া আর কাশী গিয়ে মাথায় গঙ্গাজল না ছোঁয়ানো অনেকটা সমার্থক, দুটোই ঘোর পাপ। হোটেল ম্যানেজারের বাতলে দেওয়া পথে আমরা এখন হেঁটে চলেছি রামজীবনপুরের দিকে।

প্রায় মিনিট কুড়ি হেঁটে, দূরে একটা গ্রামের চিহ্ন দেখতে পাওয়া গেল। ইতিমধ্যে জঙ্গল পাতলা হয়ে এসেছে।সম্ভবত ওটাই রামজীবনপুর। আমরা প্রবল উৎসাহে এগিয়ে চললাম।

রামজীবনপুর একেবারে নিপাট গ্রাম, মাটির দেওয়াল আর খড় বা টালির চালের অধিকাংশ বাড়ি। একেবারে শরৎবাবুর লেখা থেকে উঠে আসা। একমাত্র স্কুল বিল্ডিংটাই যা চোখে পড়ল বাঁধানো। ইলেকট্রিক এর পোস্ট আরে এক আধটা ডিশ টিভি ছাড়া, আধুনিক সভ্যতার চিহ্ন প্রায় নেই। লোকজন বিশেষ চোখে পড়ল না, সম্ভবত কাজ থেকে ফেরেনি।

তীর্থ অনেকটা এগিয়ে গেছিল। গ্রামে ঢোকার মুখেই একটা ছোট্ট ঝুপড়ি মত চালাঘর, দেখলাম সেটা থেকেই এক বৃদ্ধের সাথে তীর্থ বেরিয়ে আসছে। বৃদ্ধের খালি গা, শীর্ণ চেহারা। তীর্থ ‘কাকা’ পাতিয়ে নিয়েছে তাঁর সাথে।আমাদের চালাঘরে বসতে বলে কাকা হাঁটা দিলেন তাঁর বাড়ির দিকে। তীর্থর মুখে এভারেস্ট জয়ের হাসি – “ব্যবস্থা হয়ে গেছে। এক বোতল পঞ্চাশ টাকা।”

– “এদিকে আয় অভি, একটা এক্সপিরিয়েন্স করে যা ।” – দেখি সুমন ততক্ষণে চালাঘরে ঢুকে পড়েছে। উঁকি মেরে দেখি সেটা আসলে চায়ের দোকান, তখনো উনুন জ্বলেনি যদিও। একপাশে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বানানো মাচা ধরণের বসার জায়গা। বুঝলাম সন্ধেবেলা এখানে আড্ডা টাড্ডা বসে।

– “ভেবে দেখ, এদের কিন্তু সিসিডি নেই। আড্ডা মারার জন্যে এদের এসি বা চিকেন স্যান্ডুইচ ও নেই। চা আর মুড়ি তেলেভাজাই যথেষ্ট…

-“ চলে আয়।” বাইরে থেকে হাঁক পাড়ল তীর্থ। সুমনের মুড়ি তেলেভাজার রোমান্সের সবটুকু আর শোনা হল না।বেরিয়ে দেখি কাকা হাতে একটা কাঁচের বোতল আর কয়েকটা প্লাস্টিকের গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে। বোতলের ভেতরে একটা স্বচ্ছ তরল। এই সেই মহুয়ার মদ ? যার এত গুণগান শুনে এসেছি ? বোতলটা মাঝারি মাপের, বড়জোর হাফলিটার হবে। দেখে বিশেষ ভক্তি এলো না। চোলাই টোলাই না তো ?

তীর্থ ইতিমধ্যে বোতলটা খুলে ফেলেছে, আমার দিকে এগিয়ে বলল – “শুঁকে দেখ।” একটা ঝাঁঝালো মিষ্টি গন্ধ পেলাম। খানিকটা মধুর মতো, কিন্তু বেশ তীব্র। নাহ, এটা চোলাই হতে পারে না।

কাকা আমাদের নিয়ে চলল তাঁর বাড়ির উঠোনে। একরাশ খড় ডাই করা ছিল একপাশে, তারই থেকে কিছু পেতে দিল আমাদের বসার জন্য। সব ব্যবস্থা দেখে বেশ খুশি হলাম। মহুয়া খেতে হলে এমনভাবেই খাওয়া উচিৎ। এ জিনিস ড্রয়িংরুমে কাঁচের গ্লাসে মানাবে না। মাটিতে বাবু হয়ে বসে, তীর্থর বাড়িয়ে দেওয়া গ্লাসটা ঠোঁটে ছোঁয়ালাম। বেশ কড়া। সত্যি বলতে, স্বাদ আহামরি কিছু লাগল না। কিন্তু ঐ পরিবেশটা, মাথার ওপর খোলা আকাশ, মাটির বাড়ির উঠোন, খড়ের আসন – এই সব কিছু মিলেমিশে কেমন একটা ঘোর মত লেগে গেল।

