পয়লা বৈশাখ

কথায় বলে অন্ধের কি বা দিন, কি বা রাত। আমরা যারা লক্ষীসাধনায় মগ্ন হয়ে হত্যে দিয়ে বাইরে পরে আছি, আমাদের একই অবস্থা প্রায়। কবে পয়লা বোশেখ, কবে পঁচিশে, এক্সেল শীট, প্রজেক্ট ডেডলাইন আর কেপিআইয়ের চক্করে সব ঘেঁটে ঘ হয়ে যায়। একটা নিয়মে নিজেকে বাঁধতে বাঁধতে কবে যে নিয়ম-দাস হয়ে গেছি, টের ও পাইনি। মাস পয়লার মোটা মাইনে আর দিনান্তে স্কচের অমোঘ টানে নিজেকে কবেই যেন আস্তে আস্তে হারাতে শুরু করেছিলাম। আমার মধ্যের আমিটা সব ছেড়ে-ছুঁড়ে বারবার পালাতে চেয়েছে, আর তাকে আটকে রেখেছে বাইরের আমি। তাই পয়লা বৈশাখের নতুন জামা, আর পঁচিশের দিন শেষের কবিতা হাতে নিয়ে সারাদিন কাটিয়ে দেওয়ার বিলাসিতা চিন্তার বাইরে আর বেরোতে পারেনি। read more

আশ্বিনের শারদ প্রাতে

আমি বাংলা ভাষাও ছাড়িনি, বাঙালিয়ানা ও ছাড়িনি, ছেড়েছি শুধু শহরটা। তবে ওটাও নেহাত দায় না পড়লে ছাড়তাম না।

শহর থেকে দূরে থাকার একটা খারাপ দিক হলও এখানে উৎসবের আমেজ ঠিক বোধ করা যায়না। উৎসব বলতে এখন অবশ্যই দুর্গাপূজার কথা বলছি। আজ দশ বছরের বেশি হয়ে গেল বাইরে। দিল্লী, লখনৌ, মাদ্রাজ, হায়দ্রাবাদ, লন্ডন… এখানে কোথাও কাশফুল ফোটেনা। কোথাও মহালয়ার দিন ভোরে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের আওয়াজ রেডিও থেকে ভেসে আসেনা। এখন অবশ্য সব টিভি চ্যানেলে একটা না একটা মহিষাসুর-মর্দিনী অভিনীত হয়, কিন্তু কোনও কিছুই যেন সেই রেডিওতে মহালয়া শোনার অনুভূতি ফিরিয়ে দিতে পারেনা। read more

দুর্গাপূজা, প্রেম ও এক অধুরী কাহানী

পুজো আসছে, আর বাকি ১৩ দিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই এই ধরনের পোস্ট চোখে পড়ছে। আমরা যারা বাইরে থাকি, তাদের কাছে পুজো মানে কিন্তু বাড়ি ফেরার আনন্দ। আলোয় মোড়া আমার খুব চেনা এই শহর, চেনা-অচেনা সব মানুষ, ভিড়, একরাশ হাসিমুখ, প্যান্ডেলের বাইরে লম্বা লাইন, ঢাকের আওয়াজ, ধুনোর গন্ধ…সব মিলে মিশে একটা অন্যরকমের ভালোলাগা। তাই আমার বন্ধু যখন আমাকে এই লেখাটা লিখতে বলল, সঙ্গে জুড়ে দিলো যে একটু নস্টালজিয়ার ছোঁয়া চাই কিন্তু, আমি আয়নার দিকে তাকিয়ে জুলফিতে আর দাড়িতে রূপোলী ছোঁয়া দেখে চমকে উঠে, বাড়তে থাকা পেটের ওপর হালকা করে হাত বুলিয়ে নিজের মনেই গেয়ে উঠলাম “আমার যে দিন ভেসে গেছে…”। read more

স্মৃতি সুধা

আকাশটা যেন আরও কাছে চলে এসেছে।সামনের সবুজ ফাঁকা জায়গাটার বেশীরভাগটাই আজ কংক্রিটের দখলে।আজকাল সবকিছুই যেন অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করে শীতটাও কেমন যান তাড়াতাড়ি চলে গেল। বসন্ত এসে গেছে। এক অদ্ভুত গুমোট ভাব। গতকাল এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে, আজকে তার সামান্য রেশ মাত্র নেই। একটা হাল্কা হাওয়া তিরতির করে বয়ে যাচ্ছে। read more

রাজযোটক

“সেই দশটা বেজে গেলো, যতই তাড়াতাড়ি করি কিছু না কিছু করে দেরি হয়েই যাবে” – গজগজ করতে করতে শোভনা এপার্টমেন্টের তিনতলার ফ্ল্যাটে ঢুকল সরিৎ| রবিবার একলা মানুষের বাজার করতে বেশী সময় লাগে না -তবে পাঁচটা লোকের সাথে দু-পাঁচ মিনিটের কথায় ঘড়ির কাঁটা ধোঁকা দিয়ে যায়|সরিৎ ঘরে ঢুকে পরের কয়েক মিনিটে বাজারটা তুলে ফেলে আর আধ বোতল জল গলায় ঢেলে ল্যাপটপটা নিয়ে বসে পড়ল | read more

শুভ নববর্ষ

আজ থেকে প্রায় বছর পাঁচেক আগে আমরা ‘ও কলকাতা’ শুরু করেছিলাম পয়লা বৈশাখের দিন। খুবই সাধারণ, আড়ম্বরহীন একটা পোস্ট – এসে গেল ‘ও কলকাতা’র সাইট এবং সেই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যতটুকু নিজেদের বলা যায়। কয়েক বছর কেটে গেছে – অনেক নতুন, পুরনো লেখক ওয়েব সাহিত্যকে ঋদ্ধ করেছেন তাঁদের রচনাশৈলীতে। আমরাও অনেকরকম পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছে – হয়ত সব সময়ে নিয়মিত থাকতে পারিনি, কিন্তু আপোষ করিনি আমাদের নিরন্তর প্রচেষ্টায়। সময়ের সাথে দেখেছি অন্য কিছু ওয়েব পত্রিকাও অবয়ব বদলেছে।বদলেছি আমরাও। আজ অনেক বেশি মানুষ বাংলায় টাইপ করেন, পড়েন – অস্বীকার করতে অসুবিধে নেই যে ডিজিটাইজেশনের পথে আমরা সবাই হাঁটছি একটু একটু করে। সেই যাত্রাপথে আমাদের নতুন উপস্থাপনা – আমাদের “ওকলকাতা’ মোবাইল অ্যাপ। আপাতত শুধু অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মের জন্য শুরু হলেও আমাদের ইচ্ছা অন্যান্য মোবাইল প্লাটফর্ম বা অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যেও কি করে এই অ্যাপটিকে পৌঁছে দিতে পারি। read more

কলকাতা কেন পুরনো হয় না

কলকাতা একটা গল্পের মত – এক একটি দৃশ্যের পিছনে, খুব চেনা পরিচিত কিছু মানুষ, কিছু ঘটনা, কিছু স্মৃতি, সব মিলেমিশে একাকার। সময়ের সাথে সাথে আমরা বদলাচ্ছি, বদলাচ্ছে কলকাতাও – এখন কলকাতা বলতে হয়তো নতুন হাইরাইজ, নতুন রাস্তা, ফ্লাইওভার, কিন্তু আমার কাছে নতুন করে শহরের সাথে আলাপ হওয়ার গল্পগুলো এখনও একই রকম থেকে গেছে। কত বছরের পুরনো সব ছবি -অথচ নতুন করে তুললেও তাতে ক্লান্তি নেই। কেন – এ প্রশ্নের সদুত্তর নেই read more

ছায়া ছবির সঙ্গী (৯)

বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়’এর যে গল্প থেকে ‘বিবাহ অভিযান’ সিরিয়ালটি তৈরী হয়, তার নাম ‘গনশার বিয়ে’। এই গল্প থেকে বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘বর যাত্রী’ হয়ে গেছে অনেকদিন। সেই চলচ্ছবি থেকেই উঠে এসেছিলেন পরবর্তী সময়ের নামী অভিনেতা কালী ব্যানার্জী। শোনা যায়, ওঁনার কথা আটকে যাওয়ার যে ঝোঁক, সেটা ওই গনশার চরিত্র করার সময় থেকেই তার সঙ্গে থেকে যায়। কারণ গনশা ছিল তোতলা।

আমার ছোটবেলা

13016769_1234155003278816_254681483_o

Pet মানে অন্যকিছু হলে চলবে না। হতে হবে বাঁদর ছানা।

বায়েনা খানিক এরকম-ই ছিল।

আমার ছোটবেলার ঘটনা। সব বাচ্চাদের মতন আমার এক দিন মনে হল আমার একটা pet  দরকার। যেমন ভাবা সেই রকম কাজ। এই সব, জীবনের গুরুতর জিনিস এক মাত্র বাবারসাথেই আলোচনা করা যায়। গম্ভীর মুখে বাবা কে গিয়ে বললাম ” আমার একটা pet  দরকার”। মা তো শুনেই প্রমাদ গুনল , আবার একটা ঝামেলা জোটাব আমি। বাবা আরও গম্ভীরমুখে বলল ” ঠিক আছে”  , কিন্তু কিনতে যাবার আগে ঠিক করতে হবে আমি কি চাই কিনতে । read more

হ্যাপি মাদারস ডে

জয় মাতা দি

রোজ শোনা যায় এই চিৎকার, কাটরার পথে মাতৃ-দর্শন করতে যাবার সময়।
তবু, যেদিন আমি যাই, একমাত্র সেই দিন আমার কাছে বিশেষ।
মা কে রোজ বলবো ভাবি, তুমি কিকরে এমন করে করো, যাই করো না কেন।
কিকরে তোমার হাতের রান্নার স্বাদ চিরকাল অন্যরকম লাগে, কেন যতই তোমায়ে ডাকি, মনে হয়ে আরেকবার ডাকি।
সত্যি বলছি, দুর্গাপূজার অঞ্জলি দেবার সময় তোমার মুখটাই খুঁজি।
বাবা পিছনে শিব সেজে থাকে, কিন্তু আমি জানি, বাবাও ঠাকুমার জন্যে বেশি ভাবতো।
আমি তো বাবারই ছেলে, তা আমি আমার মা কে নিয়ে কেন ভাববো না বোলো ? read more