ও কলকাতা

কিভাবে ভোটে দাঁড়াবেন না

April 13, 2019 No comments

কোলাজ কোলকাতা (১)

June 11, 2016 No comments

প্লুটোর ইন্টারভিউ

June 8, 2016 No comments

ফ্যাশন টিভি

June 1, 2016 No comments

প-য়ে পুজো

October 2, 2013

[spp title=”প-য়ে পুজো – ৪”]

পূর্বার কাছে প্রেমিক বেছে নেওয়ার এই একটা অ্যাসিড টেস্ট। মানে অনেক গুলো টোটকা আছে, এটা তার মধ্যে একটা – অন্ধকারের কিছু সুযোগ করে নিতে দেওয়া বেসামাল হাতগুলোকে। কোন কোন হাত সটান এগিয়ে আসে, বুঝিয়ে দেয় কোন হাতের মালিক আদপেই কতটা লাজুক না সময় বুঝে তারা সাহসীও হয়ে যেতে পারে। অনেক সময়ে ইন্টিউশন কিছু বললেও, পরে অভিজ্ঞতায় ভুল বাৎলেছে। কাজেই আজকাল নতুন প্রেমিক কাছ ঘেঁষলেই একটু ঝালিয়ে নেয় সে। যারা একবার ঠকেছে, তারা বারবার ঠকবে না এমন কোন গ্যারান্টি নেই। বিশেষ করে আগের টাউনশিপ থেকে বদলে নতুন পাড়ায় চলে আসার ফলে আসল ঘটনাটা একরকম ঢাকাই পড়ে গেছে। কিন্তু সব কিছু কি আর ঢাকা পড়ে? মনের বিষ হাসির আড়ালে ঘোরাফেরা করেই। মৈনাককে দেখে যেমন সহজ সরল মনে হচ্ছে, সেটা মুখোশও হতে পারে। হয়ও সাধারনতঃ। এই যে সবে আলাপ হওয়ার পরে মাত্র দেড় দিন দেখা হয়নি – তাতেই চোখে মুখে ফুটে উঠেছে অস্থিরতার ছাপ। একজন পুরুষের মনে এটুকু দোলা না জাগালে আর তৃপ্তি কোথায়। কিন্তু ওর এই সব মনোযোগ কি একটা মুহুর্তে একটু ছোঁয়ার জন্য? পূর্বা আরও একবার কুহকিনীর মত হাত বাড়িয়ে ডাকল মৈনাককে। আর মনে প্রশ্নরা ভাসছে, “একটু আসকারা পেলে কি করবে ও?” আবার মনের মধ্যে যে পোস্তদানার মত ছোট্ট আরেকটা মন আছে – সে যেন চাইছে মৈনাক একটু বেসামাল হোক। কেন চাইছে?

অন্ধকারে আলোর ঝিকিমিকিতে মিশতে মিশতে মৈনাক ভাবছিল – “পুজো শেষ হয়ে এলো, সেদিকে খেয়াল নেই। আগে যখন বয়স কম ছিল তখন যেন এই সময়টায় মন ভারী হয়ে যেত। সেই ব্যাপারটা কি আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে? অথচ পাড়ার নাচের মঞ্চে এই একটুকরো প্রেম যেন কত কাছের। পূর্বার হাতদুটো ডাকছে। পূর্বা সাথে কথা বলার জন্য গোটা দুটো দিন কেমন অস্বস্তিতে ভরে ছিল শরীর। এখন একটু ছোঁয়া লাগবে। ঐ একটু ছোঁয়াই কি ভালো লাগে না?” একটা মনস্তত্বের বই পড়েছিল সে অনেকদিন আগে। তাতে বলা ছিল যে কোন মানুষের সঙ্গে শরীরের কোন অংশ ছুঁয়ে থাকলে এক ধরনের ইলেক্ট্রিকাল চার্জের আদান প্রদান হয়। তখন সেই মানুষটার ওপর নাকি চাইলেও রাগ করা যায় না কারন এই এনার্জির ফ্লো করতে শুরু করলে মনটা ভালো হয়ে আসে। সেটা কি আদপেই সত্যি? কেউ যদি জোর করে কারো হাত ধরে? মৈনাক একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিল নিজের অজান্তেই। সে এখনো নিজেই জানে না পূর্বার হাতে ধরা দেবে কিনা – এটাই সে চেয়েছিল। যাবতীয় বাহানা, আলাপ, হাসি, অপেক্ষা শুধু এই কারনেই যে তার গভীরে লুকিয়ে থাকা তীব্র আনন্দের হাতছানি। মৈনাক বুঝতে পারছিল না – প্রত্যেক বছর পুজো মানেই কি জবজবে একটা প্রেম? আগের বছরের সঙ্গে এই বছরের তফাত কি শুধু এইজন্য যে পূর্বা পল্লবীর চেয়ে অনেক আলাদা বলে? একবার পল্লবীর হাত ধরেই তার চোখের ধারালো শাসনে অনেকটা গুটিয়ে গিয়েছিল সে। তবু আজ সে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে।

একরকম ভাবে আরও অনেক মৈনাক, আরও অনেক পূর্বার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে – আরও অনেক পূর্বা অনেক মৈনাকের জন্য অপেক্ষা করছে। শুধু তাদের মাঝখানে অনেক প্রশ্ন ভাসছে। তবু কিছু প্রশ্ন, প্রশ্ন থাকাই তো ভালো।

পোস্টটি শেয়ার করুন


Categories: ছোটগল্প

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of