মদ, ফুটপাথ ও মানুষ

– জেল হয়েছে। পাঁচ বছর। জব্বর জাস্টিস। কী বলেন ফেলুবাবু?
– লাল মোহনে ভালো, মগনে নয়।তেমনই জাস্টিস ব্যাপারটা জেলে ভালো, সেলেব-প্যারোলে নয়। দ্যাখা যাক।


 ২

-খুড়ো, ফুটপাথে শুয়ে থাকাটা অন্যায়; তাই না?
– আলবৎ! হাতে দামী গাড়ির স্টিয়ারিং আর পেটে দামী স্কচ থাকলে বুঝতিস ন্যাপলা; ফুটপাথে হিউমান স্পীড ব্রেকার কি বিরক্তিকর।


 ৩

– এমন ম্যাদা মেরে আছেন কেন মশাই?
– মিরাকিউরল ফেল মেরে গেল অবিনাশবাবু।
– সেই আজব বড়ি? কেন?
– মিরাকিউরল মারণ রোগ সারাতে পারে। কিন্তু চেষ্টা করে দেখলাম; মাতালের ফুটপাথ প্রেম আর অন্ধ ভক্তের উন্মাদ ভক্তি ঘোচাতে পারে না।


 ৪

গাড়ী?
রাস্তায় চালাবো?
নেক্সট ইজ হোয়াট?
জামায় বোতাম আঁটবো?


 ৫

‘নায়ক’ সিনেমায় মদ্যপ অরিন্দম বলেছিলেনঃ “আই উইল গো টু দ্য টপ। টু দ্য টপ। টু দ্য টপ”।
**
কয়েক পেগে ভেসে তিনি বললেনঃ “আই উইল গো টু দ্য ফুটপাথ। টু দ্য ফুটপাথ। টু দ্য ফুটপাথ।”


 ৬

“তুমি জানো এমন দামী স্কচ দুনিয়ায় খুব বেশি নেই?”, মলসন খানের পা টলছিল, কিন্তু কথা থামছিল না,”তুমি জানো এর দু’ফোঁটা পাথরে পড়লে পাথরে প্রাণ সঞ্চার হয়? জানো কি”
এত রাত্রে রাস্তায় মলসনের কথা শোনার জন্য কেউ ছিলেন না। তবু মলসন বলে যাচ্ছিলেন; তার বলতে ভালো লাগছিলো। লোকের ভিড়ে কথা বলতে তার এতটা ভালো লাগে না, বলার সুযোগটুকুও পান না।

মলসনের মাথাটা এতটাই ঝিমঝিম করছিল যে সোজা চুমুক দিয়েছিলেন বোতলে। হঠাৎ কি খেয়াল হল বোতল থেকে কয়েক ফোঁটা ছড়িয়ে দিলেন ফুটপাথে। আচমকা মনে হল যেন ফুটপাথটা নড়ে উঠলো। কেঁপে উঠলেন মলসন। মনে হল আজ বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে বোতল হাতে।

বোতলটা মলসন ছুঁড়ে ফেলার আগে ফুটপাথটা কারপেটের মত ভেসে উঠলে, মলসন তখন টলমলে। ফুটপাথের কারপেটটা তারপর ঝটাপট ভাঁজ হয়ে একটা পুঁটুলি হয়ে গেল। পুঁটুলির ভেতরে মলসনের দম বন্ধ হয়ে আসছিল; নিজের উন্মত্ত ক্লস্ট্রোফোবিয়াকে গাল পাড়তে ইচ্ছে হল তার। ঘেমে নেয়ে অস্থির হয়ে পড়ছিলেন মলসন; মনে হল পরনের জামাটাকে খুলে ফেলা দরকার। তখনই মলসন টের পেলেন, তার পরনে জামা তো নেই; কখনও থাকেনা। সানগ্লাস আর সাজানো বাইসেপ-ট্রাইসেপগুলো খুলতে পারলেন না মলসন; জ্ঞান হারাবার আগে শুধু নিজের চুলটা আঙুল চালিয়ে ঠিক করে নিলেন তিনি।


 

পুজোর খুচরোপাতি

“Go ভিড়ে যাও, আরও Go ভিড়ে যাও…” – পুজো শপিং’য়ের মরশুমে গড়িয়াহাট মোড়ে দাঁড়িয়ে অনুপম রায়।

