ছিন্নবীণা ৪

আগের পর্ব

বাজনাদার-পয়সাওলা-ব্যাচেলর আর সরস্বতী-লক্ষ্মী-কাত্তিক কথা

এক কালে বীণা বাজাতেন।

এখন iphone অ্যাপ download করেন।

এক কালে শ্বেত-বরণ বলেই লোকে চিনতো।

এখন তাকে Fair and Lovely-র দেবী বলেই হয়তো চিনছি।

এক কালে হাতেখড়ি, আর বইপত্র রেখে এবারের পরীক্ষাটা পাশ করা নিয়ে ভাবতাম, এখন পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া হলুদ শাড়ি পরা মেয়েটা সেই পাশ ফেলটা তুচ্ছ করে দিয়েছে। read more

কিভাবে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট করবেন না – ৪

জলহস্তীর মত সুরেলা কণ্ঠে প্রথম প্রশ্ন করলেন, ‘বাড়ি কোথায়?’ বললুম। তাতে চোখটা ওপরে তুলে বললেন, ‘স্টেশন থেকে কতদূর বাড়ি?’ ‘বেশিক্ষণ না – মিনিট পাঁচেক। গার্লস ইশকুলের কাছে।’ ‘গার্লস ইশকুলে কাছে বাড়ি হয়ে কোন সুবিধে হয়েছে?’ ঘাড় নাড়লাম, ‘না, হয়নি।’ সেদিন তো সবে শুরু। পরে কথাবার্তা শুনে ভালো করে চেনার পর বুঝেছি, ওনার মুখ মানেই জাঙ্গিয়া। খুললেই – যাক সে কথা।

প্রবাসীর ডায়েরি ৩

মেলামেলি

নরম নীল আকাশ। তাতে কিছু মেঘ একে অপরের পিছু ধাওয়া করেছে। কেউবা ধীরে ধীরে নিজেকে বড় করে চলেছে। আবার কেউ তাদের আধো আধো হাত দিয়ে নরম নীল রংকে এক মনে আবিষ্কার করে চলেছে। এরই মধ্যে, রোদ কখনো চড়া গলায়, কখনো ফিসফিস করে সময় জানিয়ে চলেছে। read more

ছিন্নবীণা ১

দুগগা নামে শুরু!


পুজো এসে গেল !

আর আমি জনৈক বাঙালি, অফিস কাছারি করেই ব্যাস্ত। পাড়ায় Theme পুজো হয় না, তাই পুজোর সপ্তাহখানেক আগের থেকে ছাড়া বোঝা দায়ে যে পুজো আসছে।

মা কে জিগালাম, “কী নেবে পুজোয়?”

মুখ ভেটকিয়ে বল্ল “যা দিবি……।” read more

কিভাবে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট করবেন না

প্রথম পর্ব – বন্ড’চরিত্র

প্রায় প্রতিদিনই দুনিয়ার লোকের ইমেল পড়তে হয়, তাতে হাজার ফ্যাঁকড়া, দু’শ সমস্যা; কিন্তু এসবের ফাঁকেও এক এক জায়গায় চোখ আটকে যায় – তা হল সিগনেচার, অর্থাৎ ইমেল লেখা শেষ হলে যেখানে প্রাপক সচরাচর নিজের সম্পর্কে কিছু লিখে থাকেন। আবার অনেকেই কোন না কোন লেখেন – যেমন আমার এক বস লিখতেন ওয়াল্ট ডিজনির ডায়লগ – তুমি যদি স্বপ্ন দেখতে পার, তাহলে তুমি সেই স্বপ্নকে বাস্তবের রূপও দিতে পার। কদিন আগে অফিসে এরকমই আরেকটা ইমেলে চোখ আটকে গেল –সেখানে নাম লিখতে গিয়ে একজন লিখেছেন – রিগার্ডস, শীল, বলবন্ত শীল। প্রথম ও শেষবার সেইরকম শুনেছিলাম ড্যানিয়েল ক্রেগের মুখে, “মাই নেম ইজ বন্ড, জেমস বন্ড”। তাই খুব অবাক হয়েই বলবন্তের সাথে ভালো করে আলাপ করতে বসলাম। read more