কাকা আমাদের পাশেই বসে ছিল, দেখলাম একটু আড়ষ্ট আড়ষ্ট ভাব। তীর্থর বাড়িয়ে দেওয়া গ্লাসটা প্রত্যাখ্যান করলেন, ওনার দোকান খোলার সময় হয়ে এসেছে বলে। আমি নাম জিজ্ঞেস করলাম ।

-“বাবুরাম কিস্কু।” বুঝলাম স্বল্পভাষী মানুষ। আমরা এটা সেটা প্রশ্ন করতে লাগলাম, কাকাও আস্তে আস্তে সহজ হলেন। বললেন এই পানীয়টি তাঁর স্বহস্তেই বানানো। ওনাদের গ্রামের সান্ধ্য আড্ডায় আলুর চপ সহযোগে এটি পান করেন ওনারা। সরকারি ভাবে মহুয়া বিক্রি করা নিষিদ্ধ, তাই গ্রামের বাইরে নিয়ে যায় না।

ছোট বোতল, তিন জনের শেষ করতে বেশী সময় লাগল না। এবার ফিরতে হবে। একটু পড়েই অন্ধকার পড়বে, সঙ্গে টর্চ ও নেই। গা ঝারা দিয়ে সবাই উঠলাম। বাড়ি থেকে বেড়িয়ে কাকাও আমাদের সঙ্গে ওর দোকান অবধি এলেন হাঁটতে হাঁটতে। এবার সি-অফ করার পালা। বললাম – “ আসি কাকা। তোমাদের গ্রাম খুব সুন্দর, আবার আসব।”

কাকার মুখের আলতো হাসির রেখা দেখা দিল, গত এক ঘণ্টায় এই প্রথম –“শীতকালে আসলে খেজুরতাড়ি খাওয়াবো।”

সিনেমার কুইজ – ৪

প্রথম দুই সপ্তাহ হিন্দি সিনেমার প্রশ্নের পর গত সপ্তাহের বাংলা ধাঁধা আশা করি ভালো লেগেছে , এবার উত্তর এর পালা ।

এর সমাধান এর শুরু হতে পারে দুই ভাবে – ক এর নাম গ নামক সাহিত্যিক এর সাথে এক এবং খ এর প্রথম রঙিন ছবি বাঙালি সাহিত্যিক , সমস্ত নাম ভাবলে একমাত্র মিল পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর সাথে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দস্তিদার এর।

এবার প্রশ্ন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দস্তিদার কে ?যারা জানেন না তাদের বলি এ হল বিখ্যাত অভিনেতা রবি ঘোষ এর আসল নাম।
এই সূত্রে এগোলে আমরা পাই ,ক : রবি ঘোষ এবং গ : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।

এবার প্রথম রঙিন ছবি, যদি আমরা ধরি খ হলেন সত্যজিৎ রায় , তবে তার প্রথম কালার/রঙিন ছবি হল  কাঞ্চনজঙ্ঘা ।যদি মিলিয়ে দেখি রবি ঘোষের স্ত্রী সেই ছবিতে ছিলেন কিনা, তাহলে আমরা পাই হ্যাঁ ,তার স্ত্রী অনুভা গুপ্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা ছবিতে কাজ অভিনয় করেন।
এর ফলে আমরা বলতে পারি  খ : সত্যজিৎ রায় , ঘ : অনুভা গুপ্ত এবং চ : কাঞ্চনজঙ্ঘা।

এরপর সেই ছবি যা ২০১১ সালে রিমেক করা হয়, যা কিনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা। সেই সূত্রে একটি ছবির নামই আসে যা হল নৌকাডুবি ,যা কিনা ঋতুপর্ণ ঘোষএর পরিচালনায় তৈরি।যদি এবার মিলিয়ে দেখি ১৯৭৯ সালে অজয় করের পরিচালনায় নৌকাডুবি সিনেমা রূপ পায় যাতে অক্ষয়-বাবু র চরিত্রে রবি ঘোষ অভিনয় করেন ।
তাই এর থেকে বলা যায়ে – ছ : নৌকাডুবি এবং জ : ঋতুপর্ণ ঘোষ ।

এবার পুরোটা একবার দেখে নেওয়া যাক ঃ
ক – রবি ঘোষ
খ – সত্যজিৎ রায়
গ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ – অনুভা গুপ্ত
চ – কাঞ্চনজঙ্ঘা
ছ – নৌকাডুবি
জ – ঋতুপর্ণ ঘোষ

