ও কলকাতা

দিল্লীকা লাড্ডু ও এক বান্ডিল ভূত

April 21, 2019 No comments

কিভাবে ভোটে দাঁড়াবেন না

April 13, 2019 No comments

কোলাজ কোলকাতা (১)

June 11, 2016 No comments

প্লুটোর ইন্টারভিউ

June 8, 2016 No comments

পয়লা বৈশাখ

হিন্দু বৈদিক সৌরীয় ক্যালেন্ডারের সাথে বাংলা ক্যালেন্ডারের একটা সূক্ষ্ম যোগাযোগ আছে । সেটা হল দুটোই  সূর্য-সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সাথে তুলনা করলে বাংলা নববর্ষ শুরু হয় এপ্রিলের মাঝখান থেকে (১৪/১৫-ই এপ্রিল)। আর এই বাংলা নববর্ষ (১-লা বৈশাখ) এক্কেবারে মিলে যায় মিথিলা, আসাম, বার্মা, কম্বোডিয়া, কেরালা, মণিপুর, নেপাল, উড়িষ্যা, শ্রীলঙ্কা, তামিলনাডু, আর থাইল্যান্ডের ক্যালেন্ডারের সাথে।

বাংলা ক্যালেন্ডার কবে থেকে শুরু হয় বা কে শুরু করেন তা নিয়ে দুটি চলতি ধারনা আছে, যদিও ঐতিহাসিক দিক থেকে তার সাক্ষ্য প্রমাণ এখনও অপেক্ষায়।

প্রথম মতের দাবীদাররা স্বাধীন গৌড়ের তৎকালীন রাজা শশাঙ্ককে (৭-ম শতকঃ ৫৯০-৬২৫ এ ডি) এই ক্যালেন্ডারের চালুকার হিসাবে ভাবেন- কেননা পেছন দিকে গণনা করলে (back calculations) মোটামুটি ভাবে  ক্যালেন্ডার শুরুর সময় শশাঙ্কের রাজত্বকাল পড়ে। কিন্তু একজন স্থানীয় প্রদেশের রাজার দ্বারা স্থাপিত ক্যালেন্ডার আধা ভারত ও ভারতের বাইরে সাউথ-ইস্ট এশিয়াতেও সকলে মেনে নিয়েছে, সেটা একটু কষ্ট কল্পিত বলে মনে  হয়, যদিও ওই সময়ই ভারত থেকে বৌদ্ধ ধর্মের প্রসার ও প্রচার সাউথ ও সাউথ-ইস্ট দেশগুলিতে ছড়িয়েছে। তাই একটা যোগাযোগ থাকলেও থাকতে পারে।            .

তার থেকে একটু বেশী লজিকাল বোধহয় দ্বিতীয় দাবীদারেরা। মুঘল সম্রাট বাবরের নাতি, সবচেয়ে খোলামনের ও পপুলার সম্রাট তৃতীয় মুঘল, আকবরের দ্বারা এই ক্যালেন্ডারের পত্তন হয়েছিল। খাজনা আদায়ের সবচেয়ে  কার্যকারী পন্থা হিসাবে এই ক্যালেন্ডারের আবিষ্কার বা চলন। মুঘল সময় চলতো হিজরি ক্যালেন্ডারের নিরিখে, যা কি’না চন্দ্রের অবস্থানের ওপরে নির্ভরশীল ছিল। আজও মুসলিম ক্যালেন্ডার সে ভাবেই চলে। কিন্তু চন্দ্রের দ্বারা  বছর নির্ধারণ করে, কৃষকের কাছ থেকে চাষের ফসলের খাজনা আদায় হচ্ছিল না, কেননা বাংলায় ঐ হিসেবে  ফসলের সময় নয়। প্রজাপালক সম্রাট দেখলেন প্রজাদের খাজনা দিতে ভীষণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ফসলের সময় নয়, আর খাজনা দিতে গিয়ে ঘরের থেকে নিজের ব্যবহারের জন্য রাখা জমানো ফসলও রাজকোষে দিয়ে দিতে হচ্ছে। আকবর বিচলিত হন, আর আদেশ করেন তাঁর সভার গণৎকারকে, ফসলের ও খাজনার উপযোগী করে নতুন বর্ষ-পঞ্জিকা বানাতে, যাতে রাজা–প্রজা দুজনেরই সুবিধা হয়। আমীর ফতেউল্লা সিরাজী, সম্রাটের এস্ট্রোলজার  তখন এই বাংলা ক্যালেন্ডারের সৃষ্টি করেন, যা কিনা চন্দ্র-সূর্য উভয়ের চলন সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে করা হল। সন–তারিখের হিসেবে এই ক্যালেন্ডার চালু করেন সম্রাট আকবর, সেই দিন যে দিন তিনি পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। হিজরি হিসেবে সেটা ছিল ৯৬৩ হিজরি বা ৫-ই নভেম্বর, ১৫৫৬ সাল। প্রথমে এই ক্যালেন্ডারের নাম ছিল “ফসলী সন”, পরে বঙ্গাব্দ আসে ১৫৮৪ সালে। ১৫৫৬ থেকে ১৫৮৪ পর্যন্ত এই ক্যালেন্ডারকে “ফসলী সন” হিসেবেই মেনে চলা হতো। ফসলী সন অর্থে যে সময়ে ফসল ফলে-খাজনা পেতে কোন দিক্কত হয় না।