ভোটরঙ্গ

বুড়ির ভোট, ভোট বুড়ির।
-সব শেষ গো বাবু! সব শেষ! এতক্ষণে দুদন্ড শান্তি। ওদের চেঁচামেচি আর নিতে পারছিনা গো বাবু। আই-টি-ইউ থেকে আই-সি-ইউ এসেছি এবারে..বুড়ীটা হাউমাউ করে ডুকরে উঠল।
বললাম, কেন গো কি হল তোমার আবার?
বুড়ী বলতে শুরু করল..
-কত ডাক্তারবাবুর কত মত! কি ঝগড়া তাদের নিজেদের মধ্যি ! চীৎকার, চেঁচামেচি সব শেষ। এবার কালকের রাত পুইলেই পরীক্ষ্যে! তারপর সব রিপোর্টগুলো আসতে শুরু করবে। একে একে জানতি পারবা আসল রোগ কোথায়। তখন বুঝেশুঝে আবার আমাকে আবার না আই-সি-ইউ থেকে আই-সি-সি-ইউ তে ট্রান্সফার করে দেয় । ততক্ষণ চলুক আমাগো গীতাপাঠ, চন্ডীপাঠ!
বললাম, খুব অসুস্থ মনে হচ্ছে তুমি!
বুড়ি বলল..
-আমি যত না অসুস্থ ওরা আরো আমাকে রোগে কাবু করে দিতেছে। জয় বজরংবলী! বাঁচিয়ে দাও এবারের মত। আর অনিয়ম করব না। জয় মা দক্ষিণা কালী! বাঁচিয়ে দাও এবারের মত। জয় নাস্তিকস্য মুনিঃ মাতা ! এবারটার মত আর আমাকে আই-সি-সি-ইউতে ট্রান্সফার কোরোনা। একে আমার দেনা গলা অবধি। তারপর আর আই-সি-সি-ইউর যা খরচ! পারবোনি বাপু পারবোনি অত ! একেই গুচ্চের টেস্ট করাতে করাতে ফতুর । শরীলের কোনো অংশ বাদ নেই গো বাবু।
বললাম, দাঁড়াও , দাঁড়াও সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে আমার! কেন ভর্তি হলে হাসপাতালে?
বুড়ি বলল..
-ভর্তি? আমি তো হ‌ই নি বাবু। ওরাই তো জোর করে আমারে ভর্তি করিয়েই দিলে! পাঁচবছর অন্তর অন্তর আমাকে নিয়ে বেকার টানাহ্যাঁচড়া। চামড়াটা ফুটিয়ে ফুটিয়ে শেষ। বলি তোমরা কি আমার নতুন চামড়া করে দিতি পারবা? তোমাদের না হয় হৃদয় বলে কিস্যু নেই। আমার হৃদয়টাতো গেল বাপু, তোমাদের ভালোবাসার চোটে! তোমরা এদ্দিনে বুঝতি পারলে? আমার মাথার অসুখটা কোনোকালে ছিলনা? অযথা মাথায় ফুটো করে, নল ঢুকিয়ে ব্যথা দিলে! এবার বলদিকিনি সত্যি করে, আমার রোগ সারাতে পারবে কিনা? আমার কিডনি দুটো পারফেক্ট ছিল। তোমরা বললে, পাথর হয়েচে। অপারেশন করে একটা কিডনি বাদ দিয়েই দিলে! জীবনে একটা বিড়ি-সিগারেট খাইনি। তোমরা টেস্ট করে বললে ফুসফুসে কালো প্যাচ আমার। আমার নাকি ফুসফুসে ক্যান্সার শুরু হয়েছে সবেমাত্র। দুটো কেমো দিয়ে দিলে!কেমো নিয়ে সে কি কষ্ট আমার! আমি যে আর ধকল নিতে পারছিনা বাবু!
বাপ্‌রে! এ কি অবস্থা তোমার! বলে উঠলাম
বুড়ি বললে..
-এবার বল তো আমাকে নিয়ে আর কত খেলবে? আমি জেনে গেছি গো বাবু, আমার এ রোগ সারার নয়। তোমরা কেউ পারবেনা আমাকে আগের মত সুস্থ করে দিতে। তাহলে? তাহলে কেন আমার ওপর এত অত্যাচার? মুক্তি দাও না আমায়! আমাকে সাজিয়ে গুছিয়ে এসি কেবিনে রেখে দিয়ে লোককে দেখাচ্ছো আমাকে তোমরা কত্ত ভালোবেসে চিকিতসে করাচ্ছো। এর শেষ কবে হবে বাবু? কবে হবে এই ছিনিমিনি খেলার শেষ? আমি যে বড্ড অসুস্থ বাবু! আর নিতে পারছিনে তোমাদের এই লোক দেখানো আদিখ্যেতা!
বুড়ি কাঁদতে কাঁদতে আঁচলের খুঁট দিয়ে চোখের কোণা মুছতে লাগল। আমি হতভম্ভের মত চেয়েই র‌ইলাম ওর দিকে। আমি আজ কিংকর্তব্যবিমূঢ়। বুড়িকে বাঁচানোর ক্ষমতা নেই আমার মত একরত্তির। বুড়ির আছে লোকবল। আমার আছে বুড়ি। কিন্তু আমারো তো দায় বুড়িকে বাঁচানোর। তবুও…. বুকের মধ্যে চাপ অনুভূত হল প্রচন্ড।
মনে হল বলি” চলো তো বুড়িমা। হাসপাতালের বন্ডে স‌ই করে তোমাকে আজ ছাড়িয়ে নিয়ে যাই!” read more