এবার এই সপ্তাহের প্রশ্ন ঃ
ক – অভিনেতা হিসাবেই তিনি মূলত পরিচিত , তিনি বেশ কিছু ছবি পরিচালনাও করেছেন । তার মধ্যে দুটি হিন্দি ছবি হল : খ (যাতে গ অভিনয় করেন) এবং ঘ (যাতে চ অভিনয় করেন)।
গ এবং চ আবার একসাথে ছ নামক ছবিতে কাজ করেন ।ছ এর পরিচালক হল জ ।
জ-এর ভাই ঝ আরেকজন পরিচালক ,যিনি ট নামক পরিচালকের সহায়তা করেন ঠ নামক ছবি তে। ঠ কে হিন্দি ছবির জগতে সেরা whodunit কাজের অন্যতম বলা হয়ে থাকে।
ক সেই ঠ ছবিতে এক প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন ।
ঠ ছবিটা ফ্লপ করার পর ট আরেকটি ছবি দ করেন (পরিচালক এবং নির্মাতা) যাতে গ অভিনয় করেন এবং ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পান ।

এবার বলতে হবে – ক, খ, গ, ঘ, চ, ছ, জ, ঝ, ট, ঠ এবং দ-এর পরিচয় ।

উত্তর আগামী সংখ্যায় ।

পড়তে থাকুন ও কলকাতা

প্রাক্তন- The Former

হঠাৎ দেখা
রেলগাড়ীর কামরায় হঠাৎ দেখা,
ভাবিনি সম্ভব হবে কোনোদিন..। – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

যদি ‘হঠাৎ দেখা’ হয়ে যায় প্রাক্তনের সাথে? কি বলব আমি..কি শুধাবে সে..বলবে কি সে “আমাদের যা গেছে একেবারেই কি গেছে?কিছুই কি নেই বাকি..?উত্তরে কি বলতে পারব “রাতের সব তারাই থাকে দিনের আলোর গভীরে..”
এরকমই এক গল্পের সামনে দাঁড় করায় প্রাক্তন ।
রবিঠাকুরের এই কবিতা,‘হঠাৎ দেখা’ পর্দা জুড়ে যত্ন করে এঁকেছেন পরিচালক জুটি নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সিনেমাপ্রেমী মানুষদের কাছে এই পরিচালকের জুটি যে কতটা পছন্দের তার রেশ পাওয়া যায় প্রতিবার ওনাদের ছবি মুক্তির সময়।একেবারে নতুন কনসেপ্ট এ তৈরী এই গল্প বলিয়েদের ছবি প্রথম থেকেই বাংলা ছবির বাজারে হিট।
ইচ্ছে, মুক্তধারা, রামধনু, অলিক সুখ- তাঁদের প্রতিটি ছবির বিষয় সবসময় নতুনের আনন্দ দিয়েছে। খুব সাধারণ গল্প এই পরিচালকদ্বয়ের ক্যানভাসে নতুনভাবে ছবি হয়ে ওঠে।
আর বেলাশেষে শুধু রেকর্ডই ভাঙেনি আমাদের নিয়ে গেছে সেই পুরনো দিনের ভালোবাসার গল্পে- যে গল্প আমরা নতুন প্রজন্মরা খুব কমই দেখার সুযোগ পেয়েছি।তাই বেলাশেষের পর প্রাক্তন এর অপেক্ষায় ছিল ছবিপ্রেমী বাঙালিরা।
ছবি শুরু হয় মুম্বাই এর ট্রেন যাত্রা দিয়ে আর এগিয়ে চলে নিজের গতিতে।সেই মুম্বাইয়ের ট্রেনে ছায়া ফেলে ছেড়ে আসা প্রেম, পুরনো অভ্যাস, হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তরা আর শুরু হয় প্রাক্তনের যাত্রা।ছবি এগিয়ে চলে..পুরনো প্রেম আনাগোনা করে..হারানো ভালোবাসা, চেনা অভ্যাস, হারিয়ে যাওয়া কথারা ফিরে আসে প্রাক্তনের হাত ধরে।সামনে এসে সে বলে “সময় কোথা সময় নষ্ট করবার”..জীবনের নিয়মে এগিয়ে চলাই নিয়ম- তবু থমকে দাঁড়াতে মন চায়..একবার ফিরে তাকাতে ইচ্ছে করে পিছুটানের দিকে।