শশাঙ্ক বা আকবর যিনিই এই ক্যালেন্ডারের অবতারণা করে থাকুন না কেন আগামী ১৫-ই এপ্রিল ২০১৪ সালে আমরা তার ৪৫৮ তম বৎসরের সূচনা করতে চলেছি। পৃথিবীর মানব সভ্যতার ইতিহাস যেখানে ১০,০০০ বছরের কাছাকাছি, সেখানে বাঙ্গালিরা কি মাত্র ৪৫৮ বছরের পুরনো একটা জাতি ? সময় সারণি কি তাই বলে ? না, এটা শুধুই ক্যালেন্ডারের বয়স। বাঙালির উল্লেখ ৩০১৪ বছরের পুরানো (১০০০ বি সি ই) অথর্ব বেদেও  পাওয়া যায়, যেখানে বলা আছে আজ থেকে প্রায় ৪০০০ বছর আগে দ্রাবিড়েরা, অষ্ট্রোএশিয়াটিক ও টিবেটান-বার্মিজ মিলে অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ প্রদেশ মিলে অধুনা বাঙলার উৎপত্তি হয়েছিল। দ্রাবিড়িয়ান উপজাতি “বঙ” থেকে মনে হয় বাঙ্গালি বা বঙ্গ শব্দের উৎপত্তি!

গাজনের বা চরকের মেলার শেষ দিনের হৈ হট্টগোলের মধ্যেই থাকে পয়লা বৈশাখের আগমনের বার্তা। চৈত্রের দ্বিপ্রহরান্তে  যখন ক্লান্ত আর উপোষী, বড়শিঝোলা-মেলায়দোলা, উপেন আর তার বড় ছেলে বাড়ির পথ ধরে, কাঁধের পুটুলিতে এ’কদিনের খেলা দেখানোর পয়সা, একখানা নতুন শাড়ি, মেয়ের মাথার ফিতে আর ছোট ছেলের জন্য নিজেদের মুখের লোভটাকে চায়ের সাথে খালি পেটের ভিতরে পাঠিয়ে, বাঁচিয়ে রাখা ভালো বিস্কুটের প্যাকেটটি  নিয়ে, তখন বৈশাখের আগমন ঘটে যায়। শহুরে জীবন আর গ্রামের জীবন আলাদা হলেও পয়লা  বৈশাখ বচ্ছরের প্রথম দিন, সেই হিসাবে একই রকম। শুধু তাকে মানানোর আয়োজন আর নিজের নিজের জীবনে দেখার নজর আলাদা।