পয়লা বৈশাখ

হিন্দু বৈদিক সৌরীয় ক্যালেন্ডারের সাথে বাংলা ক্যালেন্ডারের একটা সূক্ষ্ম যোগাযোগ আছে । সেটা হল দুটোই  সূর্য-সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সাথে তুলনা করলে বাংলা নববর্ষ শুরু হয় এপ্রিলের মাঝখান থেকে (১৪/১৫-ই এপ্রিল)। আর এই বাংলা নববর্ষ (১-লা বৈশাখ) এক্কেবারে মিলে যায় মিথিলা, আসাম, বার্মা, কম্বোডিয়া, কেরালা, মণিপুর, নেপাল, উড়িষ্যা, শ্রীলঙ্কা, তামিলনাডু, আর থাইল্যান্ডের ক্যালেন্ডারের সাথে। read more

পয়লা

– কাঁদছ?
– কাঁদব না?
– না মানে। কেঁদে লাভ নেই তো।
– তুমি এমন ভোম্বল মার্কা কথা বলা বন্ধ করবে? আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আর তোমার সঙ্গে হয়নি, হয়েছে অন্য পাত্রের সঙ্গে। কাঁদব না? তোমারও তো চোখ ছলছল করছে। স্পষ্ট দেখতে পারছি।
– সেন্টিমেন্টাল তো হতেই হবে। আর ইয়ে, তোমায় সান্ত্বনা দিয়ে পিঠও চাপড়ে দিতে হবে। উপায় কি বল। আমি একটা বেখাপ্পা ছেলে। চালচুলো নেই। তুমি এক প্রকার বেঁচেই গেলে। আমার সঙ্গে বিয়ে হলে কি পেতে?
– কি দারুণ সংসার হত বলো তো। তোমার ফতুয়ার বোতাম ছিঁড়ে গেলে সেলাই করে দিতাম।
– এখন তোমার সায়েব বরের কোটের বোতাম ছিঁড়ে গেলে সেলাই করে দিও না হয়।
– ধুস। তুমি আর আমি মিলে ছাদে মাদুর পেতে বসে কত গল্প করতাম সন্ধেবেলা। এক সাথে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতাম। আর সাথে থাকতো এক বাটি ফুলুরি।
– তোমার হবু বরের সঙ্গে তুমি রুফ টপ পশ্চিমা রেস্তোরাঁয় বসে দাঁত ভাঙা নামের মন ভরানো সব খাওয়ার খাবে। ডিস্কো নেচে রাত ভর হুল্লোড় করবে।
– তোমার সাথে বিয়ে হলে আমরা দু’জনে পাড়ার ক্লাবের ফুটবল ম্যাচ দেখতে যেতাম। বাড়ি ফেরার পথে ফুচকা খেয়ে পেট ভরিয়ে ঢুকতাম।
– আর এখন তোমার হাই ফাই বর তোমায় টি টুয়েন্টি ম্যাচ দেখাতে নিয়ে যাবে। ফেরার পথে তোমাদের থাকবে কে-এফ-সি বাঁ পিৎজা হাট। কত মজা বল দেখি।
– তুমি একটা যাতা। আমার হবু বর পারবে আমার সাথে দেশপ্রিয় পার্কের সস্তা হোটেল কেবিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা মারতে?
– আরে সে তোমায় নিয়ে লং ড্রাইভে যাবে। তার জেল্লাই আলাদা।
– তুমি আমায় কথা দিয়েছিলে যে আমাদের বিয়ে হলে গরমের দুপুরে তুমি আমায় আম পোড়ার শরবৎ করে দেবে। আর লালবাজার থেকে স্পেশাল চায়ের পাতা এনে আমায় লেবু চা করে খাওয়াবে। আমার এই বর আমায় কাঁচকলা দেবে।
