আশ্চর্য প্রেমিক

Hasikhushi Snape
প্রোফেসর সেভেরাস স্নেইপ

একটা লোক বেঁচে থাকতে সব্বার স্বার্থেই স্বেচ্ছায় সব্বার সামনে নিজেকে ঘেন্নার চোখে দেখতে অভস্ত্য করে তুলেছিলো। কারন লোকটা ভালোবাসতো।

একটা লোক সব্বার স্বার্থে যেচে মুখ বুজে তার জীবনের সবথেকে দামী জিনিসটাকে যে কেড়ে নিয়েছে তারই খিদমতগার হয়ে থাকতো। কারন লোকটা ভালোবাসতো। read more

ডুয়ার্সের ডায়েরী

পিচে মোড়া রাস্তাটা সোজা উঠে গেছে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে – একপাশে খাদ, অন্যপাশে জঙ্গল। অক্টোবরের মাঝামাঝি এই চমৎকার সকালের রোদ গায়ে মেখে আমরা চার বন্ধু যখন হাঁটা শুরু করি তখন ঘড়ি বলছে সাড়ে আট্টা, সঙ্গী ব্যাগে চকোলেট, কেক, জলের বোতল ও পায়ে রাশভারী ট্রেকিং জুতো। গন্তব্য বাক্সা ফোর্ট হয়ে পাহাড়চূড়ায় লেপচাখা। যাওয়া আসা মিলিয়ে প্রায় তের কিলোমিটার। read more

বাজিরাও মাস্তানি

প্রথমেই বলে রাখি পেশোয়া প্রথম বাজিরাও এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মাস্তানির গল্প নিয়ে বলিউডে সিনেমা এটাই প্রথম নয়, ১৯৫৫ সালে প্রথম – ধীরুভাই দেশাই পরিচালিত ‘মাস্তানি’ নামক একটা বিস্মৃতপ্রায় সিনেমা, তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি তখন। এবারেও তেমন সাড়া ফেলতে পারত কিনা সন্দেহ আছে কারণ তদানীন্তন মারাঠা অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত ইতিহাস নিয়ে আজকের বেশিরভাগ ভারতবাসীই উদাসীন, মাধ্যমিক স্তরের ইতিহাস পাঠ্যক্রম শেষ হওয়ার সাথে সাথে যার প্রয়োজন ফুরোয় কিন্তু ধন্যবাদ সঞ্জয় লীলা বনশালীকে, অল্পশ্রুত কাহিনীকে বিরল দৃশ্যরূপ দেওয়ার চ্যালেঞ্জটা সুন্দর করে পরিবেশন করার জন্যে। ইতিহাস নিয়ে আমার বরাবরই আগ্রহ, কোথাও ঘুরতে গেলে ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আমার প্রথম পছন্দ। তাই সিনেমার অপ্রয়োজনীয় দৈর্ঘ্য নিয়ে অনেক ফিল্ম সমালোচনায় পড়লেও আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হচ্ছিল ‘ইস্, আরেকটু সময় চললে পারত।’ read more

উপন্যাস আলোচনা: ‘কলাবতী কথা’

প্রতি বছর পুজো আমাদের কাছে একগুচ্ছ সাহিত্য নিয়ে হাজির হয় শারদীয়া পত্রিকা গুলোতে। আমাদের মত সাহিত্য পিপাসুরা অধীর আগ্রহে তাই অপেক্ষা করে থাকে পুজোর আগমনের। কিছু লেখা নিজ গুণে মনে থেকে যায়, আর কিছু লেখা বিস্মৃত হয় গুণহীনতায়। এবছরও তার ব্যতিক্রম না। ইতিমধ্যে বেশ কিছু পূজাবার্ষিকী প্রকাশিত, বেশ কিছু গল্প উপন্যাস পড়লাম। তার মধ্যে শারদীয়া সানন্দাতে প্রকাশিত ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘কলাবতী কথা’ র মধ্যে ভিন্নধর্মী এক লেখার আস্বাদ পেলাম। read more

পানু ব্যান

খুব বড় একটা কন্ট্রোভার্সি বাজার গরম করেছে এখন। সেটা হচ্ছে ‘পানু ব্যান’। আমরা, যারা এদিক ওদিক লিখে বেড়াই, তাদের ওপর একটা অলিখিত দায়িত্ব বর্তায় যে কোনও চালু বিতর্ক নিয়ে কিছু বলার। অবশ্য আমরা সিলেক্টিভলি যে কিছু কিছু ব্যাপার এড়িয়ে যাইনা তা নয়। তবে বেশির ভাগ জায়গাতেই বক্তব্য রাখেন আমার গোত্রের বহু মানুষ। টেলিভিশনের স্ক্রিনে মিডিয়া কাউকে কাউকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁদের বক্তব্য সম্প্রসার করে ঠিকই। আমরা সেই উচ্চতায় উঠিনি তাও ঠিক। তবে যেহেতু বহু মানুষ আমাদের অনুসরণ করেন, তাই কিছু তো বলতে হয়ই। read more