 যদিও জায়গাটা পুরো দস্তুর শহর নয়, কিন্তু গ্রাম একেবারেই নয়। শহরতলী বলা যেতে পারে, যেখান থেকে  শহরে পৌঁছাতে আধা ঘন্টার বেশী সময় লাগে না। সেখানে একবার পৌঁছালে আর কোন সীমানা নেই, কোথায় যে যায় এতো লোক, আর আসেই বা কোথা থেকে! নরেন প্রথম প্রথম মাল কিনতে যখন আসত, ওর খালি ভয় হতো ফেরার পথটা পাক্কা গুলিয়ে ফেলবে, আর সারা রাত্রি শহরে কেনা মালপত্র নিয়ে চরকি পাক দিয়ে বেড়াবে গ্রামে ফেরার জন্য। গুপি পাড়ায় নরেনের রেডিমেড জামাকাপড়ের দোকান। বাবা ছিলেন এই শহরতলীর নামকরা দর্জি, ও নিজেও তাই, কিন্তু এখন পালা পাব্বণে লোকে আর জামা পাজামা বানায় না, এমন কি বাচ্চারাও হাতে সেলাই করা জামা পড়তে চায় না। তাই নরেন ধীরে ধীরে এখন এই দিকটায় ঝুঁকেছে, চৈত্রের সেল থেকে নতুন বছরের গোড়ার দিকের দিন গুলি পর্যন্ত যেটুকু আমদানি তুলতে পারে সেই দিয়ে দুগগি ঠাকরুন আসা পর্যন্ত সংসার  টানতে হয়। অবশ্যি আজকাল দোলযাত্রা, রথযাত্রা, ঝুলনযাত্রা সব কিছুতেই লোকের এক-আধটা নতুন জামা কাপড় পরার বাসনা জাগে। বছর শেষের বিকেলে নরেন যখন মাল নিয়ে আসছিল, তখন পাশের সীটে বসে থাকা মেয়েটি হুড়মুড়িয়ে বমি করে দেয় পায়ের কাছে রাখা তার মালের ওপর। ভাগ্যিস প্লাস্টিক দিয়ে মোড়া ছিল, তাই ক্ষতিটা এড়ানো গেলেও বমির নোংরা আর দুর্গন্ধের মধ্যে বাসের মধ্যে বসে থাকা দায় হয়ে দাঁড়ালো। আরো পাঁচটা স্টপেজ পার করে তবে নরেনের নামার কথা। সামনের স্টপেজেই ও নেমে পড়ে মাল পত্র নিয়ে, যদি একটা ভ্যান রিক্সা পেয়ে যায় এইভেবে। যদিও কিছুটা এক্সট্রা পয়সা গাঁট থেকে যাবে। ও কাল বিক্রি বাটায় পুষিয়ে নিতে হবে। হাজার হলেও পয়লা বৈশাখের বাজার বলে কথা।

 প্রাণকেষ্ট মিত্তির লেনের টালি চালের ছোট্ট পরিবারের সন্ধ্যা নামের মেয়েটি, রীড বের করা হার্মোনিতে সকাল থেকেই গলা সাধতে বসেছে। কাল স্টেজে যখন মিউনিসিপালিটির চেয়ারম্যান সাহেবের উপস্থিতিতে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটবে, তখন তাকে এই গানটা গাইতে হবে। ‘এশো হে বৈশাখ, এশো এশো…’। তালে যদিও চলনসই হচ্ছে, গলাও ভাল, কিন্তু উচ্চারণের ব্যাপারে কিছু করার নেই। স্কুলের বড়দি যখন গানটা বেছে ওকে দেন তখন থেকেই জানা ছিল এটা। যদিও সন্ধ্যার নিজেকে তৈরি করার ব্যাপারে কোন ফাঁকি নেই। ১-লা বৈশাখ আসছে।

পাড়ার ছেলেরা মিলে বাঁশ লাগাচ্ছে- প্যান্ডেল হচ্ছে। সন্ধ্যায় এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। বড় শিল্পী তেমন কেউ নেই অবশ্য, সকলেই কণ্ঠী (লতা, আরতি, মান্না, শ্যামল) আর পাড়ার এক ব্যান্ড। ১-লা বৈশাখ পালন করতে  হবে ভালো ভাবে। প্রথম দিন ভালো গেলে সারা বছর ভালো যাবে। ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছে এই কথাটা। পাড়ার সব লোকের কাছ থেকে চাঁদা যোগাড় করা হচ্ছে, ক্লাব থেকেও কিছু পয়সা আসবে, সব মিলিয়ে ছোট করে জলসা হয়ে যাবে। শিল্পীদের তো কিছু দিতে হবে, এ ছাড়া চা-শিঙাড়া, বিস্কুট আর মানিকচাঁদের যোগাড় রাখতে হবে। তরুনটা বলছিল, পয়লা দিন, সকলকে একটু মিষ্টি মুখ করানো উচিত। ওর কথা শুণে বাকিরা ওর মাথায় চাটা মারতে থাকে, ‘ব্যাটা তোর পাখী গাইবে বলে মিষ্টিমুখ করানো উচিত, না’! পাখী লতা কন্ঠী, তরুণকে একটু  নরম নজরে দেখে, আর সেটাই তরুণের একমাত্র আকর্ষণ এই জলসায়। সে যখন ব্যবস্থাপনায় আছে তখন পাখীর জন্য এইটুকু আজকের দিনে তার তো করাই উচিত। হোক না চাঁদা তুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ওদের ব্যাপারটা তো আলাদা, আর সেটা সকলে জানেও। সেই তো আবার বিজয়ার ফাংশানে আসবে পাখী। অবশ্য এর মাঝে রবীন্দ্রনাথের জন্ম-মৃত্যু দিন আসবে, বিশ্বকর্মা পূজো আসবে। কিন্তু আজকে হচ্ছে বচ্ছরকার প্রথম দিন। তরুণ মনে মনে ফিকির খুঁজতে থাকে।

