ও কলকাতা

কোলাজ কোলকাতা (১)

June 11, 2016 No comments

প্লুটোর ইন্টারভিউ

June 8, 2016 No comments

ফ্যাশন টিভি

June 1, 2016 No comments

ফলসা, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, গৌরী সেন ইত্যাদি

May 26, 2016 2 comments

পয়লা

– কাঁদছ?
– কাঁদব না?
– না মানে। কেঁদে লাভ নেই তো।
– তুমি এমন ভোম্বল মার্কা কথা বলা বন্ধ করবে? আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। আর তোমার সঙ্গে হয়নি, হয়েছে অন্য পাত্রের সঙ্গে। কাঁদব না? তোমারও তো চোখ ছলছল করছে। স্পষ্ট দেখতে পারছি।
– সেন্টিমেন্টাল তো হতেই হবে। আর ইয়ে, তোমায় সান্ত্বনা দিয়ে পিঠও চাপড়ে দিতে হবে। উপায় কি বল। আমি একটা বেখাপ্পা ছেলে। চালচুলো নেই। তুমি এক প্রকার বেঁচেই গেলে। আমার সঙ্গে বিয়ে হলে কি পেতে?
– কি দারুণ সংসার হত বলো তো। তোমার ফতুয়ার বোতাম ছিঁড়ে গেলে সেলাই করে দিতাম।
– এখন তোমার সায়েব বরের কোটের বোতাম ছিঁড়ে গেলে সেলাই করে দিও না হয়।
– ধুস। তুমি আর আমি মিলে ছাদে মাদুর পেতে বসে কত গল্প করতাম সন্ধেবেলা। এক সাথে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতাম। আর সাথে থাকতো এক বাটি ফুলুরি।
– তোমার হবু বরের সঙ্গে তুমি রুফ টপ পশ্চিমা রেস্তোরাঁয় বসে দাঁত ভাঙা নামের মন ভরানো সব খাওয়ার খাবে। ডিস্কো নেচে রাত ভর হুল্লোড় করবে।
– তোমার সাথে বিয়ে হলে আমরা দু’জনে পাড়ার ক্লাবের ফুটবল ম্যাচ দেখতে যেতাম। বাড়ি ফেরার পথে ফুচকা খেয়ে পেট ভরিয়ে ঢুকতাম।
– আর এখন তোমার হাই ফাই বর তোমায় টি টুয়েন্টি ম্যাচ দেখাতে নিয়ে যাবে। ফেরার পথে তোমাদের থাকবে কে-এফ-সি বাঁ পিৎজা হাট। কত মজা বল দেখি।
– তুমি একটা যাতা। আমার হবু বর পারবে আমার সাথে দেশপ্রিয় পার্কের সস্তা হোটেল কেবিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা মারতে?
– আরে সে তোমায় নিয়ে লং ড্রাইভে যাবে। তার জেল্লাই আলাদা।
– তুমি আমায় কথা দিয়েছিলে যে আমাদের বিয়ে হলে গরমের দুপুরে তুমি আমায় আম পোড়ার শরবৎ করে দেবে। আর লালবাজার থেকে স্পেশাল চায়ের পাতা এনে আমায় লেবু চা করে খাওয়াবে। আমার এই বর আমায় কাঁচকলা দেবে।
– আরে না গো! কাঁচকলা কেন দেবে। তোমার হাজব্যান্ড তোমায় গরমের দুপুরে ক্লাবে চিল্‌ড বিয়ার খাওয়াবে। সন্ধ্যের অবসরে স্কচ। সেলিব্রেশনে শ্যাম্পেন।
– তুমি না থাকলে আমায় শঙ্খ ঘোষ কে পড়ে শোনাবে?
– সে তোমার জন্যে গীটার বাজিয়ে হদ্দ হবে গো।
– তোমার সাথে ভোরে উঠে হাঁটতে বেরতাম। হাঁটতে হাঁটতে কত গল্প। ফেরার পথে সবজি বাজার করে থলে ভরে বাড়ি ফিরতাম।