ছবির গল্প বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই কারণ এতদিনে অনেকেই এটি দেখে ফেলেছেন আর যাদের দেখা হয়নি তারা যাওয়ার প্ল্যানও সেরে ফেলেছেন। ছবির নাম যখন ‘প্রাক্তন’ তখন তার গল্পও যে প্রাক্তনের হবে এ আর নতুন কি কথা? কিন্ত এখানেও আছে একটা নতুনত্ব- মূল গল্পের মধ্যে আছে অনেকগুলো সাব-প্লট আর সেই চরিত্রগুলো সকলেই অতীতের গল্পে আটকে থাকা।যেখানে এক গানওয়ালা একরাশ অভিমান নিয়ে ছেড়ে এসেছে তার জোড়িদার আরেক গানওয়ালা বন্ধুকে- এক নবদম্পতি তাদের প্রাক্তনদের ছেড়ে এসে পথচলা শুরু করেছে একসাথে- ছেড়ে যাওয়ার গল্পে আছে এক ছেলে যে তার মা-বাবাকে ছাড়তেও পিছপা হয়নি। এইভাবেই প্রাক্তন আর বর্তমান মিলেমিশে এগিয়ে চলে।
আর এই সবের মাঝখানে এগিয়ে চলে উজান (প্রসেনজিত) আর সুদীপার (ঋতুপর্ণা)হারিয়ে যাওয়া প্রেমের গল্প। গল্প বলার ধরন বেশ সুন্দর- কখনো ফ্ল্যাশব্যাকে প্রেমের শহর কলকাতা আবার কখনো স্মৃতিভারাক্রান্ত মুম্বাই এর ট্রেন। ফিরে ফিরে আসে পুরনো ছবি, ভালবাসার মুহূর্ত, অভিমানের প্রহর। চেনা টুকরো টুকরো ঘটনা বার বার বলতে চায় শুধু ভালোবাসা নয় সম্পর্ক টিকে থাকে বোঝাপড়ায়- ভালোবাসার মানুষের সবটুকু আপন করে নিয়ে খুব যত্ন করে না রাখলে সম্পর্ক থাকেনা- ভালবাসা হারিয়ে যায়। এইভাবেই মুম্বাইগামী ট্রেন কলকাতায় ফেরে এক প্রেমের গল্প, বন্ধুত্বের গল্পের সাক্ষী হয়ে।
এবার আসা যাক অভিনয়ের প্রসঙ্গে। বাংলা সিনেমার সবথেকে জনপ্রিয় জুটি প্রসেনজিত আর ঋতুপর্ণা অভিনয়ের গুণে সম্পর্কের দোলাচল খুব সুন্দর ভাবে পর্দায় এনেছেন-তাঁদের ভালোবাসা-অভিমান-ঝগড়া, উজান-সুদীপার সম্পর্ককে জীবন্ত করে তুলেছে। এছাড়াও গল্পের একাধিক সাবপ্লটের বিভিন্ন চরিত্রে সকলেই নিজের নিজের মত করে সুন্দর। কিন্তু অপরাজিতা আঢ্য ছাপিয়ে গেছেন সকলকে। মন খোলা হাসি নিয়ে ওরকম প্রাণবন্ত অভিনয় এই ছবির অনেক বড় পাওনা।
শহর কলকাতা এই ছবিতে প্রেমের অনুঘটক। প্রিন্সেপ ঘাটের নৌকায় দেখা সূর্যাস্ত, ট্রামে টানা গাড়ির হাত ধরে এই শহরে প্রেম আসে- আর সেই প্রেম আরও গভীর হয় ময়দানের আড্ডায় আর চার্চের নিস্তব্ধতায়। কলকাতাকে যারা ভালোবাসেন তারা আরও একবার প্রেমে পড়বেন এই শহরের।
অনুপম রায়ের গান নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই- শহুরে, প্রাণবন্ত সবটাই যেমন প্রতিবার হয়। কিন্তু “অন্য কারোর সঙ্গে বেঁধো ঘর” গানটির প্রতিটি শব্দ অদ্ভুত রকমের সুন্দর- অনেকখানি মন কেমন করা ফাঁকা একটা অনুভূতি তৈরি করে। ইমন চক্রবর্তী এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা মিশিয়ে খুব যত্ন নিয়ে এই গানটি গেয়েছেন।
সবশেষে বলতেই হয় প্রাক্তন কোনও ব্যতিক্রমী ছবি নয়, এমনও নয় যে এই ছবিতে প্রচুর তত্ত্বকথা আছে, আবার এও নয় যে এই ছবি খুব ভাবায়। কিন্তু প্রাক্তন যেটা রেখে যায় তা হল মন কেমন করা একটা রেশ। ভালোলাগার রেশ, এগিয়ে যাওয়ার রেশ রেখে প্রাক্তন শেষ হয়। ছবিটি কারো কারো একটু বড় মনে হতে পারে, একটু টানাও মনে হতে পারে… কিন্ত আমি বলবো প্রাক্তনের সাথে দেখা যখন হল সময় তো থমকে দাঁড়াবেই, ফেলে আসা জীবনের পিছুটান একটু বড় তো হবেই!

জামাইষষ্ঠীর রেসিপি

উপকরণ:-

মাটন -৫০০ গ্রাম টক দই -১০০ গ্রাম,  আদা-বাটা -২ টেবিল চামচ, রসুন-বাটা -২ টেবিল চামচ, পেঁপে-বাটা -আধ কাপ,  পেঁয়াজ কুচি -১ কাপ,  টমেটো কুচি -১ কাপ,  লঙ্কা গুঁড়ো -১ চা-চামচ,  গোলমরিচ গুঁড়ো -১ চা-চামচ, গরমমসলা গুঁড়ো -২ চা-চামচ, মেথি -আধ চা-চামচ,হলুদ গুঁড়ো- ২ চা-চামচ তেজপাতা -২ টো,  সরষের তেল -৬ টেবিল চামচ,  ঘি -১ টেবিল চামচ,  কেওড়ার জল -১ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়ো -২ চা-চামচ,  নুন -স্বাদ মত,  আলু -৪ টুকরো,  জল -৬ কাপ, সিদ্ধ ডিম -৪টে

