প্রবাসীর ডায়েরি ৪

আজ আমি অসম্ভব উত্তেজিত। এত এত কথা বলার আছে যে গুছিয়ে সাজিয়ে উঠতে পারছি না। কাকে আগে কাকে পরে রাখবো ভাবতে ভাবতে দিশেহারা অবস্থা।

আর বিলম্ব নয়। 'জয় জয় নির্মলার জয়' বলে শুরুই করে দি। নির্মলা আর আমার দুজনেরই অজান্তে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে নির্মলা-কাব্য। আমাকে যে ও খেরোর খাতা হিসেবে দেখে তাতে আমার সন্দেহ নেই। কিন্তু, ও এখনো পর্যন্ত জানে না, যে কেউ আড়ালে আড়ালে ওর দৈনিক সংবাদ লিপিবদ্ধ করার ভার নিয়েছে, বিনা পারিশ্রমিকে। নির্মলার রোজ কাজে আসায় আমি অভ্যস্ত। কিন্তু ও কোন দিন কী প্রসঙ্গে কথা বলবে বা আদৌ বলবে কি না তার বোতাম আমাদের দুজনের কারুর হাতেই নেই। কোন বড় মাপের যন্ত্রীর তত্ত্বাবধানেই এই খেলা সম্ভব। তাই অকারণ জোর খাটানোর প্রশ্নই ওঠে না।

ছিন্নবীণা ৪

আগের পর্ব

বাজনাদার-পয়সাওলা-ব্যাচেলর আর সরস্বতী-লক্ষ্মী-কাত্তিক কথা

এক কালে বীণা বাজাতেন।

এখন iphone অ্যাপ download করেন।

এক কালে শ্বেত-বরণ বলেই লোকে চিনতো।

এখন তাকে Fair and Lovely-র দেবী বলেই হয়তো চিনছি।

এক কালে হাতেখড়ি, আর বইপত্র রেখে এবারের পরীক্ষাটা পাশ করা নিয়ে ভাবতাম, এখন পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া হলুদ শাড়ি পরা মেয়েটা সেই পাশ ফেলটা তুচ্ছ করে দিয়েছে। read more

ছিন্নবীণা ৩

ELEPHANTASYSING!

ছবি এঁকেছেনঃ পার্থ মুখার্জী
ছবি এঁকেছেনঃ পার্থ মুখার্জী

নাহ!

হাতিকে নিয়ে fantasy দেখছিলুম কিনা ভেবে নিলুম।

চোখ কচলে দেখলুম, না fantasy নয়, জলজ্যান্ত সত্য। এ গণেশ ঠাকুর পাতলুন শার্ট গলিয়ে motorbike-এই এসেছে। স্বপ্নে নয় হে! সত্যি।

তা জনগণের ঈশ্বর modern হয়ে উঠলে আমরাই বা কী এমন দোষ করলুম। Solar-cook.. sorry.. রবি ঠাকুর ছেড়ে নাহয় Honey সিংহ কেই ধরলুম। মুডটা বজায়ে থাকলেই হল, তাই না? রবির দোলে আমরা দোল খেতাম, এখন দুলুক বিশ্ব-কোমর ! read more

কিভাবে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট করবেন না – ২

আগের পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব  – বোঝেনা,  সে বোঝে না

সত্যি বলতে কি প্রথম লেখাটার পরে যে বাড়িতে ঢিল পড়েনি বা অফিসে দু একটা চড় থাপ্পড় পড়েনি – এতে আমি একটু অবাকই হয়েছিলাম। শীল যে কিনা নিত্য মুগুর ভাঁজে – অটো-ওয়ালাকে প্যাঁদায়, সে কি আর এত বড় মস্করা সহ্য করতে পারে? আশ্চর্যের বিষয় এসবের কোনটাই হয়নি – উলটে এই লেখা বেরনোর পরের দিন যখন অফিসে পৌঁছেছি, ততক্ষণে দেখি রীতিমত হইচই পড়ে গেছে আর সেই ঠেলায় শীলও বন্ড নামে প্রায় বিখ্যাত হয়ে গেছে। যারা লুকিয়ে চুরিয়ে রিসেপশনিস্টকে দেখত, তারাও বিড়ম্বনায় পড়ে গেছে – পাছে আমি কখনও তাদের নিয়ে গল্প লিখে ফেলি। শীলের নানা রকম কীর্তিকলাপ আমার কানে আস্তে শুরু করেছে – যাতে অন্য কোনোদিকে না তাকিয়ে আমি দ্বিতীয় পর্বটাও ওকে নিয়েই লিখি। যেমন বন্ড নাকি জানে প্রজেক্টে কোন মেয়ের কোথায় ট্যাটু আছে, যার গার্ল-ফ্রেন্ড নেই, তার বন্ড আছে এইসব। তা বন্ড যতই কালটিভেট করার মত চরিত্র হোক না কেন, আমাদের তো লক্ষ্য হারালে চলবে না। আমরা কথা শুরু করেছি প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। সেই নিয়ে আজকে আমাদের দ্বিতীয় পর্ব। গোড়া থেকে আরম্ভ করা যাক। read more