– এ সব আদ্যিকালের ব্যাপার। তোমার নতুন বরের সঙ্গে তুমি নাইট আউট চিনবে। নিপাট রাত জাগা। আড্ডা হুল্লোড়ে রাত জাগা।
– দু’জনে মিলে একসাথে দুই বাবা আর দুই মাকে মাঝে মাঝে প্রণাম করতাম। দারুণ মানাত আমাদের। একদম ট্যাঁপা আর টেঁপি।
– নতুন বরের সাথে মিলে বাপ-মা’দের জড়িয়ে ধরে গালে চুমু খাবে। মিস্টার অ্যান্ড মিসেস। সে স্নেহের পরিসর কম কিসে? তুমি কিন্তু তোমার বর কে নিয়ে বড্ড বেশী নেগেটিভ হয়ে যাচ্ছ।
– তুমিই বা কি, একটা অন্য ছেলে তোমার প্রেমিকার হাত ধরে টেনে নিয়ে ড্যাং ড্যাং করে চলে যেতে বসছে, আর তোমার যেন কিছুতেই কিছু এসে যাচ্ছে না।
– আমার ফিউচার নেই গো। তোমায় বেঁধে রেখে কি লাভ? আমার সাথে লেপটে থাকলে শেষে তুমিই মরবে। আর তাছাড়া আমি জানি, তোমার মনের কোন এক কোণে চেপেচুপে আমার স্মৃতিটুকু থেকে যাবেই। তুমি জাত নস্টালজিক। আচ্ছা, তোমার হবু বরের নামটুকু তো বললে না।
– ওর নাম ফার্স্ট জ্যানুয়ারী। কেমন কাঠ-খোট্টা বল।
– কাঠ-খোট্টা কেন হতে যাবে? বেশ নাম তো। ফার্স্ট জ্যানুয়ারী। আমার মত থপথপে নাম নয়। তুমিই বলো, এই যে আমার নাম, শ্রী পয়লা বৈশাখ। এটা কোন নাম হল?
– তুমি আমায় বিয়ে করবে না তো করবে না। কিন্তু জেনে রেখো, আমার কাছে ওই ফার্স্ট জ্যানুয়ারী গোছের নামের থেকে পয়লা বৈশাখ নামটা অনেক বেশী মধুর। এবং চিরকাল তেমনটাই থাকবে। বুঝলেন পয়লা বাবু?
– হে হে হে।
– অমন বোকা হাসিতে ভুলছি না। তোমার একটা জিনিষ আমার কাছে জমা করে রেখে যেতে হবেই। নয়তো ছাড়ছি না তোমায়।
– কি জিনিষ গো?
– হাল খাতা। তোমার হালখাতাটা আমায় দিয়ে যেও প্লীজ।
– হালখাতার যে আজকাল কোন দাম নেই গো।
– স্মৃতির দাম নেই বুঝি? প্লীজ পয়লা, জানুয়ারির হাতে আমায় ঠেলে দিচ্ছ, আমি কিছু বলছি না। কিন্তু তোমার হালখাতার স্মৃতিটুকু অন্তত আমাকে দিও। দেবে না ?
– বেশ। দেব তোমায়। হালখাতার স্মৃতিটুকু। ভালো থেকো। কেমন?

পোস্টটি শেয়ার করুন



2
Leave a Reply

avatar
2 Comment threads
0 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
2 Comment authors
Kishore GhosalManiparna Sengupta Majumder Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
Maniparna Sengupta Majumder
Guest

বেশ লাগল 🙂 … পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা…আরো এগিয়ে চলুক আমাদের ‘ও কলকাতা’ … 🙂

Kishore Ghosal
Guest

BeSh lekha. Prothomta mone hocchilo onno kichu, pore hoye gelo r. hate roye gelo shudhu haal khata, Well done, Tanmoy saheb, naki Tanmoybabu