রিত্তিকা’র ওই দিন মণিপালের অল ইণ্ডিয়া অ্যাডমিশান টেস্ট। প্রত্যেক বছর এই পরীক্ষাটা মে মাসে হয়, এই বছর ভোটের জন্য আগে হয়ে যাচ্ছে। যদিও অন লাইন টেস্ট, কিন্তু যে সমস্ত ইন্সটিটিউটে এই সব পরীক্ষা নেওয়া হয়, সেখানকার মেশিন ও মানুষ ভোটের সময় লাগতে পারে। ওর একেবারেই পয়লা বৈশাখের দিনে এই পূজো পূজো ভাবটা পছন্দ নয়, আর রাত বারোটাতেও কিছু হয় না, না কেক কাটা, না ডান্স, কিচ্ছু না। তা কি করে বচ্ছরের প্রথম দিন হয় ? ১-লা জানুয়ারি আর ৩১ শে ডিসেম্বরের সাথে ১-লা বৈশাখের কোন তুলনা চলে  না। আর মা’ও সকাল থেকে পেছনে পড়ে যায়, বাড়ির বড়দের প্রণাম করে এসো, ঠাকুমা নামতে পারবেন না, সবার আগে তাঁর ঘরে যাবে। স্নান করে একটা নতুন কড়কড়ে শাড়ি পড়ে এই সব করতে ওর একদম ভালো লাগে না। বাবা অফিসে যাবেন নিয়ম মতো, কই তার ওপরে তো কোন হুকুম কেউ চালাচ্ছে না। একবার বাবাকে জিজ্ঞাসা করে  দেখবে কি’না, ভাবে। মা’কে বলায়, উনি আরো রেগে যান, ‘তোমায় যা বলছি তুমি তাই কর, বাবার কথা তোমায় ভাবতে হবে না’। পরীক্ষার কথা ভেবে রিত্তিকা চুপ করে যায়, শুধু শুধু মুড খারাপ করে কোন লাভ নেই। এসব তাড়াতাড়ি শেষ করে ওকে পরীক্ষার জন্যও তো তৈরি হতে হবে। কাল সাগরী এক্টিভা নিয়ে আসবে, ওরা একই সাথে যাবে পরীক্ষা দিতে। দুজনের একই জায়গায় ভবিষ্যতে পড়তে যাবার ইচ্ছে আছে। তাহলে আর নতুন করে বন্ধু করার জন্য চিন্তা নেই।  আজকাল বেশী লোকজন আর হল্লা গোল্লা ভালো লাগে না। দু একটা বন্ধুই ভালো। যাক তাড়াতাড়ি ১-লা বৈশাখ!

