লাল পাহাড়ির দেশে

রাস্তাটা সত্যিই সুন্দর। একে-বেঁকে এগিয়ে গেছে। জন মানুষ নেই, গাড়ি – ঘোড়া ট্রাফিক জ্যাম নেই, বিষাক্ত বাতাস নেই, আর অসহ্যকর হর্নের আওয়াজ ও নেই। দুপাশে জঙ্গল, খানিকটা দূরে দূরে পুরুলিয়ার ট্রেডমার্ক টিলা পাহাড় চোখে পরছে। আজ সকালেই আমরা এসে পৌঁছেছি বরন্তী – তে। পুরুলিয়া জেলার এই গ্রাম,কলকাতাবাসীদের উইক-এন্ড গন্তব্য হিসেবে চমৎকার। বিশাল বড় একটা লেক, জঙ্গল, ছোট ছোট টিলা পাহাড় আর সর্বোপরি অপার শান্তি।

উত্তর সিকিম ভ্রমণ

অফিসের ব্যস্ত শিডিউল থেকে সময় ম্যানেজ করে বেরোলাম আমরা চার জনে একটু নর্থ সিকিম ঘুরতে। আমাদের বেস পয়েন্ট ছিল গ্যাংটক। সেখান থেকে প্রথমে গেলাম লাচেন হয়ে গুরুডোংমার লেক। যাওয়ার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। শেষের কয়েক কিলোমিটার পাকা রাস্তা, তার আগে শুধুই পাথর, রাস্তা বলে কিছু নেই। শেষ কিছুটা রাস্তা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। তবে ওখানে পৌঁছে আসল জিনিসটা দেখা গেল। গুরুডোংমার লেকের সৌন্দর্য্য দেখে অনেকেরই প্রায় ভির্মি খাওয়ার জোগাড়। যদিও সেটা বোধহয় ওই উচ্চতায় (১৭৮০০ ফিট) অক্সিজেন আর হাওয়ার প্রেশার কম থাকায় হয়েছে।

অন্য ভ্রমণ, বন্য ভ্রমণ

প্রচণ্ড রেগে গিয়ে শান্তনু বলল “তোদের না খেতে হয় খাস না, আমি একাই খাব। আর যখন খাব কেউ চাইলে একটা টুকরোও পাবি না বলে দিলাম”। বলেই গট গট করে বেরিয়ে চলে গেল।

সারান্ডার জঙ্গলে। ছবি সৌজন্যেঃ লেখক
সারান্ডার জঙ্গলে। ছবি সৌজন্যেঃ লেখক

সবে কুমডি থেকে থলকোবাদ বনবাংলোতে এসে পৌঁছেছি। ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা ফরেস্টের এইদিকটা এমনিতেই ঘন জঙ্গল। কুমডিতে তো দুদিন যা গেল তাতে এমনিতেই বেশ কাহিল হয়ে ছিলাম আমরা। কোনোদিন যে পাহাড়ী ঝরনা থেকে জল বয়ে এনে, নিজেরা কুড়ুল দিয়ে কাঠ কেটে, নিজেদেরই রান্না করে খেতে হবে সেটা আগে চারজনের কেউই ভাবিনি। তারপর রাত দুপুরে খিদে পেয়ে গেল..এদিকে রান্নাঘর বাংলো থেকে অনেক দূরে আর ড্রাইভার বলে গেছে রাতে বেরলেই  ‘ হাথি, ভালু ’ সবাই আমাদের আক্রমণ করবে বলেই বসে আছে …. সেই ভয়ে বাংলোর ফায়ার প্লেসেই ডিম সেদ্ধ বসিয়ে দেওয়া … খিদে তো মিটল … এদিকে বাংলোর বাইরে বেরিয়ে দেখি গোটা কুমডি আমাদের ফায়ার প্লেসের চিমনি দিয়ে বেরোনো ধোঁয়াতে সাদা হয়ে গেছে … মোদ্দা কথা হল এইসব কান্ডকারখানা ঘটিয়ে আমাদের মানসিক ক্লান্তি যথেষ্টই ছিল … তারপর আজ রাত্তিরে থলকোবাদ ওয়াচ টাওয়ারে সারা রাত কাটিয়ে প্রচুর জন্তু জানোয়ার দেখার অপেক্ষায় টানটান … চৌকিদার সারগেই বলেছে পকৌড়া ভেজে দেবে, কিন্তু টাওয়ার থেকে নামা চলবে না, কয়েক মাস আগে তিনটি ছেলে বারণ না শুনে রাতে নেমে পড়েছিল, তাদের একজনকে ভাল্লুক কামড়ে মাংস তুলে নেয় … আর সাথে কম্বল মাস্ট .. ওদিকে মহুয়ার গন্ধে ম ম করছে গোটা জঙ্গল .. সব মিলিয়ে হইহই ব্যাপার …… তার মধ্যে এই কাণ্ড…… read more