উন্নত শির

ফোন যে কখনো হাল ছেড়ে দেবে এটা ভাবা যায় না বোধয়। অন্তত রাহুল কখনই সেটা ভাবে নি।

তাও রাস্তার মাঝখানে। তবে ভাগ্যিস হাল ছেড়েছিল। মুখটা তুলেই রাহুল বুঝেছিল যে আরেকটু হলেই ও চলন্ত বাসের তলায় চাপা পড়তো।

ছায়া ছবির সঙ্গী (৯)

বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়’এর যে গল্প থেকে ‘বিবাহ অভিযান’ সিরিয়ালটি তৈরী হয়, তার নাম ‘গনশার বিয়ে’। এই গল্প থেকে বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘বর যাত্রী’ হয়ে গেছে অনেকদিন। সেই চলচ্ছবি থেকেই উঠে এসেছিলেন পরবর্তী সময়ের নামী অভিনেতা কালী ব্যানার্জী। শোনা যায়, ওঁনার কথা আটকে যাওয়ার যে ঝোঁক, সেটা ওই গনশার চরিত্র করার সময় থেকেই তার সঙ্গে থেকে যায়। কারণ গনশা ছিল তোতলা।

এক ভেজা শহরের গল্প

খুব পরিচিত আমাদের এই শহর কলকাটা – কিন্তু বৃষ্টিতে কি এই ভেজা শহরের অন্য কোন গল্প হয়? ফটোগ্যালারিতে সেই উত্তর খুঁজেছেন রিতম ব্যানার্জী

জলছবি
জলছবি
বরুণ দেবের প্রকোপ থেকে বাঁচতে
বরুণ দেবের প্রকোপ থেকে বাঁচতে
জল কেটে..
জল কেটে..
মাথা বাঁচানোর তাগিদে...
মাথা বাঁচানোর তাগিদে…

বর্ষা, কলকাতা আর আমি

হোম-অফিস হওয়ার মজা হল, রোজ রাস্তায় বেরতে হয়না। অফিস টাইমের ভীড়, ঘামের গন্ধ ভরা বাস, হঠাৎ থেমে যাওয়া মেট্রো রেল , অটোরিকশা বা ট্যাক্সি স্ট্রাইক, কিছু নিয়েই খুব একটা মাথা ঘামাতে হয়না। কিন্তু এর একটা কুফল ও আছে। মাঝেমধ্যে কাজের চক্করে বেরোতে হলে পুরো ঘেমে-নেয়ে-কেস-খেয়ে একশা কান্ড। তার মধ্যে যদি আবার বৃষ্টি পড়ে, ঝড় ওঠে বা মিটিং-মিছিল থাকে, তাহলে তো হয়েই গেল। আমি পুরো, ইংরেজিতে যাকে বলে, ‘ক্লু-লেস’ সেটাই হয়ে যাই। তখন আমাকে দেখে কে বলবে এই আমি লোকাল ট্রেনে ডেলি-পাষন্ডগিরিও করেছি। এই তো গত সপ্তাহে অনেকদিন পরে কাজে বেরোতে হয়েছিল। দুপুর বেলা মেট্রো করে পার্ক স্ট্রীটে নেমে, ওপরে উঠে  দেখি বেশ বৃষ্টি হচ্ছে। তার মধ্যে আবার ফোনটা কাজ করা বন্ধ করে দিল। আমি একগাদা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে, বহুদিনে অনভ্যাসের ফলে পার্ক স্ট্রীটে মেট্রোর মুখ কোন দিকে খোলে, সেটা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে, মাথার ওপর ছাতা খুলে, উলটো বাগে হাঁটা লাগালাম, আর ভাবতে থাকলাম- একি! মোড় থেকে স্টেশনের মুখ এত দূরে ??  প্রায় মিনিট পাঁচেক পরে বুঝতে পারলাম আমি কি কেলোটাই না করেছি। অগত্যা, আবার পেছন ফিরে হাঁটা লাগাতে হল। read more