– আরে না গো! কাঁচকলা কেন দেবে। তোমার হাজব্যান্ড তোমায় গরমের দুপুরে ক্লাবে চিল্‌ড বিয়ার খাওয়াবে। সন্ধ্যের অবসরে স্কচ। সেলিব্রেশনে শ্যাম্পেন।
– তুমি না থাকলে আমায় শঙ্খ ঘোষ কে পড়ে শোনাবে?
– সে তোমার জন্যে গীটার বাজিয়ে হদ্দ হবে গো।
– তোমার সাথে ভোরে উঠে হাঁটতে বেরতাম। হাঁটতে হাঁটতে কত গল্প। ফেরার পথে সবজি বাজার করে থলে ভরে বাড়ি ফিরতাম।
– এ সব আদ্যিকালের ব্যাপার। তোমার নতুন বরের সঙ্গে তুমি নাইট আউট চিনবে। নিপাট রাত জাগা। আড্ডা হুল্লোড়ে রাত জাগা।
– দু’জনে মিলে একসাথে দুই বাবা আর দুই মাকে মাঝে মাঝে প্রণাম করতাম। দারুণ মানাত আমাদের। একদম ট্যাঁপা আর টেঁপি।
– নতুন বরের সাথে মিলে বাপ-মা’দের জড়িয়ে ধরে গালে চুমু খাবে। মিস্টার অ্যান্ড মিসেস। সে স্নেহের পরিসর কম কিসে? তুমি কিন্তু তোমার বর কে নিয়ে বড্ড বেশী নেগেটিভ হয়ে যাচ্ছ।
– তুমিই বা কি, একটা অন্য ছেলে তোমার প্রেমিকার হাত ধরে টেনে নিয়ে ড্যাং ড্যাং করে চলে যেতে বসছে, আর তোমার যেন কিছুতেই কিছু এসে যাচ্ছে না।
– আমার ফিউচার নেই গো। তোমায় বেঁধে রেখে কি লাভ? আমার সাথে লেপটে থাকলে শেষে তুমিই মরবে। আর তাছাড়া আমি জানি, তোমার মনের কোন এক কোণে চেপেচুপে আমার স্মৃতিটুকু থেকে যাবেই। তুমি জাত নস্টালজিক। আচ্ছা, তোমার হবু বরের নামটুকু তো বললে না।
– ওর নাম ফার্স্ট জ্যানুয়ারী। কেমন কাঠ-খোট্টা বল।
– কাঠ-খোট্টা কেন হতে যাবে? বেশ নাম তো। ফার্স্ট জ্যানুয়ারী। আমার মত থপথপে নাম নয়। তুমিই বলো, এই যে আমার নাম, শ্রী পয়লা বৈশাখ। এটা কোন নাম হল?
– তুমি আমায় বিয়ে করবে না তো করবে না। কিন্তু জেনে রেখো, আমার কাছে ওই ফার্স্ট জ্যানুয়ারী গোছের নামের থেকে পয়লা বৈশাখ নামটা অনেক বেশী মধুর। এবং চিরকাল তেমনটাই থাকবে। বুঝলেন পয়লা বাবু?
– হে হে হে।
– অমন বোকা হাসিতে ভুলছি না। তোমার একটা জিনিষ আমার কাছে জমা করে রেখে যেতে হবেই। নয়তো ছাড়ছি না তোমায়।
– কি জিনিষ গো?
– হাল খাতা। তোমার হালখাতাটা আমায় দিয়ে যেও প্লীজ।
– হালখাতার যে আজকাল কোন দাম নেই গো।
– স্মৃতির দাম নেই বুঝি? প্লীজ পয়লা, জানুয়ারির হাতে আমায় ঠেলে দিচ্ছ, আমি কিছু বলছি না। কিন্তু তোমার হালখাতার স্মৃতিটুকু অন্তত আমাকে দিও। দেবে না ?
– বেশ। দেব তোমায়। হালখাতার স্মৃতিটুকু। ভালো থেকো। কেমন? read more