ছিন্নবীণা ১

দুগগা নামে শুরু!


পুজো এসে গেল !

আর আমি জনৈক বাঙালি, অফিস কাছারি করেই ব্যাস্ত। পাড়ায় Theme পুজো হয় না, তাই পুজোর সপ্তাহখানেক আগের থেকে ছাড়া বোঝা দায়ে যে পুজো আসছে।

মা কে জিগালাম, “কী নেবে পুজোয়?”

মুখ ভেটকিয়ে বল্ল “যা দিবি……।” read more

মার্জার কাব্য – ২

image002

(প্রথম ভাগ)

বিড়াল কাহিনী –

ছোটবেলার জীবনে অভাব-কষ্ট ছিলো, কিন্তু আনন্দের অভাব কখনোই অনুভব করিনি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক সময়েই আমাদের বাড়িতে খাবারের মেনুতে লাগাতার নিরামিষ পদ রান্না হতো। মাঝে মাঝে আমরা ছিপ দিয়ে পুকুর থেকে মাছ ধরার চেষ্টা করতাম। বেশিরভাগ সময়ে ছিপে ‘কই’, কি ছোটো ‘রুই’ মাছ ধরা পড়তো। পুকুরের সিঁড়ির ধারে একটা জবা গাছ বেড়ে উঠেছিলো, যার ডালপালা বেশ অনেকটাই বড় হয়ে ছাতার কাজ করতো। একদিন আমি এই জবা গাছের নিচে ছিপ ফেলে বসে আছি। আমার কাছাকাছি আমাদের সাদা বিড়ালটাও চুপচাপ বসে আছে। হঠাৎ দেখি ছিপের ফাতনাটা ডুবে ডুবে যাচ্ছে। বুঝলাম যে মাছ এসে টোপ গিলেছে। উত্তেজনার বসে ছিপ ধরে মারলাম খুব জোরে এক টান। এতো জোরে টান মেরেছি যে মাছ সমেত ছিপের দড়ি প্রায় ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গিয়ে জড়িয়ে গেলো মাথার উপরে থাকা জবা গাছের ডালপালায়। আমার সাথে সাথে আমার পাশে বসা বিড়ালটাও মাছের এই শুন্যপথে উড়ান লক্ষ্য করেছিলো। আমরা দুজনেই তাড়াতাড়ি গাছের দিকে এগিয়ে গেলাম। মাছটা খুব একটা ছোটো ছিলো না। ডালে ঝোলা মাছের ঝটপটানি দেখে বিড়ালটা লোভে অস্থির হয়ে উঠলো। আমি তাড়াতাড়ি করে জবাগাছের ডাল থেকে মাছ আর ছিপের দড়ি ছাড়িয়ে নিয়ে বাড়িতে চলে এলাম মা’কে দেখাতে যে এই মাছটাকে ছেড়ে দেবো কি না। বঁড়শীর বাঁকানো মুখ থেকে মাছের ঠোঁট ছাড়াতে বেশ বেগ পেতে হলো – কারণ মাছটা টোপটা বেশ ভালো করেই গিলেছিলো। মা বললো যে আর মাছ ধরতে হবে না, ওটাতেই সে-রাতের রান্না হয়ে যাবে। সুতরাং আমি ছিপ গুছিয়ে রেখে দিলাম। এর বেশ কিছু পরে কি একটা কাজে আমি আবার পুকুরের দিকে গেলাম। অবাক হয়ে দেখলাম আমাদের বিড়ালটা তখনও সেই একই ভাবে জবা গাছের ডালের দিকে ঘাড় উঁচু করে, এক দৃষ্টিতে চেয়ে বসে আছে!! আমি যে অনেক আগেই মাছটাকে নিয়ে চলে গেছি সেটা সে বুঝতেও পারেনি, বা বিশ্বাস করে উঠতে পারেনি। সে তখনও ভেবে চলেছে যে মাছটা জবা গাছের কোনো ডালপাতার আড়ালে লুকিয়ে ঝুলছে, আর কোনো এক সময়ে ঝুপ করে নিচে পড়ে যাবে! তখন তিনি সেটাকে ধরে খাবেন !! read more

