অমল মহিমা লয়ে তুমি এলে- ১

ছোট থেকে ধীরে ধীরে বড় হয়ে যাওয়াটাই এ জগতের চিরাচরিত নিয়ম। কিন্তু সেই সময়ে আমরা বড্ড বেশি করে চাইতাম 'চট' করে বড়ো হয়ে যেতে। তা'হলে দাদার মতো একলা একলা সাইকেল চেপে যেখানে খুশি যেতে পারবো, বা কাউকে না-বলেই ট্রেনে চেপে কলকাতা ঘুরে আসতে পারবো, এ'সবই আর কি ! কিন্তু আজ পিছু ফিরে বুঝতে পারি যে কি সাংঘাতিক ভুল চাওয়াই না সেদিন চেয়েছিলাম। বড় হওয়া আর মেকি হওয়ার মধ্যে আদপেই যে কোনো পার্থক্য নেই, তা বোঝার ক্ষমতা সেদিনের 'সেই আমি'-র ছিলো না।

কিভাবে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট করবেন না – ৫

ওফ এরকম করেছিল বটে কৃষাণু। সেই ২০০৬ সালে। দিব্যি বন্ধুদের কথা শুনে বার খেয়ে, ডিকশনারি দেখে এক-পিস প্রেম পত্র সাজিয়েছিল কিন্তু সেই সঙ্গে নিজেকে সেফ-সাইডে রাখার জন্য দুই ম্যানেজারকে কপিতে রেখে মেলটা করেছিল। ফলটা হল উলটো। লেঙ্গি তো খেলোই, তার ওপর জাঁদরেল প্রজেক্ট ম্যানেজারের দাবড়ানিতে টানা দু বছর ধরে সব প্রজেক্ট / নন-প্রজেক্ট পার্টিতে নীলাঞ্জনা গাওয়া করিয়েছিল। একটা সময় কৃষাণুর মনে হত ডেকে সবার সামনে বলদ বলে কান ধরে উঠবস করালেও বোধহয় এতটা দুঃখ হত না। প্লাস ঐ চিঠিটা পড়েনি এমন কেউ পাবলিক শুধু ঐ প্রজেক্ট কেন, গোটা অপিসেও ছিল না।

কিভাবে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট করবেন না – ৪

জলহস্তীর মত সুরেলা কণ্ঠে প্রথম প্রশ্ন করলেন, ‘বাড়ি কোথায়?’ বললুম। তাতে চোখটা ওপরে তুলে বললেন, ‘স্টেশন থেকে কতদূর বাড়ি?’ ‘বেশিক্ষণ না – মিনিট পাঁচেক। গার্লস ইশকুলের কাছে।’ ‘গার্লস ইশকুলে কাছে বাড়ি হয়ে কোন সুবিধে হয়েছে?’ ঘাড় নাড়লাম, ‘না, হয়নি।’ সেদিন তো সবে শুরু। পরে কথাবার্তা শুনে ভালো করে চেনার পর বুঝেছি, ওনার মুখ মানেই জাঙ্গিয়া। খুললেই – যাক সে কথা।

কিভাবে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট করবেন না – ৩

ভদ্রমহিলা ডাকসাইটে সুন্দরীও ছিলেন। তখন ভয় পাব কি পাব না এই নিয়ে থতমত খাচ্ছি, এর মধ্যে টেস্ট স্ট্র্যাটেজি পুরো মাখনের মত নেমে গেল। সেদিন বুঝলাম, মোলায়েম ক্যাম্বেলও একটা নতুন প্রজাতি। দাবাং তো হল এই সেদিন, কিন্তু ‘থাপ্পড় সে ডর নেহি লাগতা, প্যার সে লাগতা হ্যায়’ – এই নিদেন উনি আমাকে দিয়ে গেছেন প্রায় এক দশক আগে।

কিভাবে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট করবেন না – ২

আগের পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব  – বোঝেনা,  সে বোঝে না

