আশ্বিনের শারদ প্রাতে

আমি বাংলা ভাষাও ছাড়িনি, বাঙালিয়ানা ও ছাড়িনি, ছেড়েছি শুধু শহরটা। তবে ওটাও নেহাত দায় না পড়লে ছাড়তাম না।

শহর থেকে দূরে থাকার একটা খারাপ দিক হলও এখানে উৎসবের আমেজ ঠিক বোধ করা যায়না। উৎসব বলতে এখন অবশ্যই দুর্গাপূজার কথা বলছি। আজ দশ বছরের বেশি হয়ে গেল বাইরে। দিল্লী, লখনৌ, মাদ্রাজ, হায়দ্রাবাদ, লন্ডন… এখানে কোথাও কাশফুল ফোটেনা। কোথাও মহালয়ার দিন ভোরে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের আওয়াজ রেডিও থেকে ভেসে আসেনা। এখন অবশ্য সব টিভি চ্যানেলে একটা না একটা মহিষাসুর-মর্দিনী অভিনীত হয়, কিন্তু কোনও কিছুই যেন সেই রেডিওতে মহালয়া শোনার অনুভূতি ফিরিয়ে দিতে পারেনা। read more

দুর্গাপূজা, প্রেম ও এক অধুরী কাহানী

পুজো আসছে, আর বাকি ১৩ দিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই এই ধরনের পোস্ট চোখে পড়ছে। আমরা যারা বাইরে থাকি, তাদের কাছে পুজো মানে কিন্তু বাড়ি ফেরার আনন্দ। আলোয় মোড়া আমার খুব চেনা এই শহর, চেনা-অচেনা সব মানুষ, ভিড়, একরাশ হাসিমুখ, প্যান্ডেলের বাইরে লম্বা লাইন, ঢাকের আওয়াজ, ধুনোর গন্ধ…সব মিলে মিশে একটা অন্যরকমের ভালোলাগা। তাই আমার বন্ধু যখন আমাকে এই লেখাটা লিখতে বলল, সঙ্গে জুড়ে দিলো যে একটু নস্টালজিয়ার ছোঁয়া চাই কিন্তু, আমি আয়নার দিকে তাকিয়ে জুলফিতে আর দাড়িতে রূপোলী ছোঁয়া দেখে চমকে উঠে, বাড়তে থাকা পেটের ওপর হালকা করে হাত বুলিয়ে নিজের মনেই গেয়ে উঠলাম “আমার যে দিন ভেসে গেছে…”। read more

পয়লা আষাঢ়

বৃষ্টি আমার কৈশোর, কিন্তু বর্ষা আমার প্রেম। তাই বলে কৈশোরসুলভ অপাপবিদ্ধ প্রেম নয়; রীতিমত নিষিদ্ধ এবং দু:সাহসী। প্রথম যৌবনে কারও কোমরে হাত দেওয়ার মত, তাও আবার দক্ষিণ ভারতে, শিরুভানি জলপ্রপাতের সামনে।

আমরা যারা বাইশের/তেইশের ওপারে আর উনত্রিশ/ত্রিশের এপারে

আমদের প্রজন্মটাকে সময় বস্তুটা চিরকালই হাঃ মুগ্ধ করে রেখেছে। একমাত্র ফুচকাওয়ালার হাত ধোওয়ার সাবান বাদ দিয়ে এমন কোনো জিনিস নেই যা আমরা দেখিনি (সোলজার কিন্তু হিট করেছিলো ফলে ওই প্রসঙ্গ আনা গেলোনা)। সেই জন্ম থেকে শুরু করে বর্তমানে পাড়ায় নির্ভয়ে সিগারেট খাওয়া/ মায়েরটা ছেড়ে নিজের জন্য শাড়ি কেনা অথবা দুটোই একসাথে অবধি। সারাটাক্ষন যেন এক অদৃশ্য হাত রোজনামচার চলতিতে ধরিয়ে দিচ্ছে অবাক হওয়ার ইস্তেহার। আর সে এমনই আদেখলা হওয়ার নিমন্ত্রন যাকে মুঁড়িয়ে ফেলে দেওয়ার যান্ত্রিকতা আমাদের ছিলনা, নেই, হবেও না। read more

