লাল পাহাড়ির দেশে

রাস্তাটা সত্যিই সুন্দর। একে-বেঁকে এগিয়ে গেছে। জন মানুষ নেই, গাড়ি – ঘোড়া ট্রাফিক জ্যাম নেই, বিষাক্ত বাতাস নেই, আর অসহ্যকর হর্নের আওয়াজ ও নেই। দুপাশে জঙ্গল, খানিকটা দূরে দূরে পুরুলিয়ার ট্রেডমার্ক টিলা পাহাড় চোখে পরছে। আজ সকালেই আমরা এসে পৌঁছেছি বরন্তী – তে। পুরুলিয়া জেলার এই গ্রাম,কলকাতাবাসীদের উইক-এন্ড গন্তব্য হিসেবে চমৎকার। বিশাল বড় একটা লেক, জঙ্গল, ছোট ছোট টিলা পাহাড় আর সর্বোপরি অপার শান্তি।

ডুয়ার্সের ডায়েরী

পিচে মোড়া রাস্তাটা সোজা উঠে গেছে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে – একপাশে খাদ, অন্যপাশে জঙ্গল। অক্টোবরের মাঝামাঝি এই চমৎকার সকালের রোদ গায়ে মেখে আমরা চার বন্ধু যখন হাঁটা শুরু করি তখন ঘড়ি বলছে সাড়ে আট্টা, সঙ্গী ব্যাগে চকোলেট, কেক, জলের বোতল ও পায়ে রাশভারী ট্রেকিং জুতো। গন্তব্য বাক্সা ফোর্ট হয়ে পাহাড়চূড়ায় লেপচাখা। যাওয়া আসা মিলিয়ে প্রায় তের কিলোমিটার। read more

কিউকেনহফ – রংমিলান্তির দেশে

আমি মানুষটা জাত ঘরকুনো- কলকাতা ছাড়া পৃথিবীর কোথাও মন টেঁকে না, আবার অন্যদিকে পায়ের তলায় সর্ষে। আমার বাবা ই ঠিক বলেন- “তুই যে কি চাস, আর কি চাস না সেটা তুই নিজেই জানিস না”। তা এহেন সর্ষে ভূতটা আবার নিজের উপস্থিতি জানান দিল গত বছর ইউরোপ আসার পর। ইউরোপ আসার কারণ আমার স্বামীর কর্মসূত্রে, কিন্তু সেটা নামেই। আসার আগেই তালিকা ধরে ঠিক করে ফেলেছিলাম, এই এই জায়গাগুলো ঘুরে ফেলতেই হবে। সেই তালিকায় যেমন চিরকালের প্রেমের শহর হিসাবে প্যারিসের নাম ছিল, তেমনি ছিল রোম – সেই শহর যেখানে ইতিহাস ফুসমন্তর গল্প শোনায়। তালিকায় কাটছাঁট চলছে, এমন সময়ে আমার মনে হলো “আচ্ছা সেই সুন্দর ফুলের শহরটায় গেলে হয়না?” read more

ঝান্ডির পথে আমরা

কথা ছিলো বাইকে করে যাবার। খুব সকালে বের হবো। কিন্তু নবমীর সকালটা যে বৃষ্টি মাখা!ধুর ছাই, বৃষ্টিটা মাটি করে দিলো সব। অন্য দিন আমি এতো সকালে ঘুম থেকে উঠিই না। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো । এমন সময় সবুজের ফোন। কি করে যাই বলো তো? কি আর করা যাবে আজ তা হলে বাদ দাও। না না দাঁড়াও। আমি একটা ব্যাবস্থা করছি।সকাল এগারোটার দিকে আবার সবুজের ফোন। উদয় দা চলো, আমরা একটা মারুতি ভেন ভারা করে ফেলেছি। সেকি, এখন এতবেলায়!আমি তো প্রায় নাই করে দিচ্ছিলাম, আবার ওদের কথা ভেবে.. যাক বেড়িয়েই পরলাম। জলপাইগুড়ি থেকে লাটাগুড়ি হয়ে চালসা দিয়ে মালবাজার থেকে গড়ুবাথান। তারপর পনেরো কিমি দুরে ঝান্ডি। read more