প্রণালী:-

প্রথমে মাটনটা ধুয়ে একটা বড় পাত্রে রাখতে হবে। এবার মাটনে একে একে টক দই, ১ টেবিল চামচ আদা-বাটা, ১ টেবিল চামচ রসুন-বাটা, লঙ্কা গুঁড়ো, ১ চা-চামচ হলুদ গুঁড়ো, ২ টেবিল চামচ সরষের তেল ও কেওড়ার জল দিয়ে ভাল করে মেখে ৫-৬ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। কড়াইতে বাকি তেলটা গরম করে তাতে আলুর টুকরোগুলো লাল করে ভেজে তুলে নিতে হবে।সিদ্ধ ডিমগুলো ভেজে নিতে হবে ৷ এবার ওই তেলেই ঘি গরম করে মেথি আর তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজ কুচিটা দিন এবং বাদামি করে ভেজে নিন। তারপর একে একে বাকি আদা-বাটা, রসুন-বাটা, পেঁপে-বাটা ও টমেটো কুচি দিয়ে খানিকক্ষণ ভাজতে হবে। তেল ছাড়তে শুরু করলে এর মধ্যে নুন, হলুদ, গরমমসলা গুঁড়ো, গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে কষিয়ে ২ কাপ জল ঢেলে দিন এবং ঢাকা দিয়ে ৫ মিনিট রাখুন। পরে ঢাকনা খুলে ওর মধ্যে ম্যারিনেট করা মাটনটা দিয়ে মিনিট দশেক কষাতে হবে। কষানো হয়ে গেলে ভাজা আলুগুলো ওর মধ্যে তুলে দিয়ে বাকি জলটা দিয়ে দিন এবং ঢাকনা চাপা দিয়ে আঁচ কমিয়ে রাঁধুন। মাটন আর আলু সেদ্ধ হয়ে গেলে আঁচ থেকে নামিয়ে ডিম চিরে সেইগুলো দিয়ে সাজিয়ে গরম ঘি-ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

সিনেমার কুইজ – ৩

গত সপ্তাহের সিনে-ধাঁধা আশা করি সকলের ভালো লেগেছে। প্রথম সপ্তাহের তুলনায় সহজ ছিল না !!! তাহলে এবার উত্তর এর পালা  ।

একই ছবিতে (যা কিনা ৫০ এর দশক এর একটি কালজয়ী ছবি )৩ অভিনেতা ,তাদের মধ্যে দুজনের পরবর্তীকালে বিবাহ এবং তাদের পুত্রও পরে অভিনেতা হয়, এই সব সুত্র এক করলে যাদের কথা মনে হয় ,তারা হলেন নার্গিস – সুনীল দত্ত।
তাহলে ক – নার্গিস আর খ – সুনীল দত্ত ধরে এগোলে কি দাঁড়ায়ে দেখা যাক ,
নার্গিস – সুনীল এর সম্পর্কের সূত্রপাত মাদার ইন্ডিয়া ছবি তে ,তাই ঘ হলো মাদার ইন্ডিয়া।
মাদার ইন্ডিয়া ছবির আরেক অভিনেতা – রাজেন্দ্র কুমার, তার ছেলে কুমার গৌরভ বিয়ে করেন নম্রতা দত্ত কে যে নার্গিস – সুনীল মেয়ে ।
তাই – গ – রাজেন্দ্র কুমার, ছ – কুমার গৌরভ, চ – নম্রতা দত্ত।
নার্গিস – সুনীল এর ছেলে সঞ্জয় দত্ত ,তাই জ – সঞ্জয় দত্ত।
ঝ – সেই ছবি যাতে সঞ্জয় দত্ত আর কুমার গৌরভ একসাথে অভিনয় করে এবং ছবি টা সুপার হিট হয় ,১৯৮৬ সালের ছবি টার নাম – “নাম” ।

এবার পুরোটা একবার দেখে  নেওয়া যাক –
ক – নার্গিস
খ – সুনীল দত্ত
গ – রাজেন্দ্র কুমার
ঘ – মাদার ইন্ডিয়া
চ – নম্রতা দত্ত
ছ – কুমার গৌরভ
জ – সঞ্জয় দত্ত

