ও কলকাতা

কিভাবে ভোটে দাঁড়াবেন না

April 13, 2019 No comments

কোলাজ কোলকাতা (১)

June 11, 2016 No comments

প্লুটোর ইন্টারভিউ

June 8, 2016 No comments

ফ্যাশন টিভি

June 1, 2016 No comments

প-য়ে পুজো

October 2, 2013

[spp title=”প-য়ে পুজো – ৩”]

তারপর দুদিন ধরে সেই অবস্থার কোন পরিবর্তন হল না। গোগ্রাসে খাওয়ার যে ইচ্ছেটা ছুটির দিনগুলোতে চাগিয়ে ওঠে, সেরকমও কিছু হল না। সেদিন সন্ধেবেলায় পূর্বা আসেনি। মৈনাক এই ভেবে নিজেকে সান্তনা দিচ্ছিল যে সারাদিন ঘুরে ক্লান্ত হয়ে গেছে বা হয়তো অন্যান্য বন্ধুদের সাথে আটকে গেছে। দুদিনের আলাপেই মৈনাকের একটা অধিকার জন্মে গেছে, এমন তো নয়। কিন্তু তাই বলে যখন সারা পাড়ার লোক ঝেঁটিয়ে এল মন্দিরে, তখনও এক ঝলকের জন্য পূর্বাকে দেখা গেল না। মৈনাক আরও হাবিজাবি বুঝিয়ে নিজেকে শান্ত করল। পরের দিনও প্রায় সারাক্ষণ মন্দিরেই বসে রইল মৈনাক। কেউ কেউ অবাক চোখে তাকে লক্ষ্য করলেও, সে এরকম ভাব দেখাল যেন এটা তার একটা কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। মলয়, কিশোর, পল্টু কয়েকবার করে মেপে গেছে তার হাল হকিকত। দাঁত বার করে খিস্তি করেছে – ‘শালা সেন্টু’। কিন্তু ওদের সাথে ঘুরতে বেরলেও মনটা পড়ে রইল মণ্ডপে। এক চিকেন রোল, বিরিয়ানি, কাটলেট কোন কিছুর স্বাদ যেন জিভে ধরা দিল না। সিগারেট গুলোও বিস্বাদ লাগল।

পল্টু যখন বাইকে হেলান দিয়ে বলল, ‘ও মাল পটবে না বয়ফ্রেন্ড আছে’, তখন মৈনাকের ইচ্ছে করছিল ঠাটিয়ে একটা চড় মারতে। পল্টু দাঁত বার করে হাসছিল – পাড়ায় মেয়েদের তার চেয়ে ভালো কেউ চেনে না। সে ভালোই আন্দাজ করেছিল যে একটা চড় উড়ে আসতে পারে। কিন্তু ওসব সে একেবারেই তোয়াক্কা করে না। পাড়ায় মেয়েদের আনাচ কানাচ থেকে লক্ষ্য করার জন্য তার নাম আছে। মেয়েমহলে পল্টুর নাম উঁকি। মৈনাক যে মেয়েটার ওপর ফিদা তার ফ্ল্যাট সে ভালোই চেনে। রমেনদের পশ্চিম দিকের জানলাটা দিয়ে খুব পরিষ্কার দেখা যায় – কিন্তু মেয়েটা হেব্বি সেয়ানা। মৈনাককে উসকে প্রসঙ্গটা ঐ দিকেই আনতে চাইছিল সে, কিন্তু মৈনাকের কন্ডিশন সিরিয়াস দেখে সে একটু বাদে থেমে গেল।

নবমীর দিন রাতে যখন নাচানাচি করার জন্য মন্দিরের পিছন দিকে আলো লাগানো হচ্ছে, গান বাজানোর ব্যবস্থা হচ্ছে – তখনও পল্টু আর সেই সঙ্গে পাড়ার উঠতি ছেলেদের কথা শুনে রাগে মৈনাকের গা হাতপা জ্বলে যাচ্ছিল। এটা নতুন ট্র্যাডিশন। পুজো শেষ হয়ে আসছে এই আক্ষেপে শেষ রাতে একটু হুল্লোড়। এই সময়টা বড়রা সরে যায়, মন্দিরের পিছন দিকটায় নতুনদের রাজত্ব। আজকাল একটু একটু কয়ে মেয়েরাও আড় ভেঙে এগিয়ে আসছে নাচের আসরে। মৈনাকের থাকার ইচ্ছে ছিল না কিন্তু দশটার পরে যখন পূর্বাকে দেখা গেল ধীরে ধীরে সেই ডান্স-ফ্লোরের দিকে এগিয়ে যেতে, তখন মৈনাকের মনের মধ্যে জমা হয়ে থাকা রাগ, অভিমান আর যা কিছু ছিল, সব যেন কোথায় যেন উড়ে গেল। জিনস টিশার্টে পূর্বা তখন রাতপরী – নিছক বঙ্গ-ললনা নয়। তার হাতের আঙুলগুলো ঈশারা করছিল মৈনাকের দিকে।

পোস্টটি শেয়ার করুন


Categories: ছোটগল্প

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of