ও কলকাতা

দিল্লীকা লাড্ডু ও এক বান্ডিল ভূত

April 21, 2019 No comments

কিভাবে ভোটে দাঁড়াবেন না

April 13, 2019 No comments

কোলাজ কোলকাতা (১)

June 11, 2016 No comments

প্লুটোর ইন্টারভিউ

June 8, 2016 No comments

ছিন্নবীণা ৫

Stay high!

উফ! কটা দিন টানা গাঁজা সিগারেট খেয়ে কাটানো যাবে, জাস্ট ভাবা যাচ্ছে না!! সাধে বলে pujo spirit ?

না না, আমি না, শিব হয়ত প্রতিবছর এসময় এমনটাই ভাবেন!

পাড়ায়ে পাড়ায়ে প্যান্ডেল কর্তার এখন ঘুম উড়ে যাবার জোগাড়। শারদ সম্মানগুলো তো আর অন্যদের নিতে দেওয়া যায়ে না, কি বল?

তা যাকগে, শিব কে নিয়ে চিন্তা না করলেও চলবে, ও যেমন আছে থাক।

বেচারা মহিষাসুর! সবকটা দিন ত্রিশূল তলোয়ার বন্দুক সিংহের খোঁচা খেয়েই গেলো, un-caste বিয়ে করতে কেন যে গেলো বেচারা!ভাগ্যিস সেই সময় human rights commission ছিল না, নাহলে দুর্গাকেই জেলে পুরে দিত, তার সাথে চলতো মিটিং মিছিল আরও কতকি। social হামলা হয়ে যেত একটা! মহিষ মারলে তো SPCA খেয়ে নিত দুর্গা কে চিবিয়ে চিবিয়ে।

তা বেশ হয়েছে এ যুগে ঘটনাটা ঘটেনি। তাই জন্যেই কুমোরটুলি গেলে মাখা মাটি আর পাটের ঝুরোর গন্ধটা পাই। ভাগ্যিস কেউ ভেবেছিল socially একটা বড় পুজো করা হবে, তাই জন্যেই না তোমায়ে প্রতিবার জিজ্ঞেস করতে পারি, “কিরে কটা হল?” হ্যাঁ ব্যাপারটা এখন জামা ছেড়ে girlfriend হয়ে যাচ্ছে, that’s OK।

কতো লোক দেখি রাস্তায়ে, এও কিছু ঘটছে চারিদিকে, তাও, কি সুন্দর সবার মুখে হাসি দেখা যায়ে!!

রোদের দিক বদলে যাচ্ছে বলে, ঘরের খড়খড়ি দাওয়া জানলার ছোট্ট ফোকর দিয়ে আলো পড়ে, ঘরের ভেতর ঐ pin-hole কামেরার সিনেমার অ্যাঙ্গেল-টাই বদলে যায়ে !!

শাড়ি পাঞ্জাবি পরে থাকাটা যেন হুট করে ফিরে আসে, শুধু তুমি আসো বলে। কাজের চাপে রাত জেগে জেগে আমরা সবাই প্যাঁচা, তাই whole night ঘোরা টা এখনও trend।

একা পরবো? কাজের মাসি একা থাকবে? ওকেও তো এই বছরকার উৎসবে কিছু দিতে হয়ে, হাসিটা বেশ লাগে…।

সারা বছর কথা বলি না, তাও ঠিক এই দশমির সময়টা মনে হয়ে সব ভুলে সবার সাথে কথা বলে আসি, ডেকে ডেকে।

দুর্গা আমার কাছে একটা connecting memory; এলে কতকি সাথে নিয়ে আসে। বছরে একবার আসে বটে, পুরো বছরের হারিয়ে যাওয়া “bengalensis” ফিরিয়ে নিয়ে আসে, আর তার সঙ্গে একটুখানি ভুলে যাওয়া মনুষ্যত্ববোধ কে। গঙ্গা মাটি, বালি মাটি, গোবর, পুণ্য মাটি, ঠাকুর বানানোর আগে মনে করায়ে, সে কোথায়ে কোথায়ে আছে।

নতুন করে বুঝতে পারি যে, এরকম ভাল মনে, হয়ত পুরো বছরটাই থাকা যায়ে; bank balance বাড়লে যে মনটা এতটা হাসে না, এটাও বুঝি। চেনা মুখগুলো দেখা, “কিরে কেমন আছিস” বলা, এতদিন যা যা ভুল করেছি তার জন্যে ক্ষমা চাওয়া, নিজেকে “better luck next time” বলা, পুজো মানে তো এগুলোই।

এতকিছুর মাঝে নিজেকে ফিরে পাওয়ার নাম-ই দুর্গাপুজো।

হ্যাঁ আমরা বদলেছি, বদলাচ্ছি। আমরা বড় হচ্ছি, আমরা ভুলছি। তাও আমরা তোমার ভক্ত। তোমায়ে ভক্তিও করি, ভালও বাসি। তোমার মুখে মিষ্টি গুঁজে দি, তোমার দিকে হাত জোড় করে তাকিয়ে হা করে তোমায়ে দেখি। তোমার পায়ে আমার পড়ার বই ছোঁওয়াতে এখনও ছুটে যাই।

তুমি এলে , হারানো তার গুলো এখন টুং-টাং বাজে। তুমি এলে যেন নতুন করে তার গুলো বেধে ফেলতে পারি।

Modern যুগ, তা হোক না। মনটা তো এখনও DJ beats-এর থেকে ঢাকের আওয়াজে বেশি নাচে।

এখনও থাকতে চাই পুজোর অষ্টমীর সাজে। বাঙ্গালিয়ানা, খাসির মাংস, ইলিশ খিচুরি, কালবৈশাখী, গরম চা, কফি হাউস, মান্না দে, বিরেন্দ্র কৃষ্ণ, এসব ছাড়া, এখনো আমি নিজেকে খুজে পাই না।

এসো ডিয়ার দুর্গা, এবারেই নয় শুধু, বারে বারে এসো, এই হারানো আমির কাছে।

অপেক্ষায়ে রইলাম আমি, আর রইল আমার মনের ছিন্নবীণা।

Best Regards

পার্থ

 

 

পোস্টটি শেয়ার করুন



1
Leave a Reply

avatar
1 Comment threads
0 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
1 Comment authors
sanchita Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
sanchita
Guest

fantabulous Partha 🙂