মেলার দিনগুলো

বাবা মার হাত ধরে যেমন প্রথম আমার মেলায় যাওয়া,তেমনি আমার ঠাকুরদার কাঁধে চেপে । ভীষণ রকম মনে পড়ে এখন – সে সব কথা । এখন আমার হাত,আমার কাঁধ ওনাদের খোঁজে। তখন একটা টমটম গাড়ি না কিনতে পারলে মেলায় যাওয়া বৃথা ছিল। বাবার থেকে দাদুর কাছে বায়না করতাম বেশি। বাবা চোখ রাঙালেও দাদু কিন্তু সেটা করতেন না। পয়সা সেই বাবারই যেতো কিন্তু বাহবা পেতেন দাদু। এখন বুঝি পয়সা আনা কতটা শক্ত কাজ। read more

মার্জার কাব্য – ৩

image002

(প্রথম ভাগ) (দ্বিতীয় ভাগ)

বিড়াল কাহিনী – ৩

আমাদের বাগানটা ছিলো বেশ বড় – আম, পেয়ারা, কাঁঠাল, কুল, নারকেল, সুপারি, লিচু, জামরুল, কলা, চালতা, ফলসা, সবেদা, বাতাবি লেবু আরো হরেকরকম ফলের গাছে ভরা ছিল জায়গাটা। ফুলের গাছও  ছিলো অনেক রকমের – হাস্নুহানা, কদম, গোলাপ, দোপাটি, কাঞ্চন, অপরাজিতা, মাধবীলতা, বোগেনভলিয়া, জবা, রঙ্গন, গন্ধরাজ……  এ ছাড়া ইউটিলিটি সব্জি, যেমন লাউ-কুমড়ো, লঙ্কা, পেঁপে, ডুমুর, পালং/পূঁই/কলমী, ওল-কচু, বেগুন, থানকুনি, ইত্যাদি তো ছিলই। এতো বড়ো বাগান ওই অঞ্চলে আর কোথাও ছিলনা। সে’জন্যে অনেক সময় সাপ-খোপ, পেঁচা, বাদুড়েরও উপদ্রব হতো। মাঝে মাঝে ‘শোড়েল’ বলে শিয়ালের মতো এক জন্তু রাতের বেলা এসে হানা দিতো। তার গায়ে থাকতো এক বিশ্রী রকমের গন্ধ, যা বহুদূর থেকে নাকে আসতো। আর তা থেকেই বুঝতে পারতাম যে বাগানে শোড়েল ঢুকেছে! তখন টর্চ, লাঠি-সোঠা নিয়ে বাগানে গিয়ে তাড়া করা হতো। বাদুড়রা অন্য কোথাও থেকে ‘বাক্স বাদাম’ নিয়ে এসে রাতের বেলা গাছের ডালে ঝুলে ঝুলে খেতো। কিন্তু বাক্স বাদামের খোলা খুলে খাওয়া সহজ কথা নয় – তাই বেশিরভাগ সময় ওরা কিছুটা চিবিয়ে বাদামটা ফেলে চলে যেতো। পরের দিন সকালে গিয়ে আমরা সেই সব বাদাম খুঁজে খুঁজে বাড়িতে নিয়ে এসে ভালো করে ধুয়ে, হাতুড়ি দিয়ে ভেঙ্গে খেতাম। খেতে আহামরি হয়তো তেমন ছিলো না, কিন্তু সেই বয়সে এই ভাবে বাদাম খোঁজার মধ্যে বেশ একটা রোমাঞ্চ লুকিয়ে থাকতো। যাই হোক সেই বাগানে মাঝেমাঝেই বাইরে থেকে একটা কুকুর এসে তার প্রাত্যহিক কৃতকর্ম করে যেতো। বাগানের চারদিকে পাঁচিল থাকলেও, ঢোকার মুখের যে গ্রীলের গেট-টা ছিলো, সেটার মধ্যে দিয়ে কুকুর অনায়াসেই গলে যেতো পারতো। ঢিল ছুঁড়ে, বা তাড়া করেও সেই কুকুরকে ভয় দেখানো যায় নি। তাছাড়া কুকুরটা ছিলো অত্যাধিক চালাক। সে যেন আগে থেকেই  জানতো যে কোথায়, কখন, বা কে তাকে লক্ষ্য করছে। read more

ঢাকে পড়ল কাঠি

পুজোর ছবি অনেক রকম। এক এক করে বলি। আমি যখন অনেক ছোট তখন মহালয়া বলতে ছিল দূরদর্শনের প্রোগ্রাম। খুব ভোরে যখন রেডিওতে মহালয়া বাজত তখন আমি কিছুতেই উঠতে পারতাম না ঘুম থেকে। বাবার কাছে অনেক শুনেছি বীরেন্দ্রকৃষ্ণের কথা, কিন্তু সে সময় ভাল বুঝতাম না। তারপর অনেক দিন কেটে গেছে, অনেক পুজোও কলকাতার বাইরে কাটিয়েছি। মহালয়া আর তেমন ভাবে মনে দাগ কাটেনি। read more