ও কলকাতা

দিল্লীকা লাড্ডু ও এক বান্ডিল ভূত

April 21, 2019 No comments

কিভাবে ভোটে দাঁড়াবেন না

April 13, 2019 No comments

কোলাজ কোলকাতা (১)

June 11, 2016 No comments

প্লুটোর ইন্টারভিউ

June 8, 2016 No comments

সমুদ্র গুপ্তের অটো-যাত্রা

June 4, 2016

সমুদ্র গুপ্ত অটোতে উঠলেন। জায়গাটা খানিক অন্ধকার বলেই আগে বোঝেননি অটোটার পেছনে দুদিক খোলা। অর্থাৎ ওদিকদিয়ে উঠতেই পারতেন। কিন্তু খামোকা বাঁইই করে অর্ধবৃত্তের মত পাক খেয়ে অটোর বাঁ দরজা দিয়ে পেছনের সিটে উঠেই দেখলেন হুড়মুড় করে কি একটা ডান দরজা দিয়ে ঊঠে পড়ল। ভালো করে বুঝে ওঠার আগেই নাকে এল পারফিউম আর ঘামে মাখামাখি এক বিতকুটে গন্ধ। স্পর্শে এল বড় সড় মেদবহুল এক মেয়েলী উপস্থিতি। আর ঘাড়ে সুড়সুড়ি দেওয়া একগাছি লম্বা চুল।
‘হ্যাঁ, কোথায় তুই?’ দেখা গেল মহিলা ফোন বের করে গলা পাকিয়েছেন। চওড়া স্মার্টফোনের পর্দাটা অটোর অন্ধকারে একবাক্স হীরক-খন্ডের মত জ্বলে উঠল। ততক্ষনে সমুদ্র গুপ্তকে স্যান্ডুইচ বানিয়ে পেছনের বাম দরজাও রাজারহাটের এক তথ্যপ্রযুক্তি সুলভ ছুঁচলো দাড়ি আর বিদগ্ধ চশমা ফ্রেম দখলে নিয়েছে। আর ছেলেটির হাতের বস্তাসদৃশ দুটো ল্যাপটপ ব্যাগে সে দরজা দিয়ে বাইরের আলো ঢোকার ফুটীফাটাও বন্ধ! এদিকে, ড্রাইভার ধর্মতলার ফুটপাথিয়া হকারের মত , ‘দুটো খালি… তাড়াতাড়ি… দুটো খালি’ বলে খদ্দের ডাকছে।
‘ও তুই বেরিয়ে গেছিস? এত তাড়াতাড়ি?’ মহিলা কথা বলে চলেছেন। সমুদ্র দেখছিল, ডানপাশের ওই বাহুবলী মহিলার স্মার্ট-ফোন কানে ধরা থলথলে হাত, ওনার মেদবহুল বুক-পেট ধরে টানা দেহরেখার সাথে পঁয়তাল্লিশডিগ্রীতে কাৎ করে বগল এলাকায় এক প্রশস্ত ফাঁকের জন্ম দিয়েছে। সে ফাঁক শুধু পারফিউম আর ঘেমো গন্ধের জন্ম দিয়েই ক্ষান্ত নয়, বরং দেখে মনে হচ্ছে এক বিশাল পাইথনের হাঁ-মুখ। কিংবা সারসের ফাঁক করা লম্বা ঠোঁট। সেই পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রী ফাঁক দিয়ে আবছায়া আলো এসে সমুদ্রকে বলে দিচ্ছিল এই মহিলা মোটেই তেমন বয়স্কা কেউ নয়। কানে বড় বড় দুল। ঠোঁট বেশ গাঢ় রঙে ছোপানো। গায়ের রঙ কালোই বলা যায়। চুলগুলো খানিক কোঁকড়ানো। আর বগলের ওই পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রী ফাঁকা কৌনিক-জাঙ্গাটাই সমুদ্রের চোখজোড়াকে নিয়ে গিয়ে ফেলছিল ঠিক সামনেই একটি টেলরের দোকানে, যেখানে এক মহিলা বসেছিল আটপৌরে শাড়িতে। মাথার খানিক ওপরে দড়িতে টাঙানো জামাপ্যান্টগুলো নড়ছিল। আর সামনে দোকানের কাউন্টারে শুয়ে থাকা একটা শিশু হাতপা ছুঁড়ছিল আনন্দে। ওপরে কালো একটা ফ্যান ঘুরছিল বন বন করে। এভাবেই, ফ্যানের হাওয়ায় এই গরমে তুমুল ফুর্তির একটুকরো ছবি দেখছিল সমুদ্র গুপ্ত । আর আবছায়া এই ভ্যাপসানো ঘুপচিতে বসে ভাবছিল, অটো চললে কি খানিক মুক্তি পাবে ?