ভোটরঙ্গ

বুড়ির ভোট, ভোট বুড়ির।
-সব শেষ গো বাবু! সব শেষ! এতক্ষণে দুদন্ড শান্তি। ওদের চেঁচামেচি আর নিতে পারছিনা গো বাবু। আই-টি-ইউ থেকে আই-সি-ইউ এসেছি এবারে..বুড়ীটা হাউমাউ করে ডুকরে উঠল।
বললাম, কেন গো কি হল তোমার আবার?
বুড়ী বলতে শুরু করল..
-কত ডাক্তারবাবুর কত মত! কি ঝগড়া তাদের নিজেদের মধ্যি ! চীৎকার, চেঁচামেচি সব শেষ। এবার কালকের রাত পুইলেই পরীক্ষ্যে! তারপর সব রিপোর্টগুলো আসতে শুরু করবে। একে একে জানতি পারবা আসল রোগ কোথায়। তখন বুঝেশুঝে আবার আমাকে আবার না আই-সি-ইউ থেকে আই-সি-সি-ইউ তে ট্রান্সফার করে দেয় । ততক্ষণ চলুক আমাগো গীতাপাঠ, চন্ডীপাঠ!
বললাম, খুব অসুস্থ মনে হচ্ছে তুমি!
বুড়ি বলল..
-আমি যত না অসুস্থ ওরা আরো আমাকে রোগে কাবু করে দিতেছে। জয় বজরংবলী! বাঁচিয়ে দাও এবারের মত। আর অনিয়ম করব না। জয় মা দক্ষিণা কালী! বাঁচিয়ে দাও এবারের মত। জয় নাস্তিকস্য মুনিঃ মাতা ! এবারটার মত আর আমাকে আই-সি-সি-ইউতে ট্রান্সফার কোরোনা। একে আমার দেনা গলা অবধি। তারপর আর আই-সি-সি-ইউর যা খরচ! পারবোনি বাপু পারবোনি অত ! একেই গুচ্চের টেস্ট করাতে করাতে ফতুর । শরীলের কোনো অংশ বাদ নেই গো বাবু।
বললাম, দাঁড়াও , দাঁড়াও সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে আমার! কেন ভর্তি হলে হাসপাতালে?
বুড়ি বলল..
-ভর্তি? আমি তো হ‌ই নি বাবু। ওরাই তো জোর করে আমারে ভর্তি করিয়েই দিলে! পাঁচবছর অন্তর অন্তর আমাকে নিয়ে বেকার টানাহ্যাঁচড়া। চামড়াটা ফুটিয়ে ফুটিয়ে শেষ। বলি তোমরা কি আমার নতুন চামড়া করে দিতি পারবা? তোমাদের না হয় হৃদয় বলে কিস্যু নেই। আমার হৃদয়টাতো গেল বাপু, তোমাদের ভালোবাসার চোটে! তোমরা এদ্দিনে বুঝতি পারলে? আমার মাথার অসুখটা কোনোকালে ছিলনা? অযথা মাথায় ফুটো করে, নল ঢুকিয়ে ব্যথা দিলে! এবার বলদিকিনি সত্যি করে, আমার রোগ সারাতে পারবে কিনা? আমার কিডনি দুটো পারফেক্ট ছিল। তোমরা বললে, পাথর হয়েচে। অপারেশন করে একটা কিডনি বাদ দিয়েই দিলে! জীবনে একটা বিড়ি-সিগারেট খাইনি। তোমরা টেস্ট করে বললে ফুসফুসে কালো প্যাচ আমার। আমার নাকি ফুসফুসে ক্যান্সার শুরু হয়েছে সবেমাত্র। দুটো কেমো দিয়ে দিলে!কেমো নিয়ে সে কি কষ্ট আমার! আমি যে আর ধকল নিতে পারছিনা বাবু!
বাপ্‌রে! এ কি অবস্থা তোমার! বলে উঠলাম
বুড়ি বললে..
-এবার বল তো আমাকে নিয়ে আর কত খেলবে? আমি জেনে গেছি গো বাবু, আমার এ রোগ সারার নয়। তোমরা কেউ পারবেনা আমাকে আগের মত সুস্থ করে দিতে। তাহলে? তাহলে কেন আমার ওপর এত অত্যাচার? মুক্তি দাও না আমায়! আমাকে সাজিয়ে গুছিয়ে এসি কেবিনে রেখে দিয়ে লোককে দেখাচ্ছো আমাকে তোমরা কত্ত ভালোবেসে চিকিতসে করাচ্ছো। এর শেষ কবে হবে বাবু? কবে হবে এই ছিনিমিনি খেলার শেষ? আমি যে বড্ড অসুস্থ বাবু! আর নিতে পারছিনে তোমাদের এই লোক দেখানো আদিখ্যেতা!
বুড়ি কাঁদতে কাঁদতে আঁচলের খুঁট দিয়ে চোখের কোণা মুছতে লাগল। আমি হতভম্ভের মত চেয়েই র‌ইলাম ওর দিকে। আমি আজ কিংকর্তব্যবিমূঢ়। বুড়িকে বাঁচানোর ক্ষমতা নেই আমার মত একরত্তির। বুড়ির আছে লোকবল। আমার আছে বুড়ি। কিন্তু আমারো তো দায় বুড়িকে বাঁচানোর। তবুও…. বুকের মধ্যে চাপ অনুভূত হল প্রচন্ড।
মনে হল বলি” চলো তো বুড়িমা। হাসপাতালের বন্ডে স‌ই করে তোমাকে আজ ছাড়িয়ে নিয়ে যাই!” read more

যাদবপুরের সাথে

পুলিশী বর্বরতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে নিরস্ত্র ছাত্রছাত্রীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার – এ সবেরই সাক্ষী হয়ে রইল রাজ্য তথা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। read more

ইন্টারভিউ থেকে বলছি

১। -নিজের ব্যপারে কিছু বলুন
-আলুর দম ভালোবাসি
-এটাই আপনার সবার আগে মনে এল?
-ভুল?
-নয়?
-সরি
-ইউ শুড বি। আগে লুচি বলুন।তবে তো।

২।

-আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
-পাঁচ বছরে এমন জায়গায় থাকতে চাই যাতে সিজন এলে হপ্তায় পাঁচ দিন পাতে ইলিশ থাকে read more

বইমেলা উৎসবে কূপমন্ডুক

বছরের শুরুতে পড়ে পাওয়া চোদ্দআনার মত এক্সটেন্ডেড শীতে মজে থাকা বাঙালি তখনও শীতের পোশাক তোরঙ্গে তুলে রাখেনি। বড়দিন, নববর্ষের রেশ ততদিনে মিলিয়ে এসেছে। তবে প্রেমিক বসন্তের আগমনবার্তা তখনও এসে পৌছায়নি। এমন সময় শহর মাতাতে হাজির হল কলকাতা বইমেলা। অতঃপর, অন্নপায়ী বঙ্গবাসী চল বইমেলা। চারিদিকে হুজুগের অন্ত নেই। শোনা যাচ্ছিল বইমেলার সময়সীমা নাকি বাড়ছে। বই নিয়ে অনেক রোম্যান্টিকতা থাকলেও বইমেলা নিয়ে আমি খুব একটা আবেগতাড়িত নই। কাজেই ছুটির দিনগুলো হালকা শীতের ওমটুকু মেখেই কাটিয়ে দিচ্ছিলাম। তাই দেখে নিন্দুকে বললো – আমি নাকি কূপমন্ডুক। হবেও বা। নিজেকে তো আর দাঁড়িপাল্লা কষে মেপে দেখিনি। কিন্তু শেষ বেলার শীতে মজে আর বাকি দিনগুলো কাটান গেল না। বইমেলার হুজুগে গা না ভাসালেও, ভেতরে ভেতরে শহরের পথে মানুষ চেখে বেড়ানোর নেশাটুকু আবার চনমনিয়ে উঠল।  আমার শহর এক নতুন অভিসারে মাতছে, আমি কি আর নিজেকে ঘরের কোনে আটকে রাখতে পারি? বেরিয়েই পড়লাম ঝোলাটা কাঁধে নিয়ে, শহরের নবতম মাদকতার রস চাখতে। ঝোলাটা আঁতেলসুলভ নয়, নেহাতই অভ্যেস। read more