হনুমান। সে একটি বার হনুমান বলে ডেকে, মিচকি হেসে, আঁচল ভাসিয়ে, মণ্ডপ আলো করে চলে যাবে। এ আশায় জিন্দেগী বয়ে গেল।

প্রেম একবারই এসেছিল নীরবে। তখন মণ্ডপে ঢাকের বাদ্যির সে এমন তেজ, পেটো পড়লেও টের পাওয়া যেত না। হু দ্য হেল ইজ প্রেম।

-আড্ডা-চেক।খাওয়াদাওয়া-চেক।মণ্ডপে আড্ডা-চেক।ল্যাদ-চেক।পুজোসংখ্যা-চেক।অ্যাম রেডি ফর পুজো।

-দেবীদর্শন?

-ঝাড়ি?

-দুর্গাঠাকুর বে

-ওহ সরি

আমি বিজলিগ্রিলের কর্ণধার হলে বছরে চারদিন নিজের সংস্থার নাম পাল্টে পুজোলিগ্রিল রাখতাম। গিমিক্‌টা পাবলিকে খেত।


এবার পুজোয় কী করিব না


৫-

আনন্দবাজার বা অন্য কোনো খবরের কাগজ বাদ। স্রেফ গুলতানি ও মেনুকার্ড রইবে সাথে।

৪-

পোস্ট পুজো অফিসের চিন্তায় ল্যাদ খাব না। জন্মিলে মরিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

৩ –

পাড়ার মণ্ডপে আড্ডা বাদ দিয়ে ড্যাং ড্যাং করে প্যান্ডেল প্যান্ডেল ঘুরে ঠ্যাংকে চাবকাবো না।

২-

অষ্টমীর খিচুড়ি-লাবড়া-বেগুনীকে অবহেলা করে শাড়ির মনমোহিনী ভিড়ে নিজেকে ভেসে যেতে দেব না।

১-

সপ্তমীর দিনে, আহ্লাদে; ফুচকার সাগরে ঝাঁপ দিয়ে মোগলাই ডিনারে নিজের কেতায় কমতি আনবো না। না না না।

দাদা বৌদি সংবাদ

বিয়ের পর বিদেশে প্রথম লাঞ্চ।

দাদা – “কোন কুইজিন পছন্দ তোমার – ইটালিয়ান, মেক্সিকান, থাই?”

বৌদি – “ইয়ে মানে, এখানে একটু গরম ভাত, ঘি আর মুসুর ডাল পাওয়া যায় না?”

দাদা – “এটা কিংস ক্রস স্টেশন – শিয়াল’দা নয়।”

বৌদি – “না মানে, চেষ্টা করতে ক্ষতি কী?”


 বিয়ের পর প্রথম পুজোয়।

দাদা – “এবার পুজোয় কী নেবে – বাহা শাড়ি, আনারকলি কুর্তা না প্যালাজ্জো প্যান্ট?”

বৌদি – “সপ্তমীতে জিশান, অষ্টমীতে বেলুড়ের ভোগ, নবমীতে বিজলী গ্রিল, দশমীতে মিহিদানা।”

দাদা – “বাহ বাহ, এইটা এক্কেবারে রাজ-যোটক মিলেছে দেখি আমাদের। ভয় পাচ্ছিলাম শপিং করে না জানি কত খসবে।”

বৌদি – “উঁহু, আনারকলি পরে জিশান, বিজলি গ্রিলে প্যালাজ্জো আর বাহা শাড়িতে মিহিদানা – বলছিলাম আর কী!”


 বৌদি – “আজ আবার তুমি টিফিন ফেরত এনেছ?”

দাদা – “রাগ করো না, লক্ষ্মীটি – এক বন্ধুর ট্রীট ছিল।”

বৌদি – “তা কী খাওয়া হল শুনি?”

দাদা – “ঐ কেএফসি বাকেট অর্ডার করেছিল।”

বৌদি – “তাও যদি অনাদির মোগলাই কী কবিরাজি কিংবা নিদেনপক্ষে কফি-হাউসের পকোড়াও বলতে, হয়তো মাফ করে দিতুম।”

দাদা – “এখন উপায়?”

বৌদি – “এক্ষুনি এগ মাটন রোল এনে ভজনা কর, নইলে হেঁসেল বন্ধ।”


দাদা – “হ্যালো?”

