প-য়ে পুজো

অষ্টমীর দিন সকালে অঞ্জলি দিতে দিতে কেমন আনমনা হয়ে গেল মৈনাক। পুজোর কটা দিন তার হৃদয়টা বড় হয়ে যায় – যে যা চায় দিয়ে দিতে ইচ্ছে করে। অথচ খোদ পুজোর মণ্ডপে যেন ঠিক তার উল্টোটা। সবাই ফুল বেলপাতা কচলে মাইকে বাজা মন্ত্রের সাথে তাল মিলিয়ে তারস্বরে চাইছে- “আয়ুর্দেহি, যশোদেহি, ধনং দেহি ইত্যাদি”। কান পেতে শুনলে মনে হচ্ছে মা দুর্গার কাছে এ তো একরকম ভিক্ষাই – তোমার ঝুলিতে যা যা আছে তা সব আমার ঝুলিতে দেহি দেহি। কেউ বুঝে, কেউ না বুঝে হলেও মুখে সবাই একই কথা বলে চলেছে। তাহলে মনে মনে আরও কত কি চাইছে কে জানে। এসবের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে তীব্র অস্বস্তি লাগছিল মৈনাকের – সবাই যেটুকু পেয়েছে, তার বেশী আর কিই বা পাবে – তাও আবার বছরের মধ্যে একটা দিন এরকম গদগদ প্রার্থনায়? কিরকম খাপছাড়া যেন এই চাওয়া পাওয়ার হিসেব। মাইক বলছে, “এবারে প্রণাম করুন।” সবাই মাথা নিচু করছে, এবার শুরু হবে ফিস ফিস করে নির্লজ্জ  আরেক ধাপ চাওয়া। প্রমোশন দাও, গাড়ি দাও, সুন্দরী বউ দাও, ফুটফুটে বাচ্চা দাও। তার মধ্যে আবার পুত্র সন্তানের জন্য আলাদা করে চাওয়া তো মন্ত্রেই আছে। যত্তসব ন্যাকামো। read more

কেন শাহবাগ, গোড়ার কথা

লাইন দিয়ে সার সার উদ্বাস্তু যখন পশ্চিমবঙ্গ নামক এক হেঁয়ালিতে প্রবেশ করছেন ঠিক তখনই নিঃশব্দে ভাগ হয়ে গেল বাঙালি। বাঙালি মুসলমানরা তখন বাঙালি রইলেন না, হয়ে গেলেন পাকিস্তানি। ধর্মের নামে এক অভূতপূর্ব দেশভাগ করে ইংরেজরা যখন বাঙালির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে চলে গেল তখন কিছুই করার ছিল না কারও। একদিকে ভারতবর্ষে বাঙালিরা খুঁজে বেড়াচ্ছেন ঘর, উঠতে বসতে অপর বাঙালীদের থেকে দিন রাত লাঞ্ছনা গঞ্জনা শুনে এদেশে থাকা, কোথায় জায়গা দখল করে কোথাও উদ্বাস্তু কলোনি করে থাকা, ঠিক সেই সময়, পূর্ব পাকিস্তানে নতুন দেশের নামে শুরু হল এক অদ্ভুত ভাঁওতাবাজি। ভাষাগত দিক দিয়ে বাংলা ভাষার না ছিল কোন সম্মান, না ছিল কোন মর্যাদা। অন্যদিকে জাতিগত দিক দিয়ে বাঙালিদের ক্রীতদাস ছাড়া পশ্চিম পাকিস্তানিরা আর কিছু ভাবতে পারতেন না। স্বাধীনতার পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা বুঝে গেল, নামেই ইসলামের নামে দেশ ভাগ হয়েছে, আদতে মুখে উর্দু বলিয়ে পশ্চিম পাকিস্তান আসলে ইংরেজদের মতোই আরও একটা উপনিবেশ গড়ে তুলতে চায়। ছাইচাপা আগুন ছিলোই, সেটাই একসময় দাবানলে পরিণত হল। শুরু হল এক নতুন স্বাধীনতার লড়াই। মুক্তিযুদ্ধের লড়াই। read more