এই সপ্তাহের প্রশ্নঃ
ক একজন বিখ্যাত চরিত্রাভিনেতা যাকে অনেকবার বিখ্যাত পরিচালক খ এর ছবি তে দেখা যেত।ক এর নাম এক বিখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক গ এর সাথে এক ছিল ।
পরিচালক খ সাহিত্যিক গ এর একাধিক সাহিত্য থেকে ছবি বানিয়েছেন ।
ক এর প্রথম স্ত্রী ঘ, চ নামক ছবি তে কাজ করেন , চ হলো পরিচালক খ এর প্রথম কালার ছবি ।
ক একটি ছবি করেন ছ , যা কিনা গ এর এক সাহিত্যকীর্তির ওপর বানানো. ২০১১ সালে ছ ছবিটা আবার পরিচালনা করেন পরিচালক জ এবং ছবির নাম একই থাকে।

বলতে হবে ক, খ, গ, ঘ, চ, ছ, জ কারা ।

উত্তর আগামী সংখ্যায় ।

পড়তে থাকুন ও কলকাতা

সিনেমার কুইজ – ২

আশা করি আমার গত সপ্তাহের সিনে-ধাঁধাটা ভালো লেগেছে – যদিও খালি একটাই রেসপন্স দেখতে পাচ্ছি. এবার জবাব এর পালা –

পুরো প্রশ্ন টা পড়ে সব থেকে জরুরি ছিল কোনো অংশটার উত্তর সোজাসুজি পাওয়া যায়ে: একটু ‘গ’ এর অংশটা দেখা যাক – এক মহিলা যার ছবি অস্কার এর জন্যে এ মনোনীত হয়েছিল – ভারতীয়দের এই কীর্তি একজনেরই  : মীরা নায়ার, ছবির নাম সালাম বম্বে;তাহলে ‘গ’ – মীরা নায়ার।
এবার যদি আমি ‘খ’ এর খোঁজে যাই তাহলে দেখা যাবে ভারতীয় ছবি অস্কার এ মনোনীত  হয়ে ৩ বার – পঞ্চাশএর  দশক এ “মাদার ইন্ডিয়া” , ৮৮তে  “সালাম বম্বে” এবং ২০০১ এ “লাগান”. মাদার ইন্ডিয়া র পরিচালক মেহেবুব খান আর মীরা নায়ার এর একসাথে অ্যাসিস্ট্যান্ট হওয়াটা কিছুটা অবাস্তব কারণ দুই পরিচালক এর কাজের সময়কাল ভিন্ন – সেখানে মীরা নায়ার এবং আশুতোষ গাওরিকার (লাগান এর পরিচালক) সমসাময়িক. সেই সুত্রে আমরা ধরে নিতে পারি যে ‘খ’ : আশুতোষ গাওরিকার।
এরপর যদি দেখা যায়ে কোন পরিচালক আশুতোষ গাওরিকার এবং মীরা নায়ার এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলেন তাহলে তার উত্তর একটাই – কিরণ রাও, তাই ‘ক’ – কিরণ রাও (আমির খান এর স্ত্রী।
এবার ‘ক’ ধরে সোজাসুজি যেই যেই অংশে আমরা যেতে পারি – তাহলো ‘ঘ’ : যেই ছবি তে ‘ক’ অভিনয় করেন এবং ‘জ’ : যেই ব্যক্তি ‘ক’ এর কাজিন।
ব্যাপারটা খুবই সহজ হয়ে যায় কারণ কিরণ রাও এর একমাত্র অভিনয় (খুবই ছোট চরিত্রে) “দিল চাহতা হায়” এবং কিরণ এর একমাত্র আত্মীয় যে ফিল্ম জগতে আছেন তিনি হলেন অদিতি রাও হায়দারী।
সেই সুত্রে ‘ঘ’ – দিল চাহতা হায়
‘জ’  – অদিতি রাও হায়দারী।
বাকি রইলো ‘চ’ আর ‘ছ’. ‘চ’ এর পরিচয় তিনি ‘ঘ’ অর্থাত “দিল চাহতা হায়” এর পরিচালক – তাই তিনি ফারহান আখতার
‘ছ’ হলো ‘চ’ আর ‘জ’ এর অভিনীত ছবি – অর্থাৎ ফারহান আখতার এবং অদিতি রাও হায়দারী র ছবি – তারা একটি ছবিই আজ অবধি একসাথে করেছেন – “ওয়াজির” ।
‘চ’ – ফারহান আখতার
‘ছ’ – ওয়াজির

আশা করি বুঝিয়ে বলতে পেরেছি এবং পাঠকবর্গের কাছে এই সিনে-ধাঁধা ব্যাপারটা একটু পরিষ্কার করা গেছে।
ক – কিরণ রাও
খ – আশুতোষ গাওরিকার
গ – মীরা নায়ার
ঘ – দিল চাহতা হায়
চ – ফারহান আখতার
ছ – ওয়াজির
জ  – অদিতি রাও হায়দারী

এবার এই পর্বের প্রশ্ন।

‘ক’,’খ’,’গ’ – পঞ্চাশ এর দশকের এক বিখ্যাত কালজয়ী হিন্দি ছবি ‘ঘ’ তে অভিনয় করেন. সেই ছবি সুত্রে ‘ক’ (মহিলা), ‘খ'(পুরুষ) এর আলাপ – প্রেম – বিবাহ।