বৌদি – “হ্যাঁ শুনছো, বলছি তোমরা মা তো এক সপ্তা বাইরে যাচ্ছেন?”

দাদা – “তো?”

বৌদি – “আমার বন্ধুদের সাথে কিটি পার্টিটা সেরে ফেলি?”

দাদা – “মেনুতে কী থাকবে?”

বৌদি – “আলুর চপ, ঝালমুড়ি, পেঁয়াজি, চিংড়ির চপ আর চা।”

দাদা – “এই আমিও এই ফাঁকে পেটব্যাথা হচ্ছে বলে অফিস থেকে কেটে পড়ি?”


দাদা – “হ্যাঁ গো, আজ তুমি টিফিনে কী দিলে?”

বৌদি – “বলব না।”

দাদা – “সে কী, বলই না?”

বৌদি – “আগে বল – পুরোটা নিজে খাবে, বন্ধুদের খাওয়াবে না?”

দাদা – “ওহহো, এত সাসপেন্স না করে বলই না কী দিলে, দেরি হয়ে যাচ্ছে যে।”

বৌদি – “পরোটা আর কিমার ঘুগনি।”

দাদা – “লাঞ্চ-বক্স দেখার পর থেকে তুমি কত বদলে গেছ, মানু।”


 

হোক কলরব

১।

-নির্মল আছিস?
-ভজাদা! ব্যাপার কি। চাঁদা?
-পাঁচশো
-সে কি,গতবার পঞ্চাশ ছিল,একশো নাও
-পাড়া ছাড়তে চাস?
-না। তুমি বরং বাতেলা ছাড়

#HokKolorob

 

২।

– গুপ্ত,প্রমোশন সহজে আসে না। কম্প্রোমাইজ থাকেই।এ ফাইল তোমায় পাস করতে হবেই।বস হয়ে বলছি।

-আমি ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৪র মাল স্যার।সরি
#HokKolorob

 

৩।

-ঘুষ?
-ঘুষ নয়।ডোনেশন।আপনার ছেলের ফিউচার সিকিওর করতে। এটা শহরের সেরা স্কুল।
-আপনাকে ঘুষ না খাইয়ে ছেলেকে না হয় ল্যাদ খাওয়াবো।

#HokKolorob

 

৪।

-বিলু,আঙ্কেলকে একটা রাইম শুনিয়ে দাও প্লীজ
-আতা গাছে…
-ইস।নট ইন বেঙ্গলি বেবি।
-কচু বলবো ইংরেজিতে। খোকা যাবে শ্বশুরবাড়ি…

#HokKolorob

 

৫।

-ড্যাড-মমের সঙ্গে প্রথম দেখা করবে-এই ক্যাবলা চেহারা নিয়ে ? পাতি জামা,খয়েরী প্যান্ট.. ছিঃ

-তোমার বাবা-মা? ওই মেদ-কুমড়ো যুগল?

#HokKolorob

ইন্টারভিউ থেকে বলছি

১। -নিজের ব্যপারে কিছু বলুন
-আলুর দম ভালোবাসি
-এটাই আপনার সবার আগে মনে এল?
-ভুল?
-নয়?
-সরি
-ইউ শুড বি। আগে লুচি বলুন।তবে তো।

২।

-আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
-পাঁচ বছরে এমন জায়গায় থাকতে চাই যাতে সিজন এলে হপ্তায় পাঁচ দিন পাতে ইলিশ থাকে

৩।

-নিজের দুটো স্ট্রেন্থ বলুন
-এক ব্লেডে দু হপ্তা নিখুঁত ভাবে চালিয়ে নিতে পারি।
মিহিদানা দিয়ে মুড়ি মাখা খেয়ে চার দিন কাটাতে পারি

৪।

-নিজের দুটো উইকনেস?
-শাল পাতার দোনা ছাড়া ফুচকা এক্সেপ্ট না করতে পারা। বিজয় দশমীতে সিদ্ধি।

৫।

-দেশের পলিটিকাল সিচুয়েশন সম্বন্ধে আপনার মতামত?
-ঘেঁটে ঘ।
-ইন্ডাস্ট্রি?
-চেটে চ।
-নেগেটিভ শোনাচ্ছে।
-আসুন হিমসাগর নিয়ে গল্প করি