সত্যি বলতে কি প্রথম লেখাটার পরে যে বাড়িতে ঢিল পড়েনি বা অফিসে দু একটা চড় থাপ্পড় পড়েনি – এতে আমি একটু অবাকই হয়েছিলাম। শীল যে কিনা নিত্য মুগুর ভাঁজে – অটো-ওয়ালাকে প্যাঁদায়, সে কি আর এত বড় মস্করা সহ্য করতে পারে? আশ্চর্যের বিষয় এসবের কোনটাই হয়নি – উলটে এই লেখা বেরনোর পরের দিন যখন অফিসে পৌঁছেছি, ততক্ষণে দেখি রীতিমত হইচই পড়ে গেছে আর সেই ঠেলায় শীলও বন্ড নামে প্রায় বিখ্যাত হয়ে গেছে। যারা লুকিয়ে চুরিয়ে রিসেপশনিস্টকে দেখত, তারাও বিড়ম্বনায় পড়ে গেছে – পাছে আমি কখনও তাদের নিয়ে গল্প লিখে ফেলি। শীলের নানা রকম কীর্তিকলাপ আমার কানে আস্তে শুরু করেছে – যাতে অন্য কোনোদিকে না তাকিয়ে আমি দ্বিতীয় পর্বটাও ওকে নিয়েই লিখি। যেমন বন্ড নাকি জানে প্রজেক্টে কোন মেয়ের কোথায় ট্যাটু আছে, যার গার্ল-ফ্রেন্ড নেই, তার বন্ড আছে এইসব। তা বন্ড যতই কালটিভেট করার মত চরিত্র হোক না কেন, আমাদের তো লক্ষ্য হারালে চলবে না। আমরা কথা শুরু করেছি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। সেই নিয়ে আজকে আমাদের দ্বিতীয় পর্ব। গোড়া থেকে আরম্ভ করা যাক। read more

প্রবাসীর ডায়েরি ২

Okolkata_OK_-_Dharabahik

 “স্যার, পাবলিক আমায় নেবে তো?”

একটা হাল্কা উন্মাদনা বোধ করছি। আমার লেখা জনৈক ব্লগে ছাপানো হচ্ছে। একটু একটু করে পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে। সকাল বিকেল কড়া নজর রাখছি ফেসবুকে এবং ব্লগে কে লাইক করছে, কে কী কমেন্ট করছে তা জানার জন্য। মাঝে মধ্যে মনে হচ্ছে একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলছি। তাও, নিজেকে থামাতে পারছি কই? read more

প্রবাসীর ডায়েরি ১

টেস্টিং, টেস্টিং, গিনিপিগ টেস্টিং

সকালবেলা হলে নিয়ম করে খাতা নিয়ে বসাটা কেমন যেন আস্তে আস্তে নিয়মে পরিণত হচ্ছে। কী লিখব না ভেবে লিখতে শুরু করা কেমন জানি কী চাইব না জেনে ভগবানের কাছে হাত জোড় করার মত! আমার স্থির বিশ্বাস হাত জোড় করার পরই চাওয়ার লিস্টটা ভাঁজ ভাঙে। read more