‘আমি তো প্রেসিতে আছি। প্রেসিডেন্সীর গেটে দাঁড়িয়ে আছি। ওকে বলেছি গাড়িটা আনতে। ফোন করেছিল। কাছাকাছি আছে। এই গরমে আর পারছিনা। ও এলে গাড়িতে অনুপম চালিয়ে এসির হাওয়া খেতে খেতে উত্তরপাড়া যাব। না দমদম পার্কে কাল যাব। তুই কাল কি করছিস?’ মহিলার ঠোঁটদুটো বিরাম নিচ্ছিল না যদিও এই গরমে।
সমুদ্র গুপ্ত কল্পনায় একটা এসি গাড়ি অনুভব করতে গিয়ে দেখল অনুপম রায় মাথায় সাদা টুপি পরে ড্রাইভারের আসনে বসে। বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে ভেবে আবার মেয়েটির বাহু ঘেঁষা ওই পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রীর খোপ দিয়ে তাকিয়ে দেখল একটা কুকুর এসে দাঁড়িয়েছে রাস্তায়। নিরীহ নেড়ি কুকুর।
‘ও তুই কাল চলে যাবি? এ বাবা। দেখা হল না। কাল থাকলে তুই আমাদের বাড়িতে থেকে খেয়ে যেতে পারতিস’ গলায় শান্তিপুরী ভদ্রতা এ মেয়ের এখন। সমুদ্রের রাগ হচ্ছিল। দমদম পার্কের অটোতে চড়ে প্রেসীডেন্সীর এসি ট্যাক্সি! পাঁয়তারা হচ্ছে!
চাকরি পাওয়ার আগে কোলকাতায় যখন ইন্টারভিউ-এর গোঁত্তা খেতে আসত জলপাইগুড়ি থেকে, এমন উত্তর হামেশাই পেত এখানকার আত্মীয় বন্ধুদের কাছে। ইন্টারভিউ দিয়ে অনেক সময়েই শিয়ালদার সস্তা হোটেলে থাকতে হত। অথচ সেই সব আত্মীয় বন্ধুরাই দার্জিলিং কিংবা ডুয়ার্সে এলে হেঁ হেঁ করে ফোন করত সমুদ্রকে। বিনি পয়সার হোটেল থেকে ফ্রি সার্ভিস গাইড। বেকার ছেলের এর চেয়ে বেশি কি আর যোগ্যতা হতে পারে?
খুব রাগ হচ্ছিল সমুদ্রের। বাঁ পাশের আইটির ছেলেটা চিৎকার করে উঠে বলল, ‘এই যে দাদা, এবারে অটোটা ছাড়ুন তো। যদি সারারাত কেউ না আসে আপনি এরকম চিল্লিয়ে যাবেন? আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে তো! এই গরমে এরকম করে পারা যায়?’
ওই মহিলা নাটুকে সংলাপে খানিক গলার জোর বাড়িয়ে বলল, ‘এই শোন, সাবধানে যাস। আর কাকু কাকিমাকে আমার প্রনাম জানাস। ও হ্যাঁ আমি না আগামী মাসে বোলপুর যাব। আমার জন্য একটা ব্যবস্থা করে রাখিস ভাইটি। জানিসই তো, ওখানে খুব কড়াকড়ি হচ্ছে আজকাল। তোর তো চেনাশোনা হোটেল আছে। ওর খুব ভরসা তোর ওপরে… ঠিক আছে?’ ।
সমুদ্র চিড়বিড়িয়ে উঠল। মনে হল ধাক্কেই ফেলে দেয় ওই ব্যাপারটিকে। কিন্তু সেসব হওয়ার আগেই দেখল কুকুরটি চিৎকার শুরু করেছে। ঘেউ ঘেউ ঘেউ ঘেউ। কি কর্কশ তিতকুটে আওয়াজ। যেন কারো ওপরে তীব্র আক্রোশ। নিজের অজান্তেই একটি শব্দযুগল বেরিয়ে এল সমুদ্রের মুখ দিয়ে,
‘শালা কুত্তা’!
ফোন থামিয়ে ঝড়ের বেগে মেয়েটি বাঁদিকে ঘুরে বলল, ‘কিছু বললেন?’

পোস্টটি শেয়ার করুন



Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of