ও কলকাতা

কোলাজ কোলকাতা (১)

June 11, 2016 No comments

প্লুটোর ইন্টারভিউ

June 8, 2016 No comments

ফ্যাশন টিভি

June 1, 2016 No comments

ফলসা, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, গৌরী সেন ইত্যাদি

May 26, 2016 2 comments

অন্য অহল্যা

[spp title=”অন্য অহল্যা- ১”]

অভিধানে অহল্যা শব্দটির অর্থ হল: লাঙল চালনার অযোগ্য এমন ভূমি আর সংস্কৃতে ন-হলা বা যা হল-কর্ষণযোগ্য নয়। এই অহল্যা নাম্নী নারীটি অযোনিসম্ভবা অর্থাৎ কোনও নারীর থেকে তার সৃষ্টি হয়নি। সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার নিজ হাতে গড়া অমন তিলোত্তমা অন্য কোনও পুরুষের হয়ে উঠুক সেটিও বোধ হয় ব্রহ্মা মনেপ্রাণে মানতে পারেননি তাই বুঝি অহল্যা ছিলেন চিরকুমারী এবং সেখানেই তার নামটি সার্থক। আবার অভিশপ্ত পাথরে রূপান্তরিত অহল্যা সত্য সত্য‌ই হল-কর্ষণযোগ্য নয় এবং নিষ্ফলা । সেদিক থেকেও নামের আক্ষরিক অর্থটির সাথে সাযুজ্য রয়েছে।

 সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার সৃষ্ট অহল্যা নামে নারী চরিত্রটি পৌরাণিক উপাখ্যানে স্বনামধন্য হয়ে আছে অনেকগুলি কারণে।
১) তাঁর রূপ (সৃষ্টিকর্তার খেয়াল )
২) বুদ্ধি (বৃদ্ধ-স্বামীকে মানিয়ে নেওয়া ও একইসাথে দেবরাজ ইন্দ্রকেও খুশি করা)
৩) বৃদ্ধ স্বামীকে মেনে নেওয়া (পিতা ব্রহ্মার কথা লক্ষ্মী মেয়ের মত মেনে নেওয়া )
৪) অসাধারণ সিডিউসিং পাওয়ার (বৃদ্ধ,যুবক সকলকেই পটিয়ে ফেলা )
৪) ইন্দ্রের সাথে পরকীয়ার কারণে অভিশপ্ত পাথরে রূপান্তরিত হয়ে প্রকৃতিকে আঁকড়ে বেঁচে থেকে যাওয়া (চিরন্তন ভারতীয় নারীর ত্যাগ )
৫) রামায়ণের রামকে অতিথি সৎকারে অভিভূত করে অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়া (কঠোর তপস্যার জন্য আর কিছুটা গৌতমমুনির ক্ষমতা প্রদর্শন)
এবং এইসবগুলি কারণে পঞ্চকন্যার আখ্যা পাওয়া। “অহল্যা দ্রৌপদী কুন্তী তারা মন্দোদরী তদা, পঞ্চকন্যা স্মরে নিত্যং মহা পাতক নাশনম্‌।” এবার দেখি মূল অহল্যা-গৌতম-ইন্দ্র উপাখ্যান কি বলে?

ব্রহ্মা যতগুলি মানসকন্যা সৃষ্টি করেছিলেন তার মধ্যে সর্বোত্কৃষ্টা এবং তিলোত্তমা ছিলেন এই অহল্যা।    সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা নাকি স্বর্গের নর্তকী উর্বশীর রূপের দেমাক খর্ব করার জন্যই এই অবর্ণনীয় সুন্দরী অহল্যাকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন। ব্রহ্মার কাছ থেকেই অহল্যা পেলেন চির-যৌবনবতী থাকার আশীর্বাদ। গৌতমমুনির কামনার স্বীকার হলেন যৌবনবতী অহল্যা। ধ্যানের বলে ব্রহ্মা জানতে পারলেন সে কথা, কিন্তু ব্রহ্মা ঘোষণা করলেন যে সারা পৃথিবী পরিক্রমা করে সর্বাগ্রে তাঁর সামনে আসবে তার সাথেই তিনি অহল্যার বিবাহ দেবেন। সেই কথা শুনে সমগ্র দেবকুল এবং মুনিঋষিরা সকলেই যাত্রা শুরু করলেন। যাত্রা-শেষে আশ্রমে ফেরার মুখে মহর্ষি গৌতম একটি গোরুর বাছুর জন্ম নেওয়া লক্ষ্য করলেন। সেটি ছিল কামধেনু বা দৈব গোরু। সৃষ্টির এরূপ প্রকাশ লক্ষ্য করে গৌতম সেই গোবৎসের চারিপাশে প্রদক্ষিণ করে সেই পরিধির মধ্যিখানে একটি শিবলিঙ্গ স্থাপন করলেন।

ব্রহ্মা দৈববলে সে কথা জানতে পেরে গৌতমমুনিকে বললেন যে একটি গাভীর সন্তানের জন্ম দেওয়া হল পৃথিবী সহ সপ্তদ্বীপের উৎপত্তির সমতুল্য। এবং সেই গোবৎসটি প্রদক্ষিণ করে তার মধ্যে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করা হল সারা পৃথিবী ভ্রমণের সমান। গৌতমের এরূপ কঠোর ধৈর্য দেখে ব্রহ্মার মন ভিজল। তিনি গৌতমমুনির সাথে অহল্যার বিবাহে সায় দিলেন। অসামান্য সুন্দরী অহল্যা হলেন বৃদ্ধ গৌতম মুনির যুবতী ভার্যা। ব্রহ্মা নবদম্পতিকে উপহারস্বরূপ ‘ব্রহ্মগিরি’ দান করলেন। ব্রহ্মগিরি হল নবদম্পতির আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণের সর্বোচ্চ স্থান।

পোস্টটি শেয়ার করুন


Categories: সিনেমা

1
Leave a Reply

avatar
1 Comment threads
0 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
1 Comment authors
Arnab Roy Choudhury Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
Arnab Roy Choudhury
Guest
Arnab Roy Choudhury

অসাধারণ লেখা। অহল্যা নিয়ে এত ডিটেল লেখা আর পাই নি। সুজয় ঘোষের ‘অহল্যা’ নিঃসন্দেহে দুর্দান্ত সিনেমাটিক উপস্থাপনা। কিন্তু গল্পের বুননে অসামঞ্জস্য চোখে পড়ে এবং কিছু কিছু জায়গা ঠিক লজিকাল লাগে না।তা সত্ত্বেও ১৪ মিনিটে এই থ্রিলার টা বানানোর জন্য সুজয় ঘোষ কে হ্যটস অফ।