অন্য অহল্যা

[spp title=”অন্য অহল্যা- ১”]

অভিধানে অহল্যা শব্দটির অর্থ হল: লাঙল চালনার অযোগ্য এমন ভূমি আর সংস্কৃতে ন-হলা বা যা হল-কর্ষণযোগ্য নয়। এই অহল্যা নাম্নী নারীটি অযোনিসম্ভবা অর্থাৎ কোনও নারীর থেকে তার সৃষ্টি হয়নি। সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার নিজ হাতে গড়া অমন তিলোত্তমা অন্য কোনও পুরুষের হয়ে উঠুক সেটিও বোধ হয় ব্রহ্মা মনেপ্রাণে মানতে পারেননি তাই বুঝি অহল্যা ছিলেন চিরকুমারী এবং সেখানেই তার নামটি সার্থক। আবার অভিশপ্ত পাথরে রূপান্তরিত অহল্যা সত্য সত্য‌ই হল-কর্ষণযোগ্য নয় এবং নিষ্ফলা । সেদিক থেকেও নামের আক্ষরিক অর্থটির সাথে সাযুজ্য রয়েছে। read more

বাকরহিত

বাংলা ছবি বানানো খুব সহজ কাজ। এমনকি পৃথিবীর সহজতম কাজ বললেও ভুল হবে না।কেন? ধরুন আপনি একজন পরিচালক। উঁহু…ভুল বললাম।একজন বাংলা ছবির পরিচালক।এখন ধরে নিন আপনার হাতে প্রযোজকের মানিব্যাগ আছে।এন্তার চিট ফান্ড বা লেকমলজাত টাকা। আপনি কি করবেন?
১। প্রথমেই একজন বলিউড ফেরত নায়িকার ফাঁকা ডেট গুলো বুক করে নিন।
২। তারপর একজন ভালো ডি ও পি -র সাথে কথা বলে নিন।(সৌমিক হালদার হলে বেটার)।
৩। তারপর টি ভি চ্যানেলে একটা স্লট বুক করে নিন। ভালো ভালো কিছু টার্ম মুখস্থ করে যাবেন। (সংজ্ঞা -ও পড়বেন, কারন কিছু কিছু সাংবাদিক ঠ্যাঁটা হয়।খালি কোশ্চেন করে) যেমন সুররিয়ালিজম, দাদাইজম, কিউবিজম, নিও নোয়ার, স্লো সিনেমা, পোয়েটিক্স, হাংরিয়ালিস্ট আন্দোলন, হ্যানেকে,বার্গম্যান,ইরানিয়ান ডায়াস্পোরা ইত্যাদি। ইন্টার্ভিউ তে গিয়ে বলুন- আপনি এবার একটু “অন্যরকম” কাজ করতে ছান।এই “অন্যরকম” শব্দ টা আবার অনেক কিছু বোঝায়।মল্লিকা শেরওয়াৎ -ও অন্যরকম।আবার স্বদেশ সেনের কবিতা-ও অন্যরকম।
৪।যাকগে, এবার আপনি ছবিটা বানানো শুরু করে দেবেন। বলিউড ফেরতা নায়িকা কে নিয়ে বেশ কয়েকটা “অন্যরকম” শট নিন।মানে আপনি এতদিন টরেন্ট আর উইকিপিডিয়া ঘেঁটে যা যা শিখেছেন সেগুল কয়েকটা পারমুটেশন কম্বিনেশন করে দিন। বেলা টারের তুরিন হর্সের সাথে মাইকেল মানের চোখা সংলাপ—মেলাবেন আপনি মেলাবেন।
** ঋত্বিক বা শাশ্বত–এদের যেকোনো একজন কে নেবেন।এদের এখন পাবলিক খাচ্ছে ভালো।
৫।কিছু বোকা বোকা রমকম থেকে বামনদেব চক্রবর্তী মার্কা বাংলা অনুবাদ করা সংলাপ দেবেন। প্রেম যে আসলে দুনিয়ার সব সেরা ব্যাপার, অনেকটা পবিত্র, সাদা ভ্যানিলা আইসক্রিম বা ময়দানের বুড়ির চুলের মতো; আর রাজনীতি যে অতি বস্তাপচা, নোংরা খ্যাংরাঝাঁটা মার্কা জিনিস—এটা ভালো করে বোঝাবেন।তাহলে আনন্দবাজার ভালো নম্বর দেবে।
৬। আবার টিভি চ্যানেল।এবারে বলে আসবেন, এই ছবি টা করতে গিয়ে মানুষ হিসেবে আপনি এতোটাই পরিবর্তিত হয়েছেন, যে আর কোনোদিন আপনার আগের ছবি গুলোর মতো পাপিষ্ঠ ছবি বানাবেন না।তাই শুটিং শেষ করেই আপনি সিসিলি তে একটা ছুটি কাটাতে যাচ্ছেন।
৭। ছবির শেষ টুকু ভাবাই আসল। বেশি চাপ নেবেন না। নেট ঘেঁটে কিছু না কিছু একটা পেয়ে যাবেন। আই এম ডি বি আছে না?আর মাথা খাটাতে চাইলে ৩ এর পয়েন্ট টা আবার একটু ঝালিয়ে নেবেন।
৮। মার্কেটিং, মশাই মার্কেটিং। ওটাই আসল। রেডিও, নিউজ চ্যানেল, রেস্টুরেন্ট, রকেট বড়ি,শপিং মল, আই পি এল–সবার সাথে কোলাবরেশন করে ফেলুন। বাকিটা ফ্যাল কড়ি, মাখ তেল। read more

ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ

ব্যোমকেশ দেখলাম – নতুন ব্যোমকেশ। শুধু বয়সেই নতুন যে তা নয়, অভিজ্ঞতায়, চলনে বলনে বাঙালির কাছে এ এক নতুন ব্যোমকেশই বটে। হ্যাঁ, দিবাকর ব্যানার্জীর নতুন সিনেমার কথাই বলছি। যশ রাজের ব্যানারে এই নতুন সিনেমা – শুধু সিনেমাই, পাঠক হিসেবে তাকে শরদিন্দুর সাথে গুলিয়ে ফেললে একেবারেই চলবে না কিন্তু। সাহিত্য-ধর্মী কাহিনী থেকে সিনেমার পর্দায় উত্তরণের কিছু পদক্ষেপ আছে, দর্শক হিসবে পরিচালকের সেই স্বাধীনতাটুকু মন থেকে মেনে নিতে পারলে আজকের ব্যোমকেশ বেশ ঝকঝকে সিনেমাই বলতে হবে। শরদিন্দুর ব্যোমকেশ সত্যান্বেষী – আর দিবাকরের ব্যোমকেশ ডিটেকটিভ। পরিচালক কিন্তু প্রত্যাশা পূরনের রাস্তায় হাঁটেননি একেবারে গোড়া থেকেই। read more

ধর্ম

ধর্ম অনেকক্ষণ ধরে উসখুস করছিল। অনেকক্ষণ ধরে। একটা চাপ ধরা অস্বস্তি। একটা দমবন্ধ করা বুক চিন্‌চিন্‌ তার পিছু ছাড়ছিল না।ঘামতে শুরু করায় পরনের টিশার্টটা খুলে রেখেছিল। নিশ্বাস ঘন হয়ে আসছিল ধর্মর। মনে হচ্ছিল যেন একটু তাজা হাওয়া গায়ে লাগলে ভালো লাগতো। কিন্তু মন চাইলেও জানলা খোলার উপায় ছিল না। হাজার হাজার ফ্যানের চোখ, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ-বাল্ব তার ঘরের দিকে অনবরত তাক করা আছে। সেলিব্রেটি হয়ে থাকার মাশুল যে কী সাঙ্ঘাতিক। চরসের রসও আজ শরীরকে তাজা করতে পারছিল না। ধর্মর চোখ ছলছলে হয়ে আসছিল বার বার। আবছায়া ঘরেও কালো চশমায় চোখ ঢেকে বসেছিল সে; পাছে আচমকা আয়নায় নিজের চোখ দেখে ফেলতে হয়। read more

নস্ট্যালজিক ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’

‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’ আমি দেখতে গিয়েছিলাম দুটো কারণে – এক, এটা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের সিনেমা (লোকটাকে আমার হেব্বি লাগে), আর দুই, সিনেমার ট্রেলারটা বেশ মনে ধরেছিল। তাছাড়া ‘মিরাক্কেল’ আর ‘দাদাগিরি’তে এই ফিল্ম ইউনিটের অভিনেতারা এসে সিনেমাটা সম্পর্কে অনেক ভাল ভাল কথাও বলেছিল। তবে সেগুলোকে অবশ্য পাত্তা দিইনি, নিজমুখে নিজের সিনেমার নিন্দে কেউ করে, তাও আবার রিয়েলিটি শোতে এসে? যাই হোক, রবিবারের এক সন্ধ্যায় সিনেমাটা দেখার জন্য আন্ধেরী ওয়েস্টের ‘ইনফিনিটি মল’-এ পৌঁছে গেলাম। বেশ ছিমছাম জায়গাটা, ওই যাকে বলে ছোট্টর ওপর গুছিয়ে। একটু এদিকসেদিক করে, ‘কাপে কফি দে’-তে কফি আর সামোসা খেয়ে, মুম্বইয়ের বং ব্রিগেডের কলকাকলী শুনতে শুনতে ঢুকে পড়লাম প্রেক্ষাগৃহে। read more