ও কলকাতা

দিল্লীকা লাড্ডু ও এক বান্ডিল ভূত

April 21, 2019 No comments

কিভাবে ভোটে দাঁড়াবেন না

April 13, 2019 No comments

কোলাজ কোলকাতা (১)

June 11, 2016 No comments

প্লুটোর ইন্টারভিউ

June 8, 2016 No comments

তুতুর সাপ সংরক্ষণ প্রসঙ্গে

January 7, 2014

Common Sand Boa

পশ্চিমবঙ্গে পাওয়া যায় এমন সব সাপই যে বিষাক্ত তা কিন্তু নয়, কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষধর সাপ ছাড়া প্রায় সব কটি নির্বিষ। কিন্তু নির্বিষ ও স্বভাবে লাজুক হওয়া সত্ত্বেও কেন তুতুর বা COMMON SAND BOA (Gongylophis conicus)  সাপটির সংখ্যা কমে আসছে সেটাই চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। প্রথমত সাপ সম্পর্কে আমাদের ভয় আমাদের পরিবার থেকেই প্রথমে পেয়ে থাকি। আমাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষেরই ধারণা সব সাপই বিষাক্ত এবং মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর। কিন্তু বিজ্ঞানের পরিভাষায় এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। তাই এদের সম্পর্কে খানিকটা জেনে নেওয়া প্রয়োজন উভয়েরই নিরাপদে জীবনধারণের স্বার্থে। বর্ধমান জেলার শিল্প ও খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ অঞ্চল হল রানীগঞ্জ, এখান থেকেই গত ৭ই জুলাই ২০১৩ তারিখে আমি এই সাপটি প্রথম খুঁজে পাই। এদের সাথে চন্দ্রবোড়া (RUSSLLE’S VIPER ) ও অজগরের (INDIAN ROCK PYTHON) বাচ্চার অদ্ভুত মিল লক্ষ্য করা যায়। এই দুটি কারণই এদের ক্ষতির মূল কারণ হিসাবে দাড়ায়। প্রথমত চন্দ্রবোড়ার মারাত্মক বিষের কথা অনেকেরই জানা তাই এদের দৈহিক গঠনের সাথে চন্দ্রবোড়ার মিল থাকায় প্রায় ভুল বশত এদের মেরে ফেলা হয়। দ্বিতীয়ত সাপুড়েরা আমাদের বোকা বানানোর জন্য প্রায় সময় এদের অজগরের বাচ্চা হিসাবে খেলা দেখাতে ব্যাবহার করে তাই এদের খুঁজে পেলেই সাপুড়েদের হাতে ধরা পড়তে হয় এদের।

আকারে বেশ মোটাসোটা ও শান্ত ধরনের সাপ এই তুতুর। এরা দুই থেকে আড়াই ফুট লম্বা এবং স্বভাবে নিশাচর প্রকৃতির হয়। এদের মাথা শরীরের থেকে ছোটো এবং লেজটা ভোঁতা। পিঠ খসখসে আঁশে ঢাকা এবং দেহের আকারের তুলনায় চোখ দুটো খুব ছোটো। হলদেটে সাদা পিঠের ওপর বাদামী রঙের অসমান ছোপ থাকে যার জন্য এদের অনেক সময় চন্দ্রবোড়া মনে হয়। তবে চন্দ্রবোড়ার মাথা আকারে অনেক বড় এবং তেকোনা প্রকৃতির। তুতুরের পেটের অংশ হালকা ঘিয়ে রঙের হয়। স্ত্রী সাপটি পুরুষের তুলনায় লম্বা হয়। এরা সাধারণত রুক্ষ পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। লোকালয় থেকে দূরে ঘাসবন, পাথরের খাঁজ বা পুরনো ইঁদুরের গর্তে থাকতে ভালবাসে। বালি মাটিতে মিশে থাকার মতো দৈহিক গঠনের জন্য এদের উপস্থিতি প্রায় বোঝাই যায় না। এরা ইঁদুর, কাঠবেড়ালি খেতে পছন্দ করে। তবে সুযোগ পেলে ছোটো পাখি, গিরগিটিও ছাড়েনা। এরা এমনিতে খুব শান্ত স্বভাবের হলেও বিরক্ত হলে ছোটো ছোটো লাফ দিয়ে সরে যায় বা কামড়াতে আসে। এরা ডিম পাড়ে না, স্ত্রী তুতুর সাপটি মে-জুলাই মাসে ৬-৮ টি বাচ্চার জন্ম দেয়। সুতরাং এই সাপটি অযথায় মারা পড়ে বা ধরা পড়ে, তাই এদের সম্পর্কে জেনে নিয়ে এদের রক্ষায় দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। তবেই আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে এদেরই সাথে।

 

পোস্টটি শেয়ার করুন



Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of