বাদশাহী সার্কাস

যখন দেখতে শুরু করেছিলাম তখনই বুকের কাছে হাত জড়ো করে চোখ বুজে প্রার্থনা করছিলাম, হে ভগবান, ৩১শে ডিসেম্বরের রাতটাকে তুমি নষ্ট হতে দিও না, প্লিজ প্লিজ প্লিজ ! কিন্তু ঐ সেকেন্ড প্লিজটা বলার সময় কানের সামনে একটা পোঁ পোঁ করে আওয়াজ শুনে বাঁ চোখটা ঐ যে আধা মিলিমিটার ফাঁক করেছিলাম, ব্যাস ! ওইটুকুর জন্য ভগবান আমার আপীল রিজেক্ট করে দিল ! নিষ্ঠুর হে ! এই করনি ভাল ! read more

মার্জার কাব্য – ৩

image002

(প্রথম ভাগ) (দ্বিতীয় ভাগ)

বিড়াল কাহিনী – ৩

আমাদের বাগানটা ছিলো বেশ বড় – আম, পেয়ারা, কাঁঠাল, কুল, নারকেল, সুপারি, লিচু, জামরুল, কলা, চালতা, ফলসা, সবেদা, বাতাবি লেবু আরো হরেকরকম ফলের গাছে ভরা ছিল জায়গাটা। ফুলের গাছও  ছিলো অনেক রকমের – হাস্নুহানা, কদম, গোলাপ, দোপাটি, কাঞ্চন, অপরাজিতা, মাধবীলতা, বোগেনভলিয়া, জবা, রঙ্গন, গন্ধরাজ……  এ ছাড়া ইউটিলিটি সব্জি, যেমন লাউ-কুমড়ো, লঙ্কা, পেঁপে, ডুমুর, পালং/পূঁই/কলমী, ওল-কচু, বেগুন, থানকুনি, ইত্যাদি তো ছিলই। এতো বড়ো বাগান ওই অঞ্চলে আর কোথাও ছিলনা। সে’জন্যে অনেক সময় সাপ-খোপ, পেঁচা, বাদুড়েরও উপদ্রব হতো। মাঝে মাঝে ‘শোড়েল’ বলে শিয়ালের মতো এক জন্তু রাতের বেলা এসে হানা দিতো। তার গায়ে থাকতো এক বিশ্রী রকমের গন্ধ, যা বহুদূর থেকে নাকে আসতো। আর তা থেকেই বুঝতে পারতাম যে বাগানে শোড়েল ঢুকেছে! তখন টর্চ, লাঠি-সোঠা নিয়ে বাগানে গিয়ে তাড়া করা হতো। বাদুড়রা অন্য কোথাও থেকে ‘বাক্স বাদাম’ নিয়ে এসে রাতের বেলা গাছের ডালে ঝুলে ঝুলে খেতো। কিন্তু বাক্স বাদামের খোলা খুলে খাওয়া সহজ কথা নয় – তাই বেশিরভাগ সময় ওরা কিছুটা চিবিয়ে বাদামটা ফেলে চলে যেতো। পরের দিন সকালে গিয়ে আমরা সেই সব বাদাম খুঁজে খুঁজে বাড়িতে নিয়ে এসে ভালো করে ধুয়ে, হাতুড়ি দিয়ে ভেঙ্গে খেতাম। খেতে আহামরি হয়তো তেমন ছিলো না, কিন্তু সেই বয়সে এই ভাবে বাদাম খোঁজার মধ্যে বেশ একটা রোমাঞ্চ লুকিয়ে থাকতো। যাই হোক সেই বাগানে মাঝেমাঝেই বাইরে থেকে একটা কুকুর এসে তার প্রাত্যহিক কৃতকর্ম করে যেতো। বাগানের চারদিকে পাঁচিল থাকলেও, ঢোকার মুখের যে গ্রীলের গেট-টা ছিলো, সেটার মধ্যে দিয়ে কুকুর অনায়াসেই গলে যেতো পারতো। ঢিল ছুঁড়ে, বা তাড়া করেও সেই কুকুরকে ভয় দেখানো যায় নি। তাছাড়া কুকুরটা ছিলো অত্যাধিক চালাক। সে যেন আগে থেকেই  জানতো যে কোথায়, কখন, বা কে তাকে লক্ষ্য করছে। read more