পরবর্তী কালে ‘ক’ – ‘খ’ এর মেয়ে ‘চ’ এর  সাথ ‘গ’ এর ছেলে ‘ছ’ এর  বিয়ে হয়।
এর আরো পরে ‘ক’ -‘খ’ এর ছেলে ‘জ’ এর সাথে ‘ছ’ একটি অত্যন্ত বড় হিট ছবি ‘ঝ’ তে অভিনয় করেন ১৯৮৬ সালে।

‘ক’, ‘খ’, ‘গ’, ‘ঘ’, ‘চ’, ‘ছ’, ‘জ’, ‘ঝ’ র  – পরিচয় চাই।

উত্তর আগামী সংখ্যায় ।

পড়তে থাকুন ও কলকাতা

সিনেমার কুইজ – ১

আমি সর্বজিত – বন্ধুদের অনুরোধে ‘ও কলকাতা’র জন্য শুরু করছি এক বিশেষ নিয়মিত বিভাগ।কুইজ তো আপনারা অনেকেই ভালোবাসেন – আর সিনেমা ভালোবাসেন না এরকম খুব কম লোকজনকেই আমি চিনি। এই দুই পছন্দের বিষয়ের ওপর তৈরি করেছি এই নতুন ধরনের কুইজ।

Continue reading “সিনেমার কুইজ – ১”

আমিও কাপ্তান

কতটা সেকেলে হয়ে গেছি তা একটা প্রমাণ পেলুম আজকে। সিনেমা দেখতে গেছি – ভালো কথা। চলতে চলতে একটা সময় সে সিনেমা শেষও হয়ে গেছে, মানে ঐ নাম দেখাতে শুরু করেছে আর কি – হাফ লোক উঠে হাঁটা লাগিয়েছে -ভিড় – ঠেলাঠেলি – দেখি কিছু পাবলিক তখনও চোখে চশমা সেঁটে বসে আছে। মনে মনে ভাবলাম একি কেস? কিন্তু তাতেও তারা ওঠেনা দেখে মনে হল এত পয়সা দিয়ে টিকিট কেটেছে, বোধহয় শেষ অবধি নাম দেখানটুকু দেখবে। এমনি করতে করতে প্রায় বেরিয়ে এসেচি – তখন দেখি স্ক্রিনে নামের বদলে আরেকটু কি সব দেখাচ্ছে। ভাবলাম এ কি রে বাবা – আবার প্রথম থেকে রিলটা ঘুরতে শুরু করল নাকি? পরে বুঝলুম না তা নয় – আরেকটু গপ্প দেখান হচ্ছে। সেই কমিকের শেষ পাতায় যেমন ক্লিফ হ্যাঙ্গার করা হত এক কালে – সেইরকম। মানে দর্শককে আরও একটু তাতিয়ে দেওয়া – বেরিয়ে আসার পর শুনলাম এরকম নাকি মার্ভেল সব সিনেমায় করে থাকে – আর নিজেকে বললাম – শালা, বেকুবিরও একটা সীমা থাকে – এদ্দিন ধরে সিনেমার পর্দায় ঢিসুম ঢাসুম গিলছি – আর এইটাও জানতাম না? বোঝ কাণ্ড। যাক গে – সে বেকুবির কথা এখন থাক। সিনেমার কথায় আসি।

আমিও কাপ্তান

হ্যাঁ, নতুন অ্যাভেঞ্জার সিনেমার কথাই বলছি। ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকা – সিভিল ওয়ার। তা সিভিল ওয়ার বলতে যা বোঝায় সেই গৃহযুদ্ধ কাপ্তান করেছেন ভালোই মানতে হবে – সেই ধোঁয়া, আগুন, গোলা বারুদ, বন্দুক,পিস্তল, ঢাল তরোয়াল, স্পাইডারম্যান – সবে মিলে এক্কেবারে জমজমাট ব্যাপার। তবে কিনা হ্যাঁ – কেউ যদি এই সিরিজের আগের কোন সিনেমা নাই দেখে থাকেন, তাহলে বুঝতে একটু অসুবিধে হতে পারে। যেমন আমার পাশের সিটের কয়েকজন দম্পতির হচ্ছিল। বার বার উঠে পপকর্ন খাব, আলুভাজা খাব, মোমো খাব। অনেকটা যেন আলিবাবার গল্পে বন্ধ দরজার সামনে কাশিমের ‘চিচিং ফাঁক’ ভুলে গিয়ে খেতে না পেলে মানুষ কি করে – ‘খাই খাই ফাঁক’ আওড়ান টাইপের ব্যাপার – যা পাব তাই ফাঁক দিয়ে ঢুকিয়ে যেব নইলে বার করে দেব – সেরকম ধান্দা থাকলে আপনার কাছে ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকাও যা, পাগলুও তাই। সিরিয়াসলি হোয়াট দা ফাঁক।