ঋতুদা, ঋতুদি এবং আমরা

গতকাল ৩০শে মে ছিল ঋতুপর্ণ ঘোষের মৃত্যুবার্ষিকী তিন বছর হল তবু ভেতর ভেতর ভীষণ লজ্জা পাই এই ভেবে যে শ্রদ্ধা নিবেদন করার আগে, আমরা আদৌ তার যোগ্য কিনা এই প্রশ্নটা বোধহয় আমাদের নিজেদেরকেই আগে করা উচিত read more

আমার ছোটবেলা

13016769_1234155003278816_254681483_o

Pet মানে অন্যকিছু হলে চলবে না। হতে হবে বাঁদর ছানা।

বায়েনা খানিক এরকম-ই ছিল।

আমার ছোটবেলার ঘটনা। সব বাচ্চাদের মতন আমার এক দিন মনে হল আমার একটা pet  দরকার। যেমন ভাবা সেই রকম কাজ। এই সব, জীবনের গুরুতর জিনিস এক মাত্র বাবারসাথেই আলোচনা করা যায়। গম্ভীর মুখে বাবা কে গিয়ে বললাম ” আমার একটা pet  দরকার”। মা তো শুনেই প্রমাদ গুনল , আবার একটা ঝামেলা জোটাব আমি। বাবা আরও গম্ভীরমুখে বলল ” ঠিক আছে”  , কিন্তু কিনতে যাবার আগে ঠিক করতে হবে আমি কি চাই কিনতে । read more

শীতবদল

‘সব ঋতুর সেরা বাঙালির তুমি শীতকাল’ – মান্না দে এমন একখানি গান বাঁধলে ফুটবলের মতই সেটি সমান আদর পেত।

আরামপ্রিয় বাঙালির কাছে শীতকাল হল শেষ পাতের মিষ্টি দইয়ের মতো . . নিজের মিষ্টতা আর ঠান্ডা দিয়ে যে ধীরে ধীরে সব বাঙালি মনকেই আচ্ছন্ন করে বছর শেষে। read more

কিভাবে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট করবেন না – ৬

আগের পর্ব

সাত দুকুনে চোদ্দর চার – হাতে রইল পেনসিল

প্রজেক্ট ম্যানেজ সিরিজ অনেকদিন বন্ধ ছিল। কেন বন্ধ ছিল জিজ্ঞেস করায় এক এক জনকে এক এক রকম উত্তর দিয়েছি। যেমন – “তর্ক নেই বলে লেখা হচ্ছে না!” read more

যার ঢিশুম করতে মুখোশ লাগেনি

12544216_1168034413224209_774650714_o

সম্ভবত ক্লাস ফাইভে পড়তাম। মা আগের দিন একটা লাল গামছা কিনে এনেছিলো। গোড়া থেকেই তক্কে তক্কে ছিলাম। পরের দিন ইস্কুল কোনো কারনে ছুটি। বেশ জুত করে সেখানা কেটে কুটে পাগড়ি বানালাম একপিস। কাগজ কেটে গোঁফ। সারাদিন চাচা চৌধুরী হয়ে ঘুরে বেড়ালাম। এমন আবেগে ভেসে গেলাম যে ভুলেই গেলাম মায়ের অফিস থেকে আসাবার সময় হয়ে গ্যাছে। মা, ফিরলো, দেখলো ছেলে সদ্য কেনা গামছা ফর্দাফাই করে, তারই লাল হাতকাটা কার্ডিগান খানা গায়ে জড়িয়ে কাল্পনিক রাকাকে কাল্পনিক সাবু দিয়ে পেটাচ্ছে। যে কটা কারনের জন্য আমার মা পৃথিবীর সবচাইতে মিষ্টি প্রানী তার একটা হলো মা সেইদিন শুধু হেসেছিলো। একফোঁটাও বকেনি মারেনি। কমিক্স নামের সেই আশ্চর্য ডানা জুড়ে স্পীচ বাবল আর থট বাবলে উড়ে বেড়াতে শেখাও মার হাত ধরেই। সেই টালমাটাল সময়েই এক জন্মদিনের দিন হাতে এলো একটা কমিক্সকা বাপ (তখন গ্রাফিক বলে কোনো শব্দ আছে কিনা তাই জানিনা, তায় আবার নভেল)। নর্থ শহরতলিতে বসেই মনে প্রাণে আন্তর্জাতিক হওয়ার হাস্যকর আপ্রান চেষ্টার ওই শুরু।
তখন ডায়ামন্ড কমিসকের দাম ছিলো দশটাকায় একটা, আর নণ্টে ফন্টে হাঁদা-ভোঁদাদের সাত টাকা। আরও একট ছিলো চার-টাকা দামের হাতের তালু সাইজের হি-ম্যান। সবচাইতে দামি ছিলো অরন্যদেব, পঁচিশ টাকা। এক একটা কমিক্স ছিলো কিডনিসম। সত্যি বলছি, এখন প্রাক্তন বিষয়টা নিয়ে যতটা সেনসিটিভ তখন কমিক্স নিয়ে তার চাইতেও বেশি ছিলাম। ফলে লোহিত সাগরের হাঙ্গর-এর পিছনে নব্বুই লেখা দেখে মনে ক্যামন একটা ভক্তিভাব চলে এসেছিলো আপনা থেকেই। তারপর কিনা আবার ওত্ত বড়! ওতোগুলো পাতা! একটাই গল্প! সব মিলিয়ে একটা আশ্চর্য ব্যাপার! চমকে এক্কাকার। গল্পটা পড়েছিলাম প্রায় একদমে। তারপর প্রায় বিলিয়ান টাইমস পড়েছি। একদমে। এর আগে চাচা চৌধুরী হরেদরে এগ্রহ সেগ্রহ করেছে, ফ্ল্যাশগর্ডন তো ছেড়েই দিলাম, তাছাড়া অরন্যদেব, হি-ম্যান সব্বাই হেলায় হারিয়েছে শত্রুদের। কিন্তু এই গল্পের হীরো দেখলাম ঘুঁষি খায়, মাথায় চোট পেয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়, পড়ে যায়, ফেঁসে যায়। কোনো স্পেশাল পাওয়ার নেই। অসম্বব বুদ্ধি আছে এমনটাও না। কেউ যে খুব বিশেষ পাত্তা দেয় তাও না। তার মধ্যে রোগা পাতলা চেহারা। কিন্তু শেষমেশ জিত তারই হয়। এই বিষয়গুলো একেবারে আচ্ছন্ন করে ফেললো। আমায় ছোট থেকেই বাড়িতে শেখানো হয়েছে তুই কিন্তু ব্যাটা গরীব এবং ইন্টালিজেন্ট আর আমি তদ্দিনে বুঝে গেছি আমি বেশ সবার মত। ফলে টিনটিন হয়ে উঠলো আরাধ্য দেবতা। ছাপোষা ইন্টালিজেন্সির জয়। দরকার শুধু সাহস আর মনের জোর। read more

অমল মহিমা লয়ে তুমি এলে- ২

ঠাকুর দেখা মানে তো শুধু ঠাকুরের কাছে যাওয়াই নয় - কে কিরকম সেজেগুজে বেরিয়েছে, পরিচিত-স্বল্পপরিচিত সমবয়সী সুন্দরী মেয়েদের দিকে ইতিউতি তাকানো, একটু হাসি, একটু ইশারা, একটু মান-অভিমান, একটু আশা-দু:সাহস - মানে চটপট প্রেমিক-প্রেমিকা বেছে নেবার মতো এরকম সুলভ সুযোগ বছরে আর দুটো আসতো না। রঙিন ফ্রক আর শাড়ির দল, সামান্য স্নো-পাউডারের প্রসাধনীতে হঠাৎ করেই প্রজাপতির মতো সুন্দরী হয়ে ওঠা মেয়েরা চোখে যেন সম্মোহনের মায়াজাল বুনে দিয়ে যেতো।