বর্ষা, কলকাতা আর আমি

হোম-অফিস হওয়ার মজা হল, রোজ রাস্তায় বেরতে হয়না। অফিস টাইমের ভীড়, ঘামের গন্ধ ভরা বাস, হঠাৎ থেমে যাওয়া মেট্রো রেল , অটোরিকশা বা ট্যাক্সি স্ট্রাইক, কিছু নিয়েই খুব একটা মাথা ঘামাতে হয়না। কিন্তু এর একটা কুফল ও আছে। মাঝেমধ্যে কাজের চক্করে বেরোতে হলে পুরো ঘেমে-নেয়ে-কেস-খেয়ে একশা কান্ড। তার মধ্যে যদি আবার বৃষ্টি পড়ে, ঝড় ওঠে বা মিটিং-মিছিল থাকে, তাহলে তো হয়েই গেল। আমি পুরো, ইংরেজিতে যাকে বলে, ‘ক্লু-লেস’ সেটাই হয়ে যাই। তখন আমাকে দেখে কে বলবে এই আমি লোকাল ট্রেনে ডেলি-পাষন্ডগিরিও করেছি। এই তো গত সপ্তাহে অনেকদিন পরে কাজে বেরোতে হয়েছিল। দুপুর বেলা মেট্রো করে পার্ক স্ট্রীটে নেমে, ওপরে উঠে  দেখি বেশ বৃষ্টি হচ্ছে। তার মধ্যে আবার ফোনটা কাজ করা বন্ধ করে দিল। আমি একগাদা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে, বহুদিনে অনভ্যাসের ফলে পার্ক স্ট্রীটে মেট্রোর মুখ কোন দিকে খোলে, সেটা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে, মাথার ওপর ছাতা খুলে, উলটো বাগে হাঁটা লাগালাম, আর ভাবতে থাকলাম- একি! মোড় থেকে স্টেশনের মুখ এত দূরে ??  প্রায় মিনিট পাঁচেক পরে বুঝতে পারলাম আমি কি কেলোটাই না করেছি। অগত্যা, আবার পেছন ফিরে হাঁটা লাগাতে হল। read more

কিভাবে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট করবেন না

প্রথম পর্ব – বন্ড’চরিত্র

প্রায় প্রতিদিনই দুনিয়ার লোকের ইমেল পড়তে হয়, তাতে হাজার ফ্যাঁকড়া, দু’শ সমস্যা; কিন্তু এসবের ফাঁকেও এক এক জায়গায় চোখ আটকে যায় – তা হল সিগনেচার, অর্থাৎ ইমেল লেখা শেষ হলে যেখানে প্রাপক সচরাচর নিজের সম্পর্কে কিছু লিখে থাকেন। আবার অনেকেই কোন না কোন লেখেন – যেমন আমার এক বস লিখতেন ওয়াল্ট ডিজনির ডায়লগ – তুমি যদি স্বপ্ন দেখতে পার, তাহলে তুমি সেই স্বপ্নকে বাস্তবের রূপও দিতে পার। কদিন আগে অফিসে এরকমই আরেকটা ইমেলে চোখ আটকে গেল –সেখানে নাম লিখতে গিয়ে একজন লিখেছেন – রিগার্ডস, শীল, বলবন্ত শীল। প্রথম ও শেষবার সেইরকম শুনেছিলাম ড্যানিয়েল ক্রেগের মুখে, “মাই নেম ইজ বন্ড, জেমস বন্ড”। তাই খুব অবাক হয়েই বলবন্তের সাথে ভালো করে আলাপ করতে বসলাম। read more

ছেলেবেলার গল্প

জ্বলন্ত হ্যারিকেনের চারপাশে তারা তিনজন বসে খাচ্ছিল। অভয়া পরিবেশন করছেন। সামান্যই আয়োজন। মোটাসেদ্ধ চালের ভাত,আলুসেদ্ধ,সর্ষেশাক,ডাল,আর আদা জিরে বাটা দিয়ে ছোট ছোটট্যাংরা মাছের ঝাল। শীতের শুরুতে মাছের গায়েচর্বি জমে ভারি সুস্বাদহয়েছে। উঠোনে ফটফটে চাঁদের আলো পড়েছে এসে। সেই আলোয় তাদের বাড়ির চারপাশেরবড়ো বড়ো গাছপালাগুলো মাথা দোলাচ্ছিলো। নারকেল গাছের পাতায় চিকমিক করে পিছলেযাচ্ছিলো চাঁদের আলো।
নিচু গলায় গল্প করতে করতে খাওয়া চলছিলো। সেইকবে কোন কোজাগরি পূর্ণিমার রাত্রে এমনই জ্যোৎস্নায় মা,বাবা,মামারা সবাই দলবেঁধে গান গাইতে গাইতে হেঁটেছিলেন সারারাত,তার গল্প শোনাচ্ছিলেন মামা। তখননাকি দেউল গ্রাম আরো নির্জন ,আরো জঙ্গলে ভরা ছিলো। read more