 নার্সিং হোমের মুখে সকলে অপেক্ষায়। দোতলায় কেবল মিনতির স্বামী আছে। মিনতিকে ও.টি-তে নিয়ে গেছে বেশ কিছুটা সময় হলো। মিনতি অন্তঃসত্ত্বা ছিল, যদিও ওর ডেলিভারির তারিখ বৈশাখেই ছিল, কিন্তু কাল রাতে  বাথরুম করে, ঘরে আসার সময় পা-টা কিছুটা পিছলে যায়। যদিও ও পড়ে যায় নি, কিন্তু বেশী রাতের দিকে  শরীর খারাপ হতে থাকে, পেটেও কষ্ট। পাড়ার অলোক ডাক্তার রাত্রি দেড়টায় এসে দেখে যাবার সময় বলে গেলেন এখুনি মুভ করান- কোন ভাবে ওয়াটার ডিসচার্জ হয়ে গেছে, বাচ্চাটার জীবন বাঁচান। সেই থেকে সকলে এখানে। রেগুলার এখানেই দেখানো হচ্ছিল ডাঃ ঘোষের আন্ডারে, তাই বেড পেতে অসুবিধে হয় নি। মিনতিকে চেক আপ করে ওনার মুখের ভাব দেখে সকলেই অস্বস্তিতে পড়ে। এখন শুধু একজনই আছেন যিনি রক্ষা করবেন। রাত ভোরের দিকে মেয়ে হল। মা-মেয়ে দুজনেই স্টেবল। সকলের উৎকন্ঠা একটু কমে। মেয়ের নাম কি হবে এই নিয়ে কিছুক্ষণ প্রাথমিক চেঁচামেচির পরে, তার নাম হয় চৈতালি। অল্পের জন্য বৈশাখী নামটা বাতিল হয়ে যায়। রাত পোহালেই ১-লা বৈশাখ!

 টুকরো টুকরো ঘটনা- নানা পরিবেশ। সম্রাট আকবরের দান ১-লা বৈশাখ গত ৪৫৮ বৎসর ধরে আসছে আর চলে যাচ্ছে কালের গতিচক্রে। রাজা হিমু যখন পরাজয়ের গ্লানি বুকে নিয়ে রাজ্যহারা হয়ে পাণিপথের রাস্তায় ঘুরছেন, তখন সেখান থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে এক ছোট্ট উপজাতি তাদের বছর শুরুর আনন্দে মাতোয়ারা হচ্ছে।  সময়ের পথ পেরিয়ে এইসব ঘটনা আবহমান কাল ধরে হয়ে চলেছে। ভালো ও খারাপ দুইয়ের সময়ান্তর।

একুশ শতকের মুখোমুখি হবার সময় এই সব আমাদের মনে দাগ হয়তো কাটবে না। কিন্তু যদি উৎপত্তির হারিয়ে যাওয়া সুতোটা আজকের সময়ের বুনোটের মধ্যে কোথাও গেঁথে নিতে পারি, তাহলে, জাতি হিসেবে, ব্যাক্তি হিসেবে, বাঙালি হিসেবে যথার্থ নামের উপযোগী হয়ে উঠতে পারি। আমরা নিজেদের কৃষ্টির ধারক ও বাহক মানি। তাই তার কিছুটা বোধহয় আগামীর ঝুলিতে আমাদের দিয়ে যাওয়া উচিত। ১-লা বৈশাখ কেবল হাসি , গান, খাওয়া, দাওয়া আর জামা কাপড়ের ভিড় নয়। নয় শুধু কালীঘাটের লাইনে দাঁড়িয়ে মা’য়ের নাম নেওয়া। আকবর বা শশাঙ্ক যেই হোন না কেন, আমাদের শত কোটি ধন্যবাদ তাদের জন্য, আজ বাঙালি হিসেবে এক বিশেষ দিন উদযাপন করার সুযোগ দেওয়ার জন্য। প্রয়োজনের ভিত্তিতে এক ভিনদেশী মোগল নিজের যে গাণিতিক বুৎপত্তি দেখিয়েছিলেন,আজ সেই দিনটি খুশী পালনের কার্যক্রমে এসে দাঁড়িয়েছে। ১-লা বৈশাখের  জন্মলগ্নে যে এক শাশ্বত ভারতের অবদান রয়েছে, এক শাসকের অবদান রয়েছে, একথা আজ ক’জন জানে! এমন কি করা যায় না, বাংলা ক্যালেন্ডারের ৫০০ বছর পূর্তিতে সেই বছরের নতুন পঞ্জিকার এক বিশেষ পাতায়, এই ইতিহাস ছাপার অক্ষরে সকল বাঙালি হৃদয়ে স্থান পাক। এ বারের ১৫-ই এপ্রিল এই বিষয়টি নিয়ে যদি বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরা একটু ভাবেন!

পোস্টটি শেয়ার করুন



1
Leave a Reply

avatar
1 Comment threads
0 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
1 Comment authors
Kishore Ghosal Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
Kishore Ghosal
Guest

Himadri, besh likhechen. Otiter Akbar theke Chaitali, choto porisore daruN