সে যাই হোক। সিনেমায় আসি। এবারের সারপ্রাইজ প্যাকেজ নিঃসন্দেহে স্পাইডার-ম্যান। একদিকে তার চোখে সুপারহিরোদের প্রতি শ্রদ্ধার অন্ত নেই আবার তাদের সাথে লড়তেও হচ্ছে। এই দলে সে সবচেয়ে ছোট – কিন্তু সমান-তালে পাল্লা দিয়ে চলেছে বড়দের সাথে। খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও অ্যান্ট ম্যানের ছুঁড়ে দেওয়া সংলাপও খুবই উপভোগ্য। আসলে দুই দলের চূড়ান্ত লড়াইয়ের সময়ে এই ছোটখাটো কনট্রাস্টই কিন্তু দৃশ্যটাকে বাঁচিয়ে রাখে – কখনও নির্মল হিউমার বা কখনও নির্মম স্যাটায়ার। গল্প বলে দিলে মজাটা হালকা হয়ে যাবে – আর তাছাড়া এরকম স্পেশাল এফেক্ট ছেড়ে আমার রিভিউ পড়বেন – সে দুধের স্বাদ অম্বলে মেটানোর মত অবস্থা হবে। হ্যাঁ, যেটুকু না বললেই নয়, তা হল আলট্রনের সাথে লড়াইয়ের সময় সোকোভিয়ায় নিজের পরিবারকে হারিয়ে এক সৈনিকের ষড়যন্ত্র ফাটল ধরাতে শুরু করে অ্যাভেঞ্জারদের অটুট দুর্গে – যেখানে ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকা আর আয়রন ম্যানের দলবল। বাদবাকিটা – শক্তিপদ চট্টোপাধ্যায় যেমন পাণ্ডব গোয়েন্দায় লিখতেন না – ‘ডিস্যুম’ – ঠিক তাই।

আমি বরাবর মার্ভেল ফ্র্যাঞ্চাইজির বেকুব ফ্যান (যে শেষ দৃশ্যের পরের দৃশ্য ব্যাপারটা এদ্দিন জানতো না) – কিন্তু লক্ষ্য করেছি যে অন্যান্য সুপারহিরো চরিত্রদের সিনেমাগুলোর তুলনায় ক্যাপ্টেন অ্যামেরিকার গল্পের ঠাসবুনট একটু বেশি। সে প্রথম দিন থেকেই। সেই প্রথম সিনেমায় – ক্যাপ্টেনকে সিরাম দেওয়ার আগে একটা ফলস গ্রেনেড ছুঁড়ে পরীক্ষা করা হয় আর ক্যাপ্টেন সেটাকে দুরে সরিয়ে দেওয়ার বদলে গ্রেনেডটাকে মুড়ে শুয়ে পড়ে – আমার কাছে থেকে ক্রিস ইভান্স হিরো সেই দিন থেকেই – ঢাল তরোয়াল আর ফর্সা ভীমের মত বগলে ফোঁড়া নিয়ে হাঁটার স্টাইল তো পরের ঘটনা। সেই ফুটফুটে পেগি কার্টারের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ব্যাক-ড্রপে হালকা প্রেম, পুরনো বন্ধুর জন্য জান কবুল করে দেওয়া অথবা কোনও নিয়ম শুনতে না চাওয়া – সবে মিলে কোথাও যেন ক্যাপ্টেন স্টিভ রজার্স যেন ক্যাপ্টেন আম্যেরিকার লার্জার দ্যান লাইফ ইমেজটাকে ছুঁড়ে ফেলে ভিড়ের মধ্যে মিশে যান। সুপারহিরো সিনেমার হিসেবে এই সাফল্যটা অসাধারন।

ঐ যে অ্যাভেঞ্জারের প্রথম সিনেমায় ক্যাপ্টেনের এক পিস ডায়লগ ছিল না – “সুপারহিরোর স্যুটটা খুলে রাখলে তুমি কে?” যদিও ডায়লগটা অনেক বেশি বিখ্যাত আয়রন ম্যানের ‘জিনিয়াস-প্লেবয়-মিলিওনিয়ার-ফিল্যান্থ্রপিস্ট’ মার্কা ডাকাবুকো প্রত্যুত্তরের জন্য, কিন্তু আসল সত্যি তো এটাই যে সুপারহিরো সিনেমা আমাদের কাছে এক রোম্যান্টিক ইলিউশন ছাড়া আর কিছুই নয়। হলিউডে গল্প লেখা হয় না, তৈরি হয়। তবুও গল্পের লেখকদের তারিফ করতেই হচ্ছে কারন বন্দুক পিস্তলের ঊর্ধ্বে উঠে শেষ চিঠিতে ক্যাপ্টেনের বন্ধুত্বের হাতছানি – এখনও এক মুহূর্তে আমাকে কৈশোরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। থ্যাঙ্ক ইউ ক্যাপ্টেন।