ও কলকাতা

দিল্লীকা লাড্ডু ও এক বান্ডিল ভূত

April 21, 2019 No comments

কিভাবে ভোটে দাঁড়াবেন না

April 13, 2019 No comments

কোলাজ কোলকাতা (১)

June 11, 2016 No comments

প্লুটোর ইন্টারভিউ

June 8, 2016 No comments

মার্জার কাব্য – ২

image002

(প্রথম ভাগ)

বিড়াল কাহিনী –

ছোটবেলার জীবনে অভাব-কষ্ট ছিলো, কিন্তু আনন্দের অভাব কখনোই অনুভব করিনি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক সময়েই আমাদের বাড়িতে খাবারের মেনুতে লাগাতার নিরামিষ পদ রান্না হতো। মাঝে মাঝে আমরা ছিপ দিয়ে পুকুর থেকে মাছ ধরার চেষ্টা করতাম। বেশিরভাগ সময়ে ছিপে ‘কই’, কি ছোটো ‘রুই’ মাছ ধরা পড়তো। পুকুরের সিঁড়ির ধারে একটা জবা গাছ বেড়ে উঠেছিলো, যার ডালপালা বেশ অনেকটাই বড় হয়ে ছাতার কাজ করতো। একদিন আমি এই জবা গাছের নিচে ছিপ ফেলে বসে আছি। আমার কাছাকাছি আমাদের সাদা বিড়ালটাও চুপচাপ বসে আছে। হঠাৎ দেখি ছিপের ফাতনাটা ডুবে ডুবে যাচ্ছে। বুঝলাম যে মাছ এসে টোপ গিলেছে। উত্তেজনার বসে ছিপ ধরে মারলাম খুব জোরে এক টান। এতো জোরে টান মেরেছি যে মাছ সমেত ছিপের দড়ি প্রায় ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গিয়ে জড়িয়ে গেলো মাথার উপরে থাকা জবা গাছের ডালপালায়। আমার সাথে সাথে আমার পাশে বসা বিড়ালটাও মাছের এই শুন্যপথে উড়ান লক্ষ্য করেছিলো। আমরা দুজনেই তাড়াতাড়ি গাছের দিকে এগিয়ে গেলাম। মাছটা খুব একটা ছোটো ছিলো না। ডালে ঝোলা মাছের ঝটপটানি দেখে বিড়ালটা লোভে অস্থির হয়ে উঠলো। আমি তাড়াতাড়ি করে জবাগাছের ডাল থেকে মাছ আর ছিপের দড়ি ছাড়িয়ে নিয়ে বাড়িতে চলে এলাম মা’কে দেখাতে যে এই মাছটাকে ছেড়ে দেবো কি না। বঁড়শীর বাঁকানো মুখ থেকে মাছের ঠোঁট ছাড়াতে বেশ বেগ পেতে হলো – কারণ মাছটা টোপটা বেশ ভালো করেই গিলেছিলো। মা বললো যে আর মাছ ধরতে হবে না, ওটাতেই সে-রাতের রান্না হয়ে যাবে। সুতরাং আমি ছিপ গুছিয়ে রেখে দিলাম। এর বেশ কিছু পরে কি একটা কাজে আমি আবার পুকুরের দিকে গেলাম। অবাক হয়ে দেখলাম আমাদের বিড়ালটা তখনও সেই একই ভাবে জবা গাছের ডালের দিকে ঘাড় উঁচু করে, এক দৃষ্টিতে চেয়ে বসে আছে!! আমি যে অনেক আগেই মাছটাকে নিয়ে চলে গেছি সেটা সে বুঝতেও পারেনি, বা বিশ্বাস করে উঠতে পারেনি। সে তখনও ভেবে চলেছে যে মাছটা জবা গাছের কোনো ডালপাতার আড়ালে লুকিয়ে ঝুলছে, আর কোনো এক সময়ে ঝুপ করে নিচে পড়ে যাবে! তখন তিনি সেটাকে ধরে খাবেন !!

অবশ্য প্রশ্ন উঠতেই পারে যে কে বেশি লোভী ছিলো সেই দিন – মানুষ, না বিড়াল? তবে লোভ বা নৃশংসতা, এই দুইয়ের কোনোটাতেই মানুষের কাছাকাছি কোনো জীব আছে, বা ছিলো কি এই পৃথিবীতে?

(চলবে)

(তৃতীয় ভাগ)

পোস্টটি শেয়ার করুন



2
Leave a Reply

avatar
2 Comment threads
0 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
0 Comment authors
ও কলকাতা – মার্জার কাব্য – ৩ও কলকাতা – মার্জার কাব্য Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
trackback

[…] দ্বিতীয় ভাগ […]

trackback

[…] (প্রথম ভাগ) (দ্বিতীয় ভাগ) […]