মার্জার কাব্য

ছেলেবেলার দিনগুলো একটু নয়, এখনকার থেকে বেশ অনেকটাই অন্যরকমের ছিলো। সে সময় না ছিলো কোনো আই-ফোন/আই-প্যাড, না ছিলো কোনো ভিডিও গেমস বা স্যাটেলাইট চ্যানেলের-র দৌরাত্ম্য। কিন্তু তাতে মনে হয় না যে কোনো কিছু মিস্ করেছি। আমাদেরকে ঘিরে থাকতো একরাশ নি:স্বার্থপর মানুষের দল – যাঁরা কোনো কিছুর প্রত্যাশা না করেই আমাদের ছেলেবেলার প্রতিটি দিনকে ভরিয়ে তুলতেন হাসি-ঠাট্টা-খেলা-গল্প-গান-আনন্দ দিয়ে। আর ছিলো অসাধারন সুন্দর রাশি রাশি গল্পের বই – রূপকথা, পক্ষীরাজ, ভুত-প্রেত, ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমী, ঠাকুরমার ঝুলি, চাঁদমামা, সন্দেশ, আনন্দমেলা, শুকতারা, আরব্য রজনী. . . . দিগন্ত জোড়া মাঠ-গাছ-পালা, চোখ জুড়ানো শীতের নীলকাশ, শরতের আকাশে মেঘ-রৌদ্রের লুকোচুরি খেলা, কাশফুলের ভারে পথ হারিয়ে যাওয়া, কার্তিক মাসের হিমেল হাওয়ায় চাদর গায়ে বসে আচার খেতে খেতে গল্পের বই পড়া, হেমন্তের বিকেলে সূর্য্যের ঝুপ্ করে হঠাৎ ডুবে যাওয়া, বসন্ত-বিকেলের ঝিরঝিরে বাতাসে মন হারিয়ে যাওয়া, বর্ষার ঘনঘটায় আকাশ কালো করে বৃষ্টির উদ্দাম নাচন, কালবৈশাখীর দাপট উপেক্ষা করে কাঁচা আম কুড়ানো, ভরা-বর্ষায় কলাগাছের বানানো ভেলায় চড়ে পুকুরে ঘুরে ঘুরে বেড়ানো, সুপারি গাছের শুকনো খোলা-কে ‘Go-Cart’ বানিয়ে খেলা, চেনা রাস্তা ধরে সাইকেল চালাতে চালাতে সম্পূর্ণ অচেনা অঞ্চলে গিয়ে দিশেহারা হয়ে যাওয়া – আরও কত্তো কি! read more

আমার ডাক্তারি

গোলগাল মহিলা, বয়স চল্লিশের ঠিক কোনদিকে বলতে পারি না। কিন্তু যে দিকেই হোক, খুব বেশী দূরে নয়। বেশ বোঝা যায় একসময়ে সুন্দরী ছিলেন। হয়তো এখনও আছেন, কিন্তু উগ্র প্রসাধনের আড়ালে সেটা আর বোঝবার জো রাখেন নি। শরীরের সাজপোশাক আর চাকচিক্যে অর্থাভাবের কোন চিহ্ন নেই। মুখে শুধু গভীর উদ্বেগ। দ্রুতপায়ে রাস্তাটা পেরিয়ে এসে আমাদের বাড়ীর সামনে একবার দাঁড়ালেন। বাইরে সাইনবোর্ডের দিকে একবার দেখে একটু ইতস্তত করে একেবারে ঢুকে পড়লেন আমি যেখানে কাজ করছিলাম। read more