ঘন্টা দুয়ের পালা

ও কলকাতা আয়োজিত গল্প প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের গল্পগুলো এক এক করে ছাপার পালা এবারে। দ্বিতীয় গল্পটি প্রকাশ হল, অনিরুদ্ধ সেনের 'ঘন্টা দুয়ের পালা' । বর্ষা-প্রেম-পাপ একে অপরকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে। পড়ে জানাবেন কেমন লাগল কমেন্ট সেকশনে।

ফেরা

ও কলকাতা আয়োজিত গল্প প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের গল্পগুলো এক এক করে ছাপার পালা এবারে। প্রথমেই ছাপা হল সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়ের লেখা 'ফেরা'। বর্ষা-প্রেম-পাপ একে অপরকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে। পড়ে জানাবেন কেমন লাগল কমেন্ট সেকশনে।

বাকিটা ব্যক্তিগত

রঙীন,

আজ তোমাকে স্বপ্নে দেখলাম। বহু-বহুদিন পর। আমি তোমাকে ভুলিনি যদিও। মাঝে মাঝেই, অফিসের কাজের ফাঁকে ফেসবুকে বন্ধুদের কমেন্টের ভিড়ে তোমার মুখটা উঁকি দিয়ে যায়। তুমি বোধহয় জোর করেই আমাকে ভুলে গেছ, একদিন দেখলাম ফেসবুক থেকে আমাকে বাদ দিয়ে দিয়েছ। কেন গো, কী করেছিলাম আমি? তোমাকে ভাল লাগে, সেটা বোকার মত প্রকাশ করে ফেলেছিলাম শুধু। আর তো কিছু করিনি। তাতেই কি তুমি…? read more

ইয়া দেভি

এবারে সে হোটেল বা গেস্ট হাউসে থাকবে না। অনেকেই এখন পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে হোম স্টে করছে। তাই যাওয়ার সময়টা ঠিক হতেই শ্রী সেদিন কাউচ সার্ফিং করা শুরু করেছে। তখন নতুন একটা ছেলে এসে মিষ্টি করে বলল – ‘একা যাচ্ছেন নাকি?’ শ্রী এক ঝলক তাকিয়ে দেখল ছেলেটা বেশ হ্যান্ড-সাম। চেহারায় একটা ঝকঝকে ভাব আছে।

‘একা কোথায়?’, শ্রীও হেসে শেরিল স্ট্যায়েডের ‘ওয়াইল্ড’ বইটা এগিয়ে দিয়েছিল।

টিকটিকির ল্যাজ

tiktikir_lyaj

যারা ভেবেছিল আপদ বিদেয় হল তাদের মুখে সম্মিলিত ছাই ও নুড়ো জ্বেলে পাড়া দিয়ে গটগটিয়ে হেঁটে গিয়ে পুরনো চেনা “সর্বকর্মকার” বোর্ড টাঙ্গানো দর্মার দোকানটার ঝাঁপ তুলল রতন। এযাবৎ বাপ ছিল বলে তার বাপের নামেই লোকে দোকানটাকে চিনত। মুখে মুখে নাম ছিল ডোমের দোকান। কে বা কারা কেন এই ডোম নামখানা পিতৃদত্ত নামের আগে বসিয়েছিল তা রতনের বাপও জানতো না বোধহয়, কিন্তু তার তাতে আপত্তি ছিল না। read more

নিত্যযাত্রী

হেউ।Nitya Jatri Illustration - Small

মুখে ভাজা মৌরির দানা ফেলে বাড়ি থেকে বেরোনোর মুখেই ঢেঁকুরটা উঠল। লোহার গেটের হাঁসকল বন্ধ করতে করতে বললাম ‘শুনছো, সদর দরজাটা বন্ধ করে দিও, বেরোলাম’।  ভেতর থেকে বউয়ের কণ্ঠ শুনে নিশ্চিন্ত হলাম, ‘দিচ্ছি, দুগ্‌গা, দুগ্‌গা’। read more

পাইলট

স্টার্ট দেওয়ার পর নিউট্রালে পা রেখে তিনবার অ্যাক্সিলেটারে চাপ দিলাম, গাঁগাঁ করে উঠল ইঞ্জিন। ব্যাটা খ্যাপামোষের মতো হাঁকড়াচ্ছে, তার মানে ছোটার জন্যে রেডি।  রেয়ার আয়নায় দেখলাম, ‘প্রতিবন্ধু’ আর সিনিয়ার সিটিজেনের চারটে সিট যা খালি, বাকি সিটগুলো সব ভরে আছে। স্ট্যাণ্ড থেকে এই সিটগুলো রোজই ভরে যায়। মাছেরঝোল ভাত খেয়ে সাজুগুজু অফিসবাবুরা, এই বাসের টায়েম জানে। বাসে উঠে সিট পেয়েই ঝিমোতে থাকে। মেয়েরা আবার কানে হেডফোন গুঁজে মোবাইলে গান শোনে। ইসটাটারের থেকে চার্ট নিয়ে হারুদা দোকানে গিয়েছে বিড়ি আর দেশলাই কিনতে। ও এলেই গাড়ি ছেড়ে দেব। আটটা বাজল। read more

লম্পট ও লাস্যময়ী

[লেখার মাঝে অনেক ইংরেজি শব্দের ব্যবহার ইচ্ছাকৃত – শুধুমাত্র ঘটনা ও চরিত্রে প্রয়োজনে, এজন্য পাঠকদের কাছে আমি ক্ষমা-প্রার্থী]

কাচের দেওয়ালে হালকা টোকা, “আসব?”

“তুমিই পদ্মিনী? এস ভেতরে এস। তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।” read more

ছিন্নমস্তা

আমি বলেছিলাম, বলেছিলাম আমি ওইসব আলফাল অশুভ রদ্দি জিনিস প্যান্ডেলের ধারেকাছে না রাখতে।

ফুঁসে ওঠে মাতব্বর গোপাল, পূজো কমিটির সেক্রেটারি, চিমনির মতো ক্লাসিকের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে। রাত বারোটা। শহরতলি। পাশের বারোয়ারীতে এতক্ষণ বলিউডি গান বাজছিল। আপনার বাড়ির দামি সাউন্ড সিস্টেমে এই সঙ্গীত হয়তো খোলতাই হয়, পদ্মের পাপড়ির মতো পরতে পরতে উন্মোচিত হয় সুর।কিন্তু, শহরতলির বারোয়ারীতে বাজানো হয় অ্যালুমিনিয়ামের তোবড়ানো অ্যামপ্লিফায়ার। তার কর্কশ আর্তনাদ শরৎকালের শ্যামলী নৈঃশব্দ্যকে কসাইয়ের মতো হালাল করে। কোথায় যেন হারিয়ে যায় বাঁশঝাড়ের স্নিগ্ধ মর্মর। কারো মনে এতটুকু স্বস্তি থাকে না। সবাই চিন্তা করে সকালের দুর্ঘটনার কথা। read more

৪/এ রাসেল স্ট্রীট

        বেকবাগান থেকে দুটো ছেলে নাগাড়ে ছুটে চলেছে। সে এক চিত্তির, একজন অপরজনকে তাড়া করছে। আজই ঘণ্টা আষ্টেক আগে সকাল ন’টার সময় শান্তনু ইন্টারভিউ দিতে আসার জন্য যখন বাড়ি থেকে বেরোচ্ছিল তখনও কি ও ভাবতে পেরেছিল আজ সন্ধ্যেয় ওর বয়সী আর পাঁচটা চাকুরে ছেলে যখন বান্ধবীকে নিয়ে ছবি দেখতে যাচ্ছে, বেকার ছেলেগুলো আরও সাড়ে বারো টাকা বাকি রেখে পাড়ার দোকান থেকে সিগারেট কিনছে, ওর পাড়ার ছেলেরা ফুটপাথে গাছের ডালে বাল্ব ঝুলিয়ে ক্যারম বোর্ড পেতে ওর জন্য অপেক্ষা করছে তখন শ্রীমান শান্তনু লাহিড়ী দক্ষিণ কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় পকেটমার ধাওয়া করছেন। ও ইশারায় রাস্তায় অন্যদেরকে বলছে ওই ছেলেটাকে থামানোর জন্য, চেঁচিয়ে বলছে ‘ও মশাই ছেলেটাকে ধরুন, ও ব্যাটা পকেটমার’। নিন্দুকেরা যাই বলুক, কলকাতার মানুষ এখন অনেক পালটে গেছে, অত হুজুগে নেই। এখন ওই গণধোলাই কালচারটা আর নেই।। কোন লোক যদিও বা টের পায় তার পকেট কাটা গেছে আর পকেটমার তার নাগাল থেকে চম্পট দিচ্ছে সে খুব বেশী টেনশন খায় না। গড়পড়তা শহুরে মানুষ এখন সাথে বেশী ক্যাশ রাখে না, বড়জোর পাঁচশো টাকা, বাকিটা কার্ড। ওই ছুটে চোর ধরার থেকে কার্ড কোম্পানি বা ব্যাঙ্ককে জানিয়ে দিলেই কার্ড ব্লক্‌ড, চোর কিছু সুবিধা